এপ্রিল,০৮,২০২১

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাস বেড়ে যাওয়ায় আসন্ন ইউপি নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার খবর শুনার পর দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় ঘরবন্দি অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে নেই মুন্সীগঞ্জের ৬৮ ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক চেয়ারম‌্যান,সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ও সাধারন মেম্বার প্রার্থীরা।

বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর পুরাতন ও নতুন মূখ হিসেবে জেলার ৬৮ টি ইউনিয়নেই কয়েকশত সমাজ সেবক অসহায় মানুষের পাশে এসে দাড়িয়ে ছিল, দীর্ঘসময় লকডাউনেও সাধারন মানুষ তেমন কষ্ট পায়নি ,তখন ঐ সকল সমাজ সেবকগন নিজেদের কে নির্বাচনী মাঠে পরিচিতি লাভ করার জন‌্য অসহায়দের পাশে ছিলেন, আর অনেক নেতা কর্মীকে দেখা গেছে u জমি বিক্রী করে মানুষকে খাদ‌্য সামগ্রী দিচ্ছে এমন প্রকাশ ও করেছে।

কিন্তু গত ৫ এপ্রিল করোনার প্রার্দোভাব বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষনা দেওয়ার পর ঘরবন্দি মানুষের পাশে কাউকেই দেখা যায়নি।

তার একটাই কারন নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়া? এর আগে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছিল নির্বাচন মাঠে প্রার্থীরা অনেক বড় বড় ঘোষনা দিয়ে ছিলেন সুখে দু:খে সারাজীবন সাধারন মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়। অথচ যেই তারা জানতে পারল নির্বাচন পিছিয়ে গেছে সাথে সাথে প্রচারনার মাঠ তথা জনসেবা ছেড়ে দিয়েছেন।

সাধারন মানুষ মনে করছেন,এ সকল নতুন নেতা কর্মী আমাদের কাছে এসেছিল তাদের স্বার্থ আদায় করার জন‌্য তাছাড়া আর কিছুর জন‌্য না। যখন তারা দেখল যে নির্বাচন হচ্ছেনা এমনিতেই প্রচারনার মাঠ ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন ,পঞ্চসার ইউপির এক বৃদ্ধা বলল, আমি এক চেয়ারম‌্যান প্রার্থীর কাছে গিয়েছিলাম কিছু সাহায‌্যের জন‌্য বলল এখন করোনা তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে যান, শিলই ইউনিয়নের ফজর আলী নামের অসহায় ব‌্যক্তি বলেন, আমি এক বড় নতুন নেতা চেয়ারম‌্যান প্রার্থীর কাছে গিয়ে ছিলাম ঘরে খাবার নাই কিছু টাকার জন‌্য তিনি আমাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিল আর বলল করোনা শেষ হলে এসো তখন দেখব কি করা যায়, এভাবেই তাদের কাছ কেউ আর আগের মত সারা পায়না বরং পায় অপমান। এই হল নির্বাচনী প্রার্থীদের ব‌্যবহার আর জনসেবার নমুনা।

সিরাজদীখান উপজেলাও দেখা গেছে অনেক সমাজ সেবক চেয়ারম‌্যান প্রার্থীদের কিন্তু এখন সাধারন মানুষের কাছ থেকে তারা দূরে সরে দাড়িয়েছে। অথচ সাধারন একজন কেটে খাওয়া মানুষের সম্ভব হয়না একটি হ‌্যান্ড সেনিটাইজার বা হ‌্যন্ড ওয়াশ কেনার , এই সকল সেবা থেকেও ইদানিং সাধারন মানুষ বঞ্চিত।
পুরো জেলার সব কয়টি উপজেলার প্রচারনা ও সেবাদান এখন বন্ধ আর অসহায় মানুষের পাশে এখন কেউ নেই।

অনেকে বলছেন,নির্বাচিনের অনেক দেরী কখন হয় তার নেই কোন হুদিশ এই পর্যন্ত অনেক টাকা পয়সা নির্বাচনী মাঠে ব‌্যায় করেছি আর না। যখন সরকার আবার ঘোষনা দিবে তখন না হয় দেখা যাবে।
গত বছর করোনার প্রথম ধাপে অনেককে দেখা গেছে নিজের মাথায় বহন করে অসহায় দরিদ্র মানুষের জন‌্য বাড়ি গিয়ে খাদ‌্য সামগ্রী দিয়েছেন অথচ দ্বিতীয় ধাপে কেউ কারো পাশে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়নি।
সাধারন মানুষ বলেন এই দ্বিতীয় ধাপে কি আমরা না খেয়ে মরব এমন মন্তব‌্য সাধারন মানুষের । কাজ কাম নেই তাহলে আমরা খামু কি?

www.bbcsangbad24.com