ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১,

মোহাম্মদ পারভেজ:

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যেই সদ্য স্বাধীন দেশকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার প্রধান লক্ষ্য ছিলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশিপাশি কৃষি, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূূর্ণ ও ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ, দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘ একযুগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দূরদর্শী নেতৃত্ব ও কঠোর পরিশ্রম করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বেই আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ দৃশ্যমান।

এক যুগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের হাত ধরেই ঈর্ষণীয় সাফল্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে-পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, জাতির পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কঠোর পরিশ্রম করছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে কৃষি, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শান্তিচুক্তি, সমুদ্র বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন। নিশ্চিত করেছেন বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতা। বৃদ্ধি করা হয়েছে ভাতার টাকার পরিমাণ। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন ভুক্তভোগীরা। দেশ থেকে মুক্ত করেছেন মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, ভূমি-দখলবাজ ও কালোবাজারীদের। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বেই দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু ও ডেল্টা প্ল্যানসহ বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের কাজ। প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট সেবা। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসিকতায় দেশের মাটিতে হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ফাঁসি কার্যকর করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ খুনির। নানা প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়ে এসব সাজা কার্যকর করেছেন সরকারপ্রধান।

সদ্য স্বাধীন দেশকে পুনর্গঠন করতে পূর্ণপরিকল্পনা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার প্রধান টার্গেট ছিলো প্রতিটি বাঙালির শিক্ষা, চিকিৎসাসহ ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার মধ্যদিয়ে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা। তারা হরণ করেন প্রতিটি মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার। অবরুদ্ধ করেন দেশের গণতন্ত্র ব্যবস্থাকে। স্বাধীনতাবিরোধীদের মূল টার্গেট ছিলো বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নেতৃত্বের দায়িত্বগ্রহণ করেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সাথে নিয়ে স্বৈরশাসক এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর টানা তৃতীয় মেয়াদসহ মোট চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতায় এসেই প্রতিটি মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বহির্বিশ্বে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় ২০০৬ সালে অতি দারিদ্যের হার ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণকালে ২০০৯ সালে ছিলো ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে কমে তা ১১ দশমিক ৩ শতাংশে আসে। বর্তমান সালের তথ্যচিত্র অনুযায়ী অতি দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের একযুগের নেতৃত্বে বৈদেশিক বিনিয়োগ ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। যা ২০০৬ সালে ছিলো ৪৫ দশমিক ৬ কোটি ডলার। এখন বৈদেশিক বিনিয়োগ ৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০০৬ সালে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিলো মাত্র দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শুরু থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, সেতুনির্মাণ, বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। বিশেষ করে ক্ষমতায় আসার পরই পদ্মা সেতু নির্মাণকে অগ্রাধিকার মেগা প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। নানা ষড়যন্ত্র ও দেশ-বিদেশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সেই পদ্মা সেতু এখন বাস্তবায়নের পথে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের প্রথম মেট্রোরেল চালু করার নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে কর্মযজ্ঞ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রহণ করা উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনার পথে অনড় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশের সকল দুস্থ ও দুঃখী মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্ষমতার শুরু থেকেই ঈর্ষণীয় পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলেছেন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবর্ষে (মুজিববর্ষ) দেশের গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের গৃহনির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন ও হস্তান্তর করেছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপজেলাপর্যায়ে ১৪ হাজার বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে মুক্তিযোদ্ধাদের। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে এসব বাড়ি হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শতভাগ শিক্ষাসেবা নিশ্চিত করতে ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিনেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হচ্ছে। দুস্থ ও অসহায় শিশুদের দেয়া হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি। যা বিশ্বজুড়েই প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে সবচে বড় চ্যালেঞ্জের বছর ছিলো বিদায়ী ২০২০ সাল। জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে দেশব্যাপী উৎসবমুখর কর্মসূচি নেয়া হলেও বৈশ্বিক মহামারি করোনা সবকিছু থমকে দেয়, বড় ধরনের ধাক্কায় পড়ে সরকার। উৎসবের বছর পরিণত হয় আতঙ্ক আর হতাশায়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ধরে রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দূর করতে শুরু হয়েছে ভ্যাকসিন প্রয়োগ। স্বস্তি ফিরেছে প্রতিটি মানুষের মাঝে। অথচ করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে নানামুখী অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে ছিলেন সরকার বিরোধীরা। তবে কোনো ষড়যন্ত্রের দিকে কান দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে ভ্যাকসিন প্রয়োগেও সফল সরকার। এর আগে করোনাকালীন সময়ে সরকারের পাশাপশি আওয়ামী লীগ ও দলটির সকল সহযোগী সংগঠনের পক্ষে থেকে অসহায়, দরিদ্র, দিনমজুর, শ্রমজীবী ও দুস্থ মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। করোনাকালীন সময়ে সারা দেশে দলীয়ভাবে এক কোটি ২৫ লাখ আট হাজার ৮১ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয় ১০ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। যা দেশের কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেনি। আর সবকিছু সরাসরি দেখভাল করছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে ঈর্ষান্বিত সাফল্য এনে দেয়ায় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা কুড়িয়েছেন বেশকিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার। দেশে প্রতিনিয়ত যে সব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে এবং বাস্তবায়ন হচ্ছে তা সম্পূর্ণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথেই।

www.bbcsangbad24.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here