ফেব্রুয়ারী,২৪,২০২১

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এলডিডিপির আওতাধীন ডেইরী ও পোল্ট্রি খামারি উদ্যোক্তাদের ক্ষতি কাটিয়ে মনোবল বাড়ানো ও তাদের ব্যবসা চালু রাখতে সারাদেশে নির্দিষ্ট সংখ্যক খামারিকে নগদ আর্থিক সহায়তা (প্রণোদনা) প্রদানের ঘোষনা দেন সরকার।

তারই ধারাবাহিকতায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি
উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অস্বচ্ছল প্রায় ২ হাজার ৭শ’ খামারিদের তালিকা তৈরী করে পাঠিয়েছে উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ। তবে প্রণোদনার এই তালিকা তৈরীর শুরু থেকেই বেশকিছু অনিয়ম ও নয় ছয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে এই প্রকল্পের এক নারী কর্মকতার্কে বহিস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও অভিযোগ আছে, যাদের কোন খামার নেই তারাও এই প্রণোদনার টাকা পেয়েছে। অথচ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এমন খামারি আছে, যাদের নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত করা হলেও তারা প্রণোদনা পায়নি। জানাগেছে, উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নে এলডিডিপির প্রকল্পের (এলএসপি)
কর্মকতার্ মোঃ গোলাম রসুল প্রণোদনার তালিকা তৈরী করতে অনেকটাই স্বেচ্চাচারিতা ও অর্থ লেনদেন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রণোদনার টাকা গ্রহণকারী একাধিক খামারির কাছ থেকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার করে টাকা নিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ওই এলএসপি কর্মকতার্র ছোট ভাই আব্দুর রব তূষার প্রণোদনার টাকা পেলেও তার কোন গাভী নেই।

হাটখোলা গ্রামের আব্দুল আলিম বলেন, এই তালিকা তৈরীর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা গোলাম রসুল খামারিদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। পোল্ট্রি খামারির মালিক মোঃ সুফির আলী বলেন, আমি প্রায় ৭ বছর যাবৎ মুরগী পালন করে আসছি। করোনাকালীন সময়ে আমি ক্ষতিগ্রস্থ। আমাকে প্রণোদনার
কথা বলে নাম-ঠিকানা ও ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেছে ।

কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন প্রণোদনা পাইনি। অথচ আমার এলাকার এমন কিছু খামারিদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে যাদের কোন খামার নেই। টাকার বিনিময়ে গোলাম রসুল প্রণোদনার তালিকা তৈরী করেছে তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে এলডিডিপি প্রকল্পের ধরঞ্জী ইউনিয়নের এলএসপি কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রসুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন টাকা নেইনি।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নিয়াস কাসমীর রহমান বলেন, আমি প্রায় এক সপ্তাহ আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

www.bbcsangbad24.com