এপ্রিল,২৬,২০২১

ফারহানা আক্তার ,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ 

১৯৭১ সালে ২৬ এপ্রিল জয়পুরহাটের কড়ই কাদিরপুর এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩৭১ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও স্থানীয় মুসলিম লীগের নেতারা।

সেদিন ছিল সোমবার,২৬ শে এপ্রিল ১৯৭১, সকাল ১০-১১টা…

জয়পুরহাট শহর থেকে আট কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কড়ই কাদিরপুর গ্রামের মানুষেরা হঠাৎ চমকে উঠে গ্রামের পশ্চিম পাশের ঘড় বাড়িতে আগুন আর গুলির শব্দে । গুলির শব্দে আর আগুন দেখে আতঙ্কিত মানুষ প্রান ভয়ে দৌড়ে বাড়ির বাহিরে বের হয়ে দেখে ছোট্ট গ্রামটিতে ততক্ষনে মৌলবী আব্দুল মান্নান ও হাফিজ বিহারী, জসিম মওলানা নেতৃত্বে পাকিস্তানী সেনাবাহীনি ও তাদের দোসর রাজাকার- আলবদররা ঘিরে ফেলেছে ।

বৈশাখের তপ্ত দিনে আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গ্রামটিতে। রাইফেলের মুখে পাকিস্তানী হায়নারা গ্রামের সকল বয়সের পুরুষ মানুষকে এনে একত্রে জড়ো করে এই গ্রামের রাস্তা সংলগ্ন একদম পুকুরের পাড় ও মাঠে। নির্বিচারে নিরিহ গ্রামবাসীর উপর গুলি চালাই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী । মৌলবী আব্দুল মান্নান জবাই করে একের পর এক মানুষ কে। রক্তের বন্যা বয়ে যায় পুকুর পাড় এবং খোলা মাঠে।

তৎকালীন স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের প্ররোচনায় কোনরকম উস্কানী ছাড়াই পাক সেনারা ৩৭১ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে ।
স্বাধীনতার পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই এলাকার হিন্দু জনবসতির প্রায় ১২০০ বিঘা জমি দখল করে বিগত কয়েক বছর আগে ১০/১২টি হিন্দু ঘর থাকলেও তাদের নানা ভয়ভীতি দেখে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে।

শহীদের স্মৃতি রক্ষায় তৎকালীন জেলা পরিষদ প্রশাসক এস.এম সোলায়মান আলী বধ্যভূমিটি নির্মাণ করেন।

www.bbcsangbad24.com