এপ্রিল ০৬, ২০২১,

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

আব্দুল খতিব। বয়স প্রায় ৫৭ বছর। পেশায় দিন মজুর। বাড়ি ভোমরাদহ গ্রামে। এক ছেলে প্রতিবন্ধী সহ তার পরিবারে  সদস্য সংখ্যা ৮ জন। দিন মজুরী করে কোন মতে অনাহারে অর্ধাহারে দিন চলে তাদের। দেশে করোনা কালিন সময়ে কাজ কর্ম কমে যাওয়ায় পড়েন মহা বিপাকে।

প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতা সহ সরকারি সহায়তার জন্য ধরনা দেন জন প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন দপ্তরে। কিছু ভিজিএফ এর চাল পাওয়া ছাড়া তার ভাগ্যে আর কোন সরকারি সহায়তা জুটেনি। দিনমজুর আব্দুল হাকিম। বাড়ি সেনুয়া গ্রামে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। তার ভাগ্যেও জুটেনি সরকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর তেমন কোন সুবিধা।

অথচ প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি, ফেয়ার প্রাইজ কার্ড (১০ টাকা কেজি দরে চাল) সহ সরকারের নানা কর্মসূচী চলমান রয়েছে। এসব সরকারি সুবিধা খতিব বা হাকিমের মত দিনমজুরেরা না পেলেও, পেয়েছেন সচ্ছল দলীয় নেতা-কর্মীরা। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী এ চিত্র ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের।

ঐ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ভোমরাদহ সর্দারপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম। পরিবারের অবস্থা স্বছল। মিলন বাজারে মুদি দোকান রয়েছে তার। মোটর সাইকেল হাকিয়ে বেড়ান। মা, স্ত্রী ও ৩ ছেলে নিয়ে একত্রে বসবাস করেন। তারপরও স্ত্রী ও ছেলেদের নামে পেয়েছেন ফেয়ার প্রাইজের (১০ টাকা কেজি দরে চাল) কার্ড।

কয়েক বছর ধরে তুলছেন সে চাল। সালামের স্ত্রী আরিফার কার্ড নম্বর ১০৮০, বড় ছেলে আরিফের কার্ড নম্বর ১১১০, অপর দুই ছেলে আমিন ও আকাশ। তাদের কার্ড নম্বর ১০৫৫। একটি কার্ড দিয়ে দুই জন চাল তুলেন।

একই নম্বরের কার্ডে তালিকায় কখনো আমিন এর নাম আবার কখনো আকাশের নাম ব্যবহার করা হয়। একই পরিবারে একাধিক কার্ড না দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এ ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হয়নি।

সচ্ছল পরিবার হলেও কার্ডে দেখানো হয়েছে দিনমজুর। সালামের মত অনেক সচ্ছল পরিবার পাচ্ছেন ফেয়ার প্রাইজের চাল সহ নানা সরকারি সুবিধা। অথচ একই ইউনিয়নের ভোমরাদহ গ্রামের দিনমজুর খতিব এবং সেনুয়া গ্রামের হাকিমে মত অনেক গরিববই বঞ্চিত রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে।

খতিবের দাবি, তার এক ছেলে প্রতিবন্ধী। কোন ভাতা পায় না। ভিজিডি বা স্বল্প মূল্যে চালের কার্ড পাননি। অনেক ঘুড়েছেন। কেউ কথা শুনেনি। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। তাদের খোজ কেউ রাখেন না। হাকিম বলেন, সরকার গরিবদের জন্য এত কিছু দিচ্ছেন। অথচ আমরা গরিবরা পাচ্ছি না।

আমাদের কথা কে শুনে! সচ্ছল হওয়া সত্তেও একই পরিবারে স্ত্রী ও ছেলের নামে ফেয়ার প্রাইজের কার্ড নেওয়া প্রসঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুস সালাম বলেন, আমরা স্বচ্ছল নই। হতদরিদ্র। এজন্য ৩টা কার্ড পেয়েছি। আমার এক ছেলে বিয়ে করে আলাদা খায়। আমি দুইটা কার্ডের সুবিধা পাই। তাতে কি!

এ বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিটলার হক বলেন, তালিকাটি ৫ বছর আগের করা। তালিকায় কি আছে, দেখতে হবে। তাছাড়া আমরা ছোট পদে আছি, এখানে কি!। যারা কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করছে, তাদের দেখন না!।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম বলেন, এমনটা হয়ে থাকলে কার্ড বাতিল করা সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

www.bbcsangbad24.com