মার্চ,১৩,২০২১

ফারহানা আক্তার,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ 

সংসারে অভাব ঘোচাতে ঢাকায় কাজ করতে গিয়ে কোমর ভেঙ্গে ১০ বছর ধরে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটপট করছে সুমন নামে এক দরিদ্র যুবক। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌর শহরের বটতলী হাটখোলার পতিত জমিতে বছরের পর বছর অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে বিছানাবন্দি হয়ে পড়ে থাকলেও এখনো তার কপালে জোটেনি সরকারী কোন ভাতা। সুমন বটতলী হাটখোলার বাসিন্দা মজর উদ্দীন ও ফরিদা বেগমের ছেলে।
জানা গেছে, মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে ট্রাকের হেলপার হিসেবে ২০১১ সালে কাজ করতে যায় ঢাকার কাচপুরে। আর সেখানেই মালামাল লোড দেওয়ার সময় ৭-৮টি সিমেন্টের বস্তা তার উপর পড়লে কোমর ভেঙ্গে যায়।
পরবর্তীতে মিল চাতালে কাজ করা স্বামী পরিত্যাক্তা মা ফরিদা বিবি কিছুদিন সন্তানের চিকিৎসা করলেও অর্থাভাবে বেশী দূর এগুতে পারেন নি। আর সেই থেকেই দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিছানাবন্দি হয়ে পড়ে আছে অভাগা সুমন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একটি ছোট ঝুপড়ী ঘরে কাঠের চৌকিতে এক পাশ হয়ে হাতে তশপি ধরে শুয়ে আছে সুমন। কোমরের পাশে একটি স্পিডি ফ্যান ঘুরছে। দু পায়ে পচন ধরেছে।
সুমন জানায়, একদিন অভাব দূর করতে ট্রাকের হেলপার হিসেবে ঢাকায় গিয়েছিলাম। নিয়তির নির্মম পরিহাসে অভাব দূরতো করতেই পারলাম না, উপরন্তু মায়ের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ালাম।
সুমনের মা ফরিদা বিবি জানালেন, সন্তানের একটি প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য স্থানীয় ম্যাম্বার চেয়ারম্যান ও নেতাকর্মীর কাছে হাত পেতেছি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ছাড়া কেউ কিছুই দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল সমাজ সেবা অফিসার মো: মিজানুর রহমান জানান, ‘বিছানাবন্দি যুবক সুমনের বিষয়ে আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমার অফিসে আসলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সমাজকর্মী তার জরিপ ফরম পূরন করবে এবং আমার ফরওয়ার্ডিং এ ডাক্তার এর কাছে প্রেরণ করার পর ডাক্তার যদি তাকে প্রতিবন্ধী হিসাবে আইডেন্টিফাই করে তবে তাকে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান করব। তারপরে ইউনিয়ন কমিটি তার নামের তালিকা আমার কাছে প্রেরণ করলে আমি তাকে ভাতা প্রদান করতে পারব।

www.bbcsangbad24.com