দেশ ও মানুষের কথা বলে

[vc_row][vc_column]

[/vc_column][/vc_row]

“ফিরে এসো”

অক্টোবর,৩০,২০২২

“সুলেখা আক্তার শান্তা”

আজ রবিনদের কলেজে খেলা। মায়ের কাছে দোয়া চাইলো, মা তুমি আমার জন্য দোয়া করো। আজ আমি প্রথম কোন
খেলায় অংশ নিচ্ছি।
আমি দোয়া করছি, তুমি সফল হও।
মা, প্রথম তো তাই বুকটা একটু ধড়ফড় করছে।
বাবা, কোন জিনিসেই প্রথম আর শেষ কলতে কিছু নেই। মনের ইচ্ছা থাকতে হবে যে— আমি এটা পারব।
হ্যাঁ মা, আমি পারব, চলি তাহলে।
আল্লাহর নামে পথ চলো— দেখবে তুমি ঠিকই বিজয়ী হবে।
রবিন কলেজে এলো। রবিন আর রেমার কথা যেমনই হোক না কেন, রেমা চায় রবিন খেলায় জিতুক। রবিন দৌড়ে প্রথম
হয়। রেমার খুব আনন্দ! এবার রবিন আর রেমার বালিশ খেলা। খেলা শুরু হলো। মোট ত্রিশ জনের মতো অংশ নিল।
একজন একজন করে সবাই খেলা থেকে বাদ পড়ল। স্টেজে রবিন আর রেমা আছে। রেমার মনে ভয়, রবিন যদি জিতে
যায়! রেমার মনের মধ্যে চালাকি শুরু হলো— রবিনকে খেলায় হারাতে হবে। তাই নিজের বালিশ ছুড়ে দিয়ে সাপ বলে
চিৎকার দিলো আর তখনি রবিন বালিশ ধরে রেমার দিকে না ছুড়ে সামনের দিকে তাকাল। সাথে সাথে মিউজিক বন্ধ হয়ে
খেলা শেষ হলো। রেমা বলে উঠল, আমি জিতে গেছি! রবিন দেখল, কোন সাপ নেই। তখন স্যারকে বলল, স্যার আমি
রেমার এ জেতা মানি না। ও হঠাৎ সাপ বলে আমাকে সামনের দিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে।
আমি বললেই তুমি তাকালে কেন? রেমার আত্মপক্ষ সমর্থন।
ঠিক আছে, আমি তোমাদের দুজনকে সমাধান দিচ্ছি। দেখো রবিন, খেলায় কাউকে না কাউকে প্রথম ও দ্বিতীয় হতে হবে।
রেমা যেহেতু প্রথম আর তোমার সাথে চালাকি করেছে, এটা করা তার ঠিক হয়নি। তার চালাকি তুমি ধরতে পারোনি,
এখানে এতগুলো মানুষের মধ্যে কেউ সাপ দেখতে পেল না, আর রেমা দেখতে পেল তা কী করে হয়। তার কথামতো
খেলার সময় অন্যদিকে তাকানো তোমার ঠিক হয়নি। সেটা ছিল তোমার বুদ্ধির অভাব। আর রেমা, খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে
অন্যমনস্ক করে নিজে জেতার মধ্যে সার্থকতা নেই। অন্যকে ঠকালে নিজেকেও ঠকতে হয়।
রেমা মাথা নাড়ল। স্যার রেমাকে এভাবে বলছে দেখে রবিনের খারাপ লাগল। ভাবে, আমি এভাবে স্যারের কাছে না
বললেও পারতাম। রেমার মন খারাপ হয়ে গেল। কেন যে স্যারের কাছে বলতে গেলাম।
রেমার কাছে গিয়ে রবিন বলল, আই অ্যাম স্যরি— এমনটার জন্য আমি অনুতপ্ত। রেমা মুখ ভেংচালো। একটু দূরে গিয়ে
তার মনে হলো— রবিনের তো কোন ভুল ছিল না, তারপরও আমার কাছে এসে অনুতপ্ত হলো।
তুমি কোন ভুল করোনি, ভুল তো করেছি আমি। ‘আই এম ভেরি ভেরি স্যরি’। বলল রেমা।
রবিন বলল, ‘ইটস্ অলরাইট’। তারপর দুজন দুজনের দিকে তাকাল। দুজন দুজনের প্রতি হৃদয়ের অনুভূতি অনুভব করল।
দুজন হেসে দুদিকে যেতে শুরু করল, ফিরেও তাকাল পিছন দিকে। ভাবল, হৃদয়ের মাঝে এ কেমন অনুভূতি? এর নাম
কী? এর নামই কি প্রেম?

রেমা বাসায় এলো। কিছুই তার ভালো লাগছে না, মনের মধ্যে কেমন যেন অস্থির ভাব। রেমা অনাকে ফোন করল।
অনারে, আমার না কোনকিছুই ভালো লাগছে নারে।
কেন, শরীর খারাপ?
নারে, কোনকিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছি না।
তাহলে আমাদের বাসায় চলে আয়।
নারে আসা হবে না, ফোন রাখছি, ভালো লাগছে না কথা বলতে।

ঠিক আছে।
রেমা পরের দিন কলেজে রবিনকে দেখতে পেল একটি গাছের নিচে বসে আছে। রেমার মনে হলো পুরো দুনিয়া সে পেয়ে
গেছে। এখন আর তার মনের মধ্যে অস্থির ভাব নেই। রবিনের সমনে গেল রেমা।
তুমি এখানে বসে আছ?
হ্যাঁ বসে আছি, ক্লাস তো এখনো শুরু হয়নি। তাই বসে আছি এখানে, কেন কিছু বলবে?
কেন? তোমার কাছে আবার কী দরকার থাকবে আমার? বসে আছ বসে থাক। একথা বলে রেমা সামনের দিকে হাঁটতে
থাকে। একটু দূরে যেতেই ভাবে, ইস্ কেন যে আমি ওকে এভাবে বললাম! আবার যাবো ওর সামনে? না থাক। ওর সামনে
তো কিছুই বলতে পারছি না, সব আমার গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। আমার হৃদয়ে যেন ওর জন্য কিছু একটা জমে আছে। এর
নাম কি ভালোবাসা? আমি নিজেও জানি না। নিজের কাছে নিজেই যেন লজ্জায় লাল হয়ে যাই। ওর জন্য কেন আমার
মনের মধ্যে এত ভাবনা? আমি যে ওকে ভালোবাসি, সেকথা আজ ওকে বলবো। বলব— আমি তোমাকে ভালোবাসি।
কত কী ভেবে রেমা আবেগে রবিনের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে—
রবিন, রবিন।
হ্যাঁ, বলো?
আমি না তোমাকে…। না একটা নোট চাই তোমার কাছে।
কী নোট?
না, কোন নোটই চাই না।
বললে নোট চাও, আবার বলছ চাও না, হয়েছে কী তোমার?
আমার কিছুই হয়নি, কোনকিছু বোঝ না তুমি?
তোমার কথার ধরন কিছুই বুঝতে পারছি না।
তোমাকে কিচ্ছু বুঝতে হবে না। যা বলার আমাকেই বলতে হবে। রেমা একথা বলে একটা ফুলের দোকানে চলে গেল।
নিজের পছন্দ অনুযায়ী ফুল নিয়ে এসে চুপিসারে রবিনের ব্যাগের মধ্যে রাখল। ক্লাসে রবিন ব্যাগ থেকে বই বের করতে
গিয়ে ‘ও—উঁ’ করে চিৎকার করে উঠল। চমকে উঠে রেমা তাকাল। দেখল রবিনের হাত থেকে রক্তের ফোঁটা ঝরছে।
গোলাপে যে কাঁটা ছিল সে কাঁটা রবিনের হাতে বিঁধেছে। রেমা ভাবল, ফুল নিতে গিয়ে কাঁটার আঘাত— না জানি কী আছে
কপালে! এমন সময় রবিন বলে উঠল— ফুলগুলো তো দারুন সুন্দর! যে রেখেছে সে না জানি কত সুন্দর!
রেমার মন আনন্দে আনন্দে ভরে উঠল।
রেমা ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে শুধু রবিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। বাসায় ফেরার পথে রবিনকে বলল, আচ্ছা রবিন,
তোমার ব্যাগে কে ফুল রেখেছে? যে রেখেছে সে নিশ্চয় তোমাকে ভালোবাসে।
হয় তো কোন ভূতটুত রেখেছে। আমার ব্যাগে যে অন্য কেউ ফুল রেখেছে তুমি কী করে জানো?
ফুলগুলো যদি তুমি রাখতে তাহলে তো তুমি কাঁটার আঘাত পেতে না। তুমি জানতে যে তোমার ব্যাগে ফুল আছে, তখন
সতর্ক হয়ে বের করতে ।
ও আচ্ছা। রবিন বলল।

বিকেলে রেমা অনাকে বলল, আমার অন্তরের মাঝে একটা কথা জমে আছে, আমি বলতেও পারছি না, স্বস্তিও পাচ্ছি না।
কি এমন কথা যার জন্য তুই স্বস্তি পাচ্ছিস না?
আমি যে একজনের প্রেমে পড়েছি।
তাই? তাতো ভালো লক্ষণ, তুই যাকে ভালোবাসিস সে জানে তুই তাকে ভালোবাসিস?
আরে না, সে যদি বুঝতো তার জন্য আমার বুকের মধ্যে কেমন করছে, এমন যন্ত্রণা আমার কি বয়ে বেড়াতে হতো? কী যে
হবে জানি না।
কে সে?

রবিন।
মনের কথা বলে ফেলা ভালো।
দেখিস না? কেমন যেন নিজেকে সে একা করে রাখে। কিছুই যেন বুঝতে চায় না।
কাল কলেজে যাই। তারপর ওকে ডেকে তোকে কথা বলার সুযোগ করে দিচ্ছি। ছেলেটা তোর মুখ থেকে ভালোবাসার কথা
শুনে পাগল হয়ে যাবে।
ধেৎ, ও পাগল হোক তা আমি চাই না।
তুই যে কী বলিস? এ পাগল কি সে পাগল নাকি? এ তো আনন্দের পাগল, আচ্ছা কাল তো আসুক।

পরের দিন কলেজে গেল দুই বান্ধবী। রেমা বলে, ঐ তো রবিন, চল ওর কাছে।
বলতে পারবি তো?
আরে আমি বলার জন্য প্রস্তুত, চল ওর সামনে যাই। রবিনের মুখোমুখি হতেই রেমা বলে, রবিন আমি তোমাকে কিছু
কলতে চাই?
হ্যাঁ বলো, কী বলবে…।
রেমা পিছনে লুকানো ফুলগুলো রবিনের সামনে এনে বলে, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
রবিন রেমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি এখানে থাকো আমি ক্লাসে যাই’। রেমা দাঁড়িয়ে রইল, কোন কথাই যেন
তার মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না।
এই রেমা, এই রেমা— কথা বল। অনা বলল।
রেমা কিছুই বলল না। তার চোখ ছল ছল করে উঠল। অনা তাকে সান্তনা দিয়ে বলে, আজ বলল না কাল হয় তো বলবে।
দেখবি, এক সময় ঠিকই তোর কথার উত্তর দিবে।
তাই যদি হতো তাহলে ওকি আমাকে ফেলে রেখে যেতে পারত?
তুই হতাশ হোস না, আমি ওর সাথে কথা বলে দেখি। ক্লাসশেষে অনা রবিনকে বলে, আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে
চাই?
হ্যাঁ বলো?
রেমা তোমার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ও তোমার কাছ থেকে ওর কথার উত্তর না পেয়ে শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। মানুষের
ভালোলাগা ভালোবাসা তো মন থেকে আসে, সেখানে তো কারো হাত নেই।
ঐ যে তুমি বললে মন থেকে আসে, তাতো আমারও মন থেকে আসতে হবে। তাই নয় কি?
তুমি ওকে গিয়ে কিছু একটা বলো, ও তো শুধু কেঁদেই যাচ্ছে।
রবিন গিয়ে দেখল সত্যি সত্যি রেমা কাঁদছে। সে রেমাকে বলল, কি তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকবে? তারপর তার চোখের
পানি মুছে দিয়ে বলল, চলো ক্লাসের সময় হয়েছে।
আমি আর কোন ক্লাস করব না আমার কথার উত্তর না পেলে। রবিন হেসে বলল, হ্যাঁ আমি বলব আমার সময়মতো। চলো
এবার। রেমা বলল, অপেক্ষায় থাকলাম।
তার পরের দিন রবিন কলেজে এলো। রেমাকে পেয়ে বলল, কি উত্তর জানতে চাইছিলে না? রেমা তো হতবাক! মাথা নেড়ে
হ্যাঁ সম্মতি দিল।
রবিন মাটিতে হাঁটু রেখে ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে রেমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ভালোবাসি, ভালোবাসি আমি
তোমাকে। নাও না বরণ করে আমায়।
রেমাও বলল, আমিও ভালোবাসি তোমায়, নাও বরণ করে আমাকে।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.