এপ্রিল ০২,২০২১

মোঃ নাহিদ সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আজ হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের তান্ডব দেখতে এসে এগুলো বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হেফাজত ইসলামের হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে  তিনি বলেছেন  আপনারা এইসব ধ্বংযজ্ঞ বন্ধ করুন, নইলে দেশের সকল মানুষ প্রতিহত করবে।

জেলায় মোট ৫৭৪ টি কওমি মাদ্রাসা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে এক লাখ তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থী আছে। এই জেলায় ৩২ লাখ মানুষের বসবাস। দ্বীনের খেদমতের উদ্দেশ্যে এই জেলার লোকজন যারা পরকালের চিন্তা করেন তারাই মাদ্রাসাগুলো প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু দ্বীনের খেদমত করতে গিয়ে তারা বারবার মার খাচ্ছেন। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন, ভূমি অফিস ধ্বংস করেছে, সিভিল সার্জন অফিস ও জেলা পুলিশের অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে।

তাদের এসকল কমর্কান্ড গুলোদেখে মনে হয় তাহাদের দেশের  উন্নয়ন যেন ব্যাহত হয়, অসহায় মানুষ যেন সেবা না পায়। ভূমি অফিসে দুইশ-আড়াইশ বছরের রেকর্ড পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে কাদের ক্ষতি হলো প্রশ্ন রাখেন তিনি। বলেন, গ্রামের নিরীহ মানুষের ক্ষতি হবে। গত দুই দিনে যে ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভূমি অফিসে যে ক্ষতি হয়েছে ৫০ বছরেও সেই রেকর্ড ব্যবস্থা ঠিক হবে কি না জানি না।

গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক অন্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। হেফাজতে ইসলামের নামে মাদ্রাসার লোকেরা নাশকতার উদ্দেশ্যে কোমলমতি ছেলেদের ব্যবহার করছেন। অনেকে দরিদ্র পরিবার থেকে এসে এতিম থাকেন তাদেরকেও ব্যবহার করা হচ্ছে যা অত্যন্ত অমানবিক।

তিনি দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে আসেন। সেখান থেকে তিনি হেফাজতের আগুনে পুড়ে যাওয়া সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, পৌর মিলনায়তন, বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব ও আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

এ সময় আইজিপির সঙ্গে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের ‌মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াদ-উৎ-দৌলা খান ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

www.bbcsangbad24.com