মার্চ ১৮, ২০২১,

এম এ আহাদ শাহীন

  • পরিণত হয়েছে একখণ্ড লাল-সবুজ পতাকায়
  • সন্ধ্যার পর ঝলমলিয়ে ওঠে পুরো রাজধানী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হয়। এ উপলক্ষে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা। নতুন আঙিকে সেজেছে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও স্থাপনা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ব্যানার-পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়েছে, যা নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে বঙ্গবন্ধু এবং তার মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ছবি, আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকার আদলে ছবি দিয়ে বানানো হয়েছে স্থাপনা। গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোর আলোকসজ্জা রাঙিয়ে তুলেছে পুরো রাজধানীকে। বিজয় সরণির দুই পাশ সাজানো হয়েছে ব্যানার আর ফেস্টুনে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ছবি নিয়ে তৈরি স্থাপনা বসেছে নভোথিয়েটারের সামনে। সড়ক বিভাজক সাজানো হয়েছে ফুলের সাজে, সেখানে আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের চারপাশে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের সামনেও শোভা পাচ্ছে এরকম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। বঙ্গভবনের চারপাশে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। আলোকসজ্জায় রঙিন ঢাকা যেনো পরিণত হয়েছে একখণ্ড লাল-সবুজ পতাকায়। সন্ধ্যার পর সেই আলোতে ঝলমলিয়ে ওঠে পুরো রাজধানী। প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন ভবনে লাল ও সবুজের পাশাপাশি নীল, হলুদ, সাদা, সোনালি আলো ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় আলোকসজ্জার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, সংসদ ভবন এলাকা, শেরেবাংলা নগর, শাহবাগ, বাংলা মোটর,  মতিঝিল, পল্টন, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সড়ক বিভাজক ও ল্যাম্পপোস্টে লাগানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলেও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সচিবালয়ের চারপাশ, জিপিও, জিরো পয়েন্ট এলাকায় আলোকসজ্জার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে ফেস্টুন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিজয় সরণি মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে আলোকসজ্জার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও নৌকার আদলে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়সহ আশপাশের ভবন ও রাস্তাতেও আলোক সজ্জা করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দিনে অর্থাৎ ২৬ মার্চ জাতীয় পর্যায়ে ১০ দিনের অনুষ্ঠানমালা শেষ হবে। জাতীয় প্যারেন্ড গ্রাউন্ডে ১০ দিনের এই অনুষ্ঠানমালার পাঁচদিনের আয়োজনে যোগ দেবেন প্রতিবেশী পাঁচ দেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধান। অতিথিদের আগমন এবং আয়োজিত অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা।

ভিভিআইপি অতিথিদের চলাচল, অনুষ্ঠানস্থল ও থাকার জায়গা ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে। উৎসবের মধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পাঁচ রাষ্ট্রনায়ক নানা ইস্যু নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এতে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে। এ সময় ১৮টি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এর বাইরে ভিডিও বার্তায় যুক্ত হবে আরও অনেক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সলিহ, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ঢাকা আসবেন। ভিডিওবার্তায় উপস্থিত থাকবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং স্যু কুয়েন, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন, ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ডক্টর ইউসেফ আহমেদ আল ওথাইমিন, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকাভা, পোপ ফ্রান্সিস ও মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধু তাকাশি হাওয়াকাওয়ার ছেলে ওসামু হাওয়াকাওয়া। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে তারাও একাত্ম হবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, সব বিদেশি নেতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনে যাবেন। বিশেষ সামরিক কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করবেন, রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন এবং বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ প্রথম শীর্ষ বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকায় পৌঁছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ফার্স্টলেডি ম্যাডাম ফাজনা আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-বিষয়ক মন্ত্রীসহ মোট ২৭ জন অতিথি এসেছেন। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। তিনি তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। এরপর ১৯ মার্চ দুই দিনের সফরে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে বাংলাদেশে আসবেন। নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী দুদিনের সফরে ২২ মার্চ ঢাকা পৌঁছবেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ২৪ ও ২৫ মার্চ ঢাকা সফর করবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া ছাড়াও তিনি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর গ্রাম ও সমাধি পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তিনি গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় দুটি হিন্দু মন্দির পরিদর্শন করবেন। মন্দিরগুলো বিশেষত হিন্দু মাতুয়া সম্প্রদায়ের প্রার্থনার স্থান। এর পরের দিন দেশে ফিরবেন। এদিকে তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেই আয়োজনে পাঁচ দিন পাঁচশ জন করে অতিথি উপস্থিত থাকার সুযোগ পাবেন, বাকি দিনগুলোর অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ থাকবে সরাসরি সম্প্রচারে। অনুষ্ঠানমালায় প্রতিদিন আলাদা থিমভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অডিও-ভিজ্যুয়াল এবং অন্যান্য বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। প্যারেড গ্রাউন্ডে কেন্দ্রীয় আয়োজনের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও লেজার শো হবে। ১৭, ১৯, ২২, ২৪ এবং ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। অন্যান্য দিন বিকেল সোয়া ৫টায় শুরু হয়ে রাত ৮টায় শেষ হবে। প্রতিদিনের অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিরতি থাকবে।

www.bbcsangbad24.com