এপ্রিল ০৭, ২০২১,

নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলিস্থান যাবেন অফিসগামী কাবির হোসেন। কিন্তু বাসে উঠতে গিয়েও বাড়তি ভাড়া চাওয়ায় নেমে যান বাস থেকে। ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির পর ১০ টাকার ভাড়া ১৬ টাকা না হয়ে কেন ২০ টাকা এই ক্ষোভেই বাস থেকে নেমে পড়েন তিনি।

কাবির হোসেন বলেন, সব সময় গুলিস্তান ১০ টাকা দিয়ে যাই। কিন্তু ২০ টাকার কমে বাসে উঠতে দিচ্ছে না। কখনও বাস থাকে না, থাকলেও বাড়তি ভাড়া। প্রশাসনের উদ্ভট সিদ্ধান্তের কারণে দুর্ভোগে পরতে হয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের।

শুধু কাবির হোসেনই নয়, বাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশ যাত্রীদের একই অভিযোগ।

করোনাভাইরাসের উর্ধগতি ঠেকাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় দিন চলছে আজ। এই নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ থাকার কথা ছিল গণপরিবহনেরও।  তবে সরকার-আরোপিত সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে জনদুর্ভোগ কমাতে বুধবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে গণপরিবহন চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অনুমতিক্রমে রাজধানীতে সকাল থেকে গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। শুরু হয়েছে যাত্রীদের বাসে উঠা নামার প্রতিযোগিতা।

দুইদিন বন্ধ থাকার পর নিজস্ব গতিতে চলছে বাস। বাড়তি ভাড়া হাকিয়ে নিচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। কারও কারও বাড়তি ভাড়ায় ক্ষোভ থাকলেও, অনেকে আবার বাসে চড়তে পেরেই পেয়েছেন স্বস্তি।

অফিসগামী আরিফ হোসেন বলেন, ভাড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে হেলপার গুলো। কিন্তু কিছু করার নাই। আমরা সাধারণ মানুষ, দুর্ভোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী। বাস বন্ধ করলেও আমাদের চলাচলে কষ্ট, আবার বাড়তি ভাড়াও বোঝা। কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই নেই। আমরা অসহায়।

অফিসগামী রেশমি বলেন, বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে, তবু বাস তো পাচ্ছি এইটাই শান্তি। গত দুইদিন খুব কষ্ট করে অফিস যেতে হয়েছে। আর রিকশাওয়ালা, সিএনজিওয়ালারাও খুব ঝামেলা করেছে। এখন ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা দিলেও রাস্তায় চলতে ঝামেলা হচ্ছে না।

তবে নতুন  সিদ্ধান্তে বাইরের গণপরিবহন সিটিতে প্রবেশ করায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে বাইরের গণপরিবহনগুলো প্রবেশ করছে রাজধানী ঢাকায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজলা এলাকায় দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য বাস রাজধানীতে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে সিলেট, কুমিল্লা ও লাকসাম এলাকার দূরপাল্লার বাসগুলোকেও প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ঢাকাসহ দেশের সকল সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন সার্ভিস চালু করার সিদ্ধান্তের কথা জানান  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৭ এপ্রিল বুধবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি।

www.bbcsangbad24.com