দেশ ও মানুষের কথা বলে

[vc_row][vc_column]

[/vc_column][/vc_row]

বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যা করার পরে তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল – দীপু মনি এমপি

আগস্ট,১৫,২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি

বিনম্র শ্রদ্ধায় শোক ও ভালোবাসায় সারাদেশের ন্যায় মঙ্গলবার ১৫ আগস্ট চাঁদপুরে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।

এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতি সংগঠন এবং জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়।

দিবসের দিন সকাল ৯টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপুমনি এমপি।

জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সাথে নিয়ে দলের পক্ষেও তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন জেলা পরিষদ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শত শত মানুষ।

এ সময় প্রশাসনিক, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নানা কর্মসূচিতে ছিল শোকের আবহ। পরে জেলা প্রশাসন আয়োজনে চাঁদপুর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ হতে জেলা শিল্পকলা একাডেমী চাঁদপুর পর্যন্ত শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে দশটায় শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কীর্তির উপর আলোচনা সভা ও “আমার চোখে বঙ্গবন্ধু ” বিষয়ে জেলা পর্যায়ে এক মিনিট ব্যাপী ভিডিও চিত্র তৈরি করার প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং অন্যান্য পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছিল তখন কোথায় ছিল তাদের মানবাধিকার। চিহ্নিত হত্যাকারীদের সাথে কোন আপস নয়। আজকের শোক দিবসে শোককে শক্তিতে পরিণত করে সেই শোক থেকে জাগরণ হবে। আসুন আমরা সবাই পিতা মুজিবের আদর্শ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। তিনি যে সোনার বাংলা চেয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ করার কাজে আত্মনিয়োগ করি।

জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, নৌ পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওসমান গনি পাটোয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা ভদ্র নাথ চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাস, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন, পুরান বাজার ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, প্রেসক্লাব সভাপতি এ এইচ এম আহসান উল্লাহসহ প্রশাসনিক অন্যান্য কর্মকর্তা,আওয়ামী লীগ সংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ শোক দিবসের নানা এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.