মার্চ,২৮,২০২১

 মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ পুলিশ ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে। এতে সিরাজদিখান থানার ওসিসহ ২ পুলিশ এবং উভয়পক্ষের শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুর একটার দিকে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের শুলপুর-নিমতলা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় হেফাজত নেতা মধুপুর পিরসাহেব আব্দুল হামিদ,মাওলা বসির আহম্মেদ,সিরাজদিখান থানার ওসি এস এম জালাল উদ্দিন, থানার উপপরিদর্শক সেকান্দর আলীসহ শতাধিক আহত হয়। আহতরা সিরাজদিখান ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

পুলিশ জানায় , সকালে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়ামোড়া ও নিমতলি এলাকায় অবস্থান করে অবরোধের চেষ্টা করছিল হেফাজতের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হেফাজত নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। এরপর নিকটস্থ বড় বড়শিকারপুর ও শুলপুর এলাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ইটপাটকেল ছুড়ে আহত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং ফাকা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষচলাকালীন সময়ে বেশকয়েকটি দোকানপাট ভাংচুর, তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. নাসির হোসেন জানান,
হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে সকাল থেকেই মধুপুর পীর সাহেবের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানে ছিল হেফাজতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। সকালে হেফাজতের একাংশের কিছু নেতাকর্মী ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়ের নিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে নিমতলা এলাকার নেতাকর্মীরা মধুপুর পীরসাহেব যেখানে অবস্থান করছেন সেদিকে যাচ্ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের কাছাকাছি পুলিশ অবস্থান করছিল। পুলিশের সাথে লাঠিসোটাসহ ছাত্রলীগ যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ছিল। হেফাজতের নেতাকর্মীরা যখন ইউনিয়ন পরিষদের দিকে অগ্রসর হয় ঠিক তখনই ছাত্রলীগ,যুবলীগের নেতাকর্মীরা হেফাজতকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এ সময় হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সেই সাথে লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে রাবার বুলেট এবং ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে করে পুলিশ,ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং হেফাজতের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে অনেকই রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়েছেন। আহতরা গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে সিরাজদিখান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ রয়েল জানান, হেফাজতের নেতাকর্মিরা রাস্তা অবরোধ করে রাখলে পুলিশ তাদের রাস্তা হতে সড়ে যেতে অনুরোধ করে। এ সময় তারা মোনাজাত নিয়ে চলে যাবে বললেও হেফাজতের আরেকটি গ্রুপ এসে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মিদের উপর হামলা চালায়। এতে ২ পুলিশসহ আমাদের ৬০/৭০ জন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মি আহত হয়েছে। এছাড়া আমাদের আওয়ামী লীগের রাজানগন ইউনিয়ন সভাপতি আলমগীর কবির এর বাড়ি ভাংচুর এবং যুবলীগের আকবায়ক সদস্য আসাদুজ্জামান বিপ্লবের বাড়িত অাগুন দিয়েছে হেফাজত।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ( অপারেশন)
মো.আজহার উদ্দিন জানান, শুনেছি হেফাজতের লোকজন মহাসড়কে ব্যারিকেড দিতে যাচ্ছিলো। এ কাজে তাঁদের বাঁধা দেওয়ায় সংর্ঘষবাধে। এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানার ওসিসহ অনেকই আহত হয়েছেন।তবে তাৎক্ষনিক নিশ্চিত করে সংখ্যা বলা হচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জানান, সিরাজদিখান থানার ওসির মাথা ফেটে গেছে। আরো কয়েকজন আহত হয়েছে পুলিশ সদস্য। বিস্তারিত জেনে বলা যাবে বলে জানান তিনি।

www.bbcsangbad24.com