মার্চ,০৯,২০২১

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

– বয়সের ভাড়ে নুয়ে পরেছেন মিরজান নেছা (৯৭)। সোজা হয়ে দাড়াতে পারেন না তিনি। চলেন লাঠিতে ভড় দিয়ে। ছেলে ও ছেলের বৌদের মারধরের শিকার হয়ে বিচার প্রার্থী ওই বৃদ্ধা মুন্সিগঞ্জের আদালতে এসেছে।

তার দায়ের করা মামলার রায়ের দিন ছিল ৮মার্চ সোমবর। দুই গ্রুপের আইনজীবীদের আইনি লড়াইয়ে কথা কাটাকাটির সময় বাদীর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে শতবর্ষি মিরজান নেছা বলেন, আমার বাড়িতে লন দেইখেন ছেলেরা আমাকে কেমন করে মারে। পরে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এমদাদুল হক তার রায়ে মাকে মারধর করায় ২ ছেলেকে একমাস করে কারাদন্ড ও এক হাজার করে টাকা জড়িমানা করেন। এ সময় ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের শর্তে ২ ছেলেকে জামিন দেয় আদালত। কিন্তু এতে বৃদ্ধা আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। ওই দুই ছেলের এখনি জেল চান তিনি।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কেয়টখালী গ্রামে স্বামী সমন শেখকে (১০৫) নিয়ে বসবাস করেন বৃদ্ধ মিরজান নেছা। দাম্পত্য জীবনে ৩ ছেলে ৭ মেয়ে তাদের। কিন্তু এই বৃদ্ধা দম্পত্তির খোজঁ নেননা কেউ। বিপুল সহায় সম্পত্তি বৃদ্ধ বয়সে কাল হয়ে দাড়িয়েছে তাদের। চিকিৎসা করার কথা বলে ২ ছেলে জালাল (৪২) এবং জামাল (৫২) ১৩৪ শতাংশ জমি ওসিয়ত নামা দলিল করে দিতে বলে পিতা মাতাকে। এতে রাজি হয় বৃদ্ধা দম্পত্তি।

কিন্তু ওই দুই ছেলে ওসিয়ত করার কথা বলে ওই দুই বৃদ্ধাকে সাব-রেজেস্ট্রি অফিসে নিয়ে ভূল বুঝিয়ে মোট ৪২০ শতাংশ সম্পত্তি ( যাহার বর্তমান মূল্য প্রায় ৫ কোটি) টাকা হেবাবিল এওয়াজ নামা (দান) দলিল লিখিয়ে নিয়ে যান কৌশলে বলে জানান,ওই বৃদ্ধ দম্পতির অপর ছেলে কামাল হোসেন।

ওই দুই বৃদ্ধা যখন জানতে পারেন তাদের ভূল বুঝিয়ে ২ ছেলে সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন তখন সম্পত্তি ফিরে চাওয়ায় বাক-বন্ডিতার জের ধরে গত ২৭ মে ২০১৯ ইং তারিখে থাকে মারধর করে তার ২ ছেলে জালাল (৪২) এবং জামাল (৫২) এবং ২ পুত্রবধূ। এই ঘটনায় মিরজান বেগম বাদী হয়ে গত ২৪ জুন ২০১৯ ইং তারিখে মুন্সিগঞ্জ আমলি আদালত-৩ এ সিআর মামলা নং ১৮৩/১৯ দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন ছেলে ও ছেলের বৌরা মিলে তাকে মারধর ও তার বসত ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে।

বৃদ্ধা মিরজান নেছা আমার সংবাদকে জানান, তার সম্পত্তি ২ ছেলে ভূল বুঝিয়ে লিখে নিয়ে গেছেন। সম্পত্তি ফিরত চাওয়ায় তাকে ২ ছেলে ছেলের বৌরা মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তার ঘর দুয়ার ভেঙ্গে জিনিষপত্র নিয়ে গেছে। তারপর তারা মেয়ের জামাই বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে সে আদালতে এসে মামলা করছে। সে আরো জানায়, তার মেয়ের নাতিরা তাকে আশ্রয় দেওয়ায় তার ওই দুই ছেলে তার নাতিদের বিরুদ্ধে আদালতে ৪টি মিথ্যা মামলা দায়ের করছে।

এ সময় আদালতের বারেন্দায় কান্নায় ভেঙ্গে পরে বৃদ্ধা আরো বলেন, আল্লাহ তুমি আমাকে পবিত্রভাবে এখনি দুনিয়া থেকে নিয়ে যাও।

www.bbcsangbad24.com