মার্চ ১১, ২০২১,

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • ১০ দিনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ও বিশ্ব অতিথিদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন আজ
  • বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা হবে অনুষ্ঠানমালায়

স্বাধীনতার গৌরাবান্বিত সুবর্ণজয়ন্তীর মাসে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৩০ লাখ শহীদ আর তিন লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ ৫০ বছরে। শত বছরের কাঙ্ক্ষিত এ স্বাধীনতা এসেছিল যার নেতৃত্বে সে মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীও চলমান। করোনার প্রকোপ এড়াতে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পালিত হবে কর্মসূচি।

আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী জাতীয়ভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিশ্বনেতারা। ভিডিও বার্তায়ও যোগ দেবেন অনেকে। বর্ণিল সাজে সাজানো হবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, সড়ক। সরকারি দপ্তরের ভবনগুলোও সাজানো হবে। তুলে ধরা হবে সরকারের উন্নয়ন চিত্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বর্তমানের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা হবে অনুষ্ঠানমালায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার পর ভগ্ন অর্থনীতির কারণে যেসব দেশের অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল, সেসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সুবর্ণজয়ন্তীতে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য শুভেচ্ছা জানাবেন। যা জাতি হিসেবে অত্যন্ত গর্বের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের এ মহানায়কের শতবর্ষ ঘিরে গোটাদেশ মহাউৎসবে রূপ দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়। গত বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের কর্মসূচি শুরু হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে মুজিববর্ষের বছরব্যাপী নেয়া কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এবং মানুষের যেনো কষ্ট না হয় সে জন্য জনসমাগম সম্পৃক্ত অনুষ্ঠান পরিহার করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানমালায় ভিন্নতা এনে জোর দেয়া হয়েছে নাগরিকসেবা নিশ্চিতের। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ-অর্জন তুলে ধরতে নেয়া হবে বিশেষ প্রচারণামূলক ব্যবস্থা। তৃণমূল পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নাগরিকসেবা নিশ্চিতে সরকারি কাজের তৎপরতা বাড়ানো হবে। দলীয়ভাবেও বছরজুড়ে মানবিক কর্মসূচি পালন করা হয়। পরবর্তীতে মুজিববর্ষের কর্মসূচি বর্ধিত করে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর শত বছর পূর্ণ হবে। দুই মাহেন্দ্রক্ষণকে একত্রিত করে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত করবে সরকার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগমুহূর্তে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্তি উদযাপন আনন্দ বাড়িয়েছে বহুগুণ। বিভাগ, জেলা-উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নপর্যায়েও বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০ দিনের অনুষ্ঠানের চারদিন অতিথি ও দর্শনার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। বাকি ছয়দিন ধারণ করে সম্প্রচার করা হবে। ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠানে আসা রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত থাকবেন অনুষ্ঠানে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপ ও নেপালের রাষ্ট্রপতিসহ বিশ্বনেতারা যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। সব অনুষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। পুরো অনুষ্ঠান করা হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, বড় আকারে তবে জনসমাগম করা হবে না। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অতিথিদের সঙ্গে করোনা ভাইরাস টেস্ট করাতে হবে, এটা বাধ্যতামূলক। এটার মেয়াদ থাকবে ৪৮ ঘণ্টা। নেগেটিভ রিপোর্টটি তারা সঙ্গে নিয়ে আসবেন, যাতে সেখানে অন্য কোনো পরিস্থিতি না হয়। চূড়ান্ত কর্মসূচি ও অতিথিদের ব্যাপারে আজ বিস্তারিত তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুন্দর অনুষ্ঠান করতে চাই, যাতে আমরাও দেখাতে চাই, এই রকম একটা অনুষ্ঠান করার সক্ষমতা এই রকম পরিস্থিতিতে আমাদের আছে। তিনি বলেন, ১০ দিনের পুরো প্রোগ্রামটি সারা পৃথিবীতেই সম্প্রচার করা হবে, সেভাবে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা বড় ধরনের প্রোগ্রাম এবং সবাই যাতে দেখতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানরা আসবেন, সেই দিনগুলোতে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছি, তখন সীমিত আকারে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরে ৫০০-এর মতো অতিথিকে দাওয়াত দেয়া হবে। ভাগ করে করে এই দাওয়াত দেয়া হবে, এতে যতটুকু কভার করা যায়। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। যার কারণে বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায় মিশে আছেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

www.bbcsangbad24.com