মার্চ ১২, ২০২১,

বিনোদন প্রতিবেদক

মডেল ও অভিনেত্রী রোমানা ইসলাম স্বর্ণাকে বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওইসময় তাকে গ্রেপ্তারের নেপথ্যে জানা যায়, এক সৌদি প্রবাসীর কাছ থেকে তিনি কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

তবে তাকে গ্রেপ্তারের পর এবার বেরিয়ে এসেছে দারুণ সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিনেত্রী রোমানা অভিনেত্রী ও মডেল পরিচয়ে ফেসবুকে প্রেম করতেন শুধু প্রবাসীদের সঙ্গে। কখনো ডিভোর্সি আবার কখনো সংসারের আর্থিক সংকটসহ নানা কারণ দেখিয়ে নিতেন নানা টাকা। পরে সময় বুঝে করতেন বিয়েও। কৌশলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে লিখে নিতেন জায়গা-জমিও। গ্রেপ্তারের পর এবার তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

তার সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়া এমন কিছু ভুক্তভোগীর দাবি, রোমানা এ পর্যন্ত মোট ২৮ জনের সঙ্গে এভাবে বিভিন্ন প্রতারণা করে বিয়ে করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। পুলিশ বলছে, তার পরিবারের প্রতিটি সদস্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

এদিকে শুক্রবার (১২ মার্চ) সাড়ে তিনটার দিকে রোমানাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আক্তারের আদালতে তোলা হলে তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে রোমানা ইসলাম স্বর্ণাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সাবেক স্বামীর কাছ থেকে এক কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে অভিনেত্রী রোমানা ইসলাম স্বর্ণাকে লালমাটিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ জানান, সৌদি প্রবাসী সাবেক স্বামীর মামলায় রোমানা ইসলাম স্বর্ণাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ মার্চ) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, আশরাফি ইসলাম শেইলী (৬০), নাহিদ হাসান রেমি (৩৬), আন্নাফি (২০), ফারহা আহম্মেদ (৩০) ও অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক (৩৭)।

এদিকে রোমানার কাছ থেকে প্রতারিত হওয়া স্বামী প্রবাসী কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান, রোমানা তার সঙ্গে প্রথমে ভাল সম্পর্কে করে। তারপর লালমাটিয়ায় ফ্ল্যাট কেনার নাম করে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আমি দেশে আসার পর আমাকে বাসায় ডাকে। আমি যাই। গেলে তারা আমাকে কিছু একটা খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর আমার খারাপ ছবি তুলে নেয় ও আমার থেকে স্ট্যাম্পে সাইন নিয়ে নেয়। এভাবেই সে আমাকে জোর করে বিয়ে করে। তার মোবাইল, ঘড়ি, গাড়ি আর সবই আমার কিনে দেয়া। আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে বললেও তা মিথ্যা। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

পুলিশ জানায়, এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িত। তারা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে একই প্রক্রিয়ার প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের অভিনয় করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির ডিসি হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমে জানান, রোমানা, তার মা, তার ভাই ও ভাইয়ের বউ ও রোমানার ছেলে তারা সবাই এই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তিনি বিদেশ থেকে আসার পর তাকে বাসায় নিয়ে উলঙ্গ করে তার ছবি তুলে তারা। এরপর টাকা দাবি করে বসে। টাকা না দিলে সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

উল্লেখ্য, রোমানা ইসলাম স্বর্ণা নিজেকে কখনো মডেল, কখনো অভিনেত্রী পরিচয়‌ দিতেন। খুলতেন আলাদা আলাদা ফেসবুক আইডি‌। এরপর প্রবাসীদের টার্গেট করে ফ্রেন্ড বানিয়ে গড়ে তুলতেন প্রেমের সম্পর্ক। তারপর কখনো স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ আবার কখনো স্বামীহীন সংসারে আর্থিক অনটনের কথা বলে প্রবাসী ওইসব প্রেমিকদের কাছ থেকে নিতেন টাকা। ঠিক একইভাবে কখনো ফ্ল্যাট কেনা আবার কখনো গাড়ি কেনার নাম করে রোমানা সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েলের কাছ থেকে এক বছরে বিভিন্ন সময়ে নেন আড়াই কোটি টাকা। এরপর এক সময় ক্লান্ত হয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন এই মডেল-অভিনেত্রী।

www.bbcsangbad24.com