মার্চ ০৮, ২০২১,

নিজস্ব প্রতিবেদক

এমপি-মন্ত্রী কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের যতই আশীর্বাদপুষ্ট হোক না কেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিতর্কিত ও নানামুখী অপকর্মের সাথে যুক্তদের নৌকার মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার কন্যা প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর পরিশ্রম করছেন। প্রতিটি মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করছেন। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে প্রভাবশালী নেতা ও দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের নাম ভাঙিয়ে কিছু নেতা ও জনপ্রতিনিধি নানামুখী অপকর্মের সাথে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনার উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এটা করতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সবসময় কঠোর অবস্থানে আছে।’ দৈনিক আমার সংবাদের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউপি নির্বাচনে বিএনপির না আসা রাজনৈতিক নয়া কৌশল উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আসছে না। এটা ভুল কথা। তারা (বিএনপি) দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। রাজনীতির মাঠে এটাই তাদের নয়া কৌশল। বিএনপি ঠিকই নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এই নেতা আরও বলেন, ‘আসলে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে গোটা জনগোষ্ঠীর কত শতাংশ মানুষের কোন রাজনৈতিক দলের ওপরে আস্থা-বিশ্বাস এবং অনুগত থাকে এটা একটা পরিষ্কার প্রমাণ হয়ে যায়। আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল রাজনৈতিক দল, আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ, কর্মসূচি, বা কর্মকাণ্ড মানুষ কতটা পছন্দ করে এ বিষয়টি প্রমাণ করার জন্যই কিন্তু আমরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করি। দলীয় রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে নির্বাচন করার বিষয় হচ্ছে তাদের দুর্বলতা আছে। তারা মনে করে, তারা (বিএনপি) দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাদের ভরাডুবি হবে। চনমান পৌরসভা নির্বাচনের মতো আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি না হয়, এ জন্য বিএনপি কৌশল নিয়েছে।’

দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলের স্থান হবে না জানিয়ে আব্দুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সামনে এলেই দেখা যায়, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন। নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেন। তাদের হাতে নৌকার মনোনীত প্রার্থী ও সমর্থকরা নির্যাতনের শিকার হন। আর এই সকল বিদ্রোহীদের সরাসরি মদত দেন স্থানীয় সাংসদ ও কিছু প্রভাবশালী নেতা। ব্যক্তিস্বার্থ ও  বলয়ভিত্তিক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তারা বিদ্রোহীদের ইন্ধন দেন। এই সকল বিদ্রোহী ও তাদের মদতদাতাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এটাই আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে বড় প্রাপ্তি হলো দলের স্বীকৃতি। একজন রাজনৈতিক কর্মী তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালে কিন্তু তাকে আর কোনো স্তরে মনোনয়ন দেবে না, দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ পাবে না। এটা তার জন্য বড় একটা শাস্তি। সুতরাং এই শাস্তিকে মেনে নিয়েই যারা বিদ্রোহী হবে, তাদের ব্যাপারে তো আর কোনো বক্তব্য নেই। হাত-পায়ে দড়ি-শিকল দিয়ে তো আমরা ঠেকাতে পারবো না। আমরা যে ব্যবস্থাটা নিতে পারি সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

www.bbcsangbad24.com