ফেব্রুয়ারী,২৫,২০২১

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

গ্রাহক হয়রানি ও আবাসিক এলাকায় ভোল্টেজ বৃদ্ধির নামে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন করে অবৈধ সেচ সংযোগ প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি জোনাল অফিসের কর্মকতার্ ও ইলেকট্রিশিয়ান নামের দালালের বিরুদ্ধে। দালালদের ফাঁদে পা দিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ত প্রতরণার শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা। তবুও নজর নেই সংশ্লিষ্ট কতর্ৃপক্ষের। প্রতারিত হয়ে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে দায় এড়িয়ে যায় কর্তর্ৃপক্ষ। এ যেন, বাঘে মহিষে এক ঘাটে জ্বল খায়।

পাঁচবিবি পৌর শহরের সীতা গ্রামের মেহেদী হাসান নামের এক ব্যাক্তিকে অগভীর নলকুপের লাইসেন্স ও সেচ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে পাঁচবিবি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইলেকট্রিশিয়ান মুকুল ও তার এক সহযোগি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা চুক্তি করে ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। অগভীর নলকুপের লাইসেন্স বা সেচ সংযোগ প্রদান প্রসঙ্গে কোন রকম বৈধ অনুমোদন না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে পাঁচবিবি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকতার্দের যোগসাজসে পৌর শহরের সীতা গ্রামের আবাসিক এলাকায় বিদ্যুতের ভোল্টেজ বৃদ্ধির নামে অবৈধ অগভীর নলকুপের সেচ সংযোগ প্রদানের চেষ্টা করে। সীতা গ্রামের আবাসিক এলাকায় বিদ্যুতের ভোল্টেজ কম পাওয়া যাচ্ছে, এমন মিথ্যা কারন দেখিয়ে আবাসিক এলাকায় বিদ্যুতের ভোল্টেজ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পাঁচবিবি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে একটি আবেদন দাখিল করেন সীতা গ্রামের মেহেদী হাসান। আবেদনের মাত্র চার দিনে ১ লক্ষ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে কাগজপত্র প্রস্তুত করে ৪টি বিদ্যুতের পোলও মাটিতে বসানো হয়েছে। এখন সুধু সংযোগ দেওয়ার অপেক্ষায়।

অথচ উপজেলার বাগজানা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে হানিফ প্রায় ৬ মাসে আগে ৬ হাজার ৪শ’ টাকা জমা দেয় একটি পোলের জন্য, ধাওয়াইপুর গ্রামের শরীফ উদ্দীনের ছেলে কামরুল হোসেনও একই পরিমাণের টাকা দিয়েছে রাইস মিলের পোলের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের অফিসের বারান্দায় ঘুরেও পোল পাচ্ছেনা। তাহলে আবেদনের চার দিনের মধ্যে অবৈধ সংযোগ দেওয়ার জন্য চারটি পোল বসানো হল কি ভাবে? এমন প্রশ্ন করলে পাঁচবিবি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল বারী জানান, সীতা গ্রামের আবাসিক এলাকায় ভোল্টেজ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আবেদন আসলে আমি সেটাকে এজিএম কম আলমগীর হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
এবিষয়ে এজিএম কম আলমগীর হোসেনের কাছে আবেদনের চার দিনের মধ্যে কোন রকম তদন্ত না করে কি করে কাগজপত্র প্রস্তুত করেছেন তা জানতে চাইলে সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। দায় এড়িয়ে গেলেন সদ্য বদলি হওয়া জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ফয়সাল কবিরের ঘাড়ে দোষ দিয়ে।

অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে জয়পুরহাট সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোঃ এনামুল হক ও জেলা পল্লী বিদুৎ সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন ঘটনাস্থলে পৌছ সংযোগের কাজ স্থগিত করে দেয়। সেই সাথে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় সীতা আবাসিক এলাকায় যে পরিমাণের ভোল্টেজ থাকার কথা তার থেকে অধিক ভোল্টেজ সেখানে আছে।

এদিকে সীতা গ্রামের একাধিক ব্যাক্তি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন গ্রামবাসী। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, মেহেদী হাসানকে অগভীর নলকুপের সেচ সংযোগ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান মুকুল ও তার এক সহযোগি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক রেজাউল করিম ও ডিজিএম আব্দুল বারী ২ লক্ষা টাকা চুক্তিবদ্ধর অগ্রীম ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ পূর্বক আবেদনের চার দিনের মধ্যে চারটি পোল বসানোর কাজ শেষ করে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জয়পুরহাট সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোঃ এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এঘটনায় দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

www.bbcsangbad24.com