মার্চ ০৬, ২০২১,

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় অবস্থিত ড. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্সেস হোটেলের নিচতলায় সুইচ বোর্ডে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

শুক্রবার (৫ মার্চ) রাত ৯টা ৫২ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে খিলগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। রাত ১০টা ১৩ মিনিটে তারা ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকায় আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এরপরই আশপাশের ভবনে হৈ-হুল্লোড় শোনা যায়। কিছুক্ষণ পরে বুঝা যায়, হাসপাতালের ভেতর আগুন লেগেছে। তবে আগুনের ঘণ্টাখানের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে ফায়ার সার্ভিস।

ওইদিন রাত একটার দিকে গণমাধ্যমকে হাসপাতালের সিকিউরিটি ইনচার্জ মোনায়েম বলেন, আগুনের ঘটনায় হুড়াহুড়িতে ১৩ জন আহত হয়েছেন। তারা সবাই একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে সিকিউরিটি তারা কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; তা জানাতে পারেননি।

এদিকে ড. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় আগুন লাগার খবরে ১৬তলা ভবনটিতে থাকা রোগী, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই তাড়াহুড়ো শুরু করেন। এরই মধ্যে সুইটি (২২) নামে এক নার্স উপর থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। কিন্তু ঠিক কত তলা থেকে তিনি লাফ দিয়েছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ বলছেন, ৪ তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন সুইটি। তাকেও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রিবেন বলেন, পৌনে ১০টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে ২ ইউনিট, পরে আরো একটি ইউনিট পাঠানো হয়। মোট ৩টি ইউনিটের প্রায় পৌঁনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এই প্রসঙ্গে খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে জানান, ড. সিরাজুল হাসপাতালে নার্সেস হোস্টেলের তিন নম্বরের ছয় তলা ভবনের নীচ তলার সুইচ বোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রচন্ড ধোঁয়া বের হতে থাকে। পুরা ছয়তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে আছে। যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ধোঁয়া বের করে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে কোনো হতাহতের খবর এখন অবধি পাওয়া যায়নি।

www.bbcsangbad24.com