দেশ ও মানুষের কথা বলে

[vc_row][vc_column]

[/vc_column][/vc_row]

নীলফামারীতে মেয়াদ শেষ হলেও নির্মাণ হয়নি ৬টি গার্ডার ব্রীজ চরম দুর্ভোগে 

ডিসেম্বর,২৭,২০২২

আল-আমিন, নীলফামারীঃ

নীলফামারী সদরে জনগণের যাতায়াতের পথ সুগম করতে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের আওতায় উদ্বোধন করা হয়েছে ৬টি গার্ডার ব্রীজ। উদ্ধোধনের নামে টেন্ডার ছাড়াই পূর্বের ব্রীজ গুলো অপসারণ করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পারাপার হচ্ছে যানবাহনসহ জনসাধারণ। বিঘন্ন ঘটছে কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের কৃষকদের চাষাবাদের। নির্মান কাজের মেয়াদ শেষ হলেও পাইল বসানো হয়েছে মাত্র একটি ব্রীজের।

সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শালমারা রাস্তার চৈতার কুড়ায় গার্ডার ব্রীজ, নীলফামারী-ডোমার মহাসড়ক নীলাহাটি বাজার থেকে কাচারীগামী রাস্তা দেয়ার কুড়ার পাড়ে গার্ডার ব্রীজ, কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের আরাজী রামকলা থেকে পার্শ্ববর্তী পাটকামড়ী যাওয়ার রাস্তায় লালুর বাড়ীর কাছে গার্ডার ব্রীজ, ইটাখোলা ইউনিয়নের কানিয়ালখাতা বাইপাস রাস্তা হইতে মকলেছ মাস্টারের বাড়ি যাওয়ার রাস্তায় বামনডাঙ্গা নদীর উপর গার্ডার ব্রীজ, গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সিকলটারী যাওয়া রাস্তায় বিষ ডারার ডাঙ্গার উপর গাডার ব্রীজ ও সোনারায় ইউনিয়নের সর্দ্দারপাড়া হতে ব্যাঙপাড়া রাস্তায় আফাজ উদ্দিনের বাড়ির নিকট গার্ডার ব্রীজ ।

চৈতার কুড়ায় গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের ৬৯ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৩৬টাকা, দেয়ার কুড়ার পাড়ে গার্ডার ব্রীজ ৭০ লক্ষ ১৩ হাজার ৮২৭ টাকা, লালুর বাড়ি গাডার ব্রীজ ৭১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৪৩টাকা, বিশ ডারা ডাঙ্গায় ৬৯ লক্ষ ৫৩ হাজার ২০০টাকা, আফাজ উদ্দিনের বাড়ি গাডার ব্রীজ ৭৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৭৬টাকা ও বামনডাঙ্গায় গাডার ব্রীজ ৭৩ লক্ষ ৮১ হাজার ৬৬৬টাকা ব্যয়ে নির্মিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ চালু করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। একটি ব্রীজের পাইল বসানো ছাড়া কোন কাজেই করেনি ঠিকাদাররা। কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলো । ব্রীজের কাজ না করে শুধু মাত্র রাস্তায় ফেলে রেখেছে জনগণের ভোগান্তি।

উপজেলা প্রকপ্ল বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্ববধানে ২০২১-২২ অর্থ বছরের অর্থায়নে ৪ কোটি ২৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৪৮ টাকা ব্যয়ে ৬টি ব্রীজ নির্মাণের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী ২৩ তারিখে। একই দিনে অন্যান্য ব্রীজ গুলোর নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর এমপি। উদ্বোধণী দিন থেকে নির্মাণ কাজের সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিলো একই বছরের ২১ আগষ্ট পর্যন্ত।

উদ্বোধনের নামে অপসারণ করা হয় পূর্বের ব্রীজ গুলো। ব্রীজের কাজ থেমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওইসব এলাকার পথচারীরা। চলাচলের পথ না থাকায় বিকল্প পথে যাতায়াত করতে প্রতি মুহুর্তে ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর নতুন ব্রীজের উদ্বোধন হলে দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবে এই আশায় ছিলো এলাকাবাসি। কিন্তু নির্মাণ হতে যাওয়া ব্রীজ গুলোর নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আবারো হতাশায় দিন কাটছে বলে জানান পথচারীরা।

ব্রীজ গুলো নির্মাণ না হওয়ার ফলে সাধারণ জনগণকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। পুরাতন ব্রীজ গুলো না থাকায় কিছু জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেই এপার-ওপার যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ৬টি ব্রীজ নির্মানের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে চার মাসে পা রাখলেও মাত্র একটি ব্রীজে পাইল বসানো হয়েছে বলে জানালেন নির্মান কাজের মিস্ত্রি। সাংবাদিকদের আনাগোনায় সিজারের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ ব্রীজ গুলোর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পথ চলাচলের দূর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্রীজ গুলো নির্মানের দাবী ভূক্তভোগীদের।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগে কাজ বন্ধ ছিল বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন নাহার বলেন, কাজ চলমান রয়েছে। পুরাতন ব্রীজের বিষয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানাব।

জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম  বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাজ হবে।কোন ঠিকাদার যদি সময় মতো কাজ না করে, তার দায় দায়িত্ব ঠিকাদারকে নিতে হবে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, কয়েকটি ব্রীজের কাজ চলতেছে, পুরো  বিষয়টি আমার জানা নেই। কোথায় কোন সমস্যা হলে হলে আমি তক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করব।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.