এপ্রিল ২৯, ২০২১,

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ভৈরবে জামালপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলায় বাড়ি-ঘর ভাংচুর, মারধোর, মূল্যবান গাছ কর্তন,গরু বাছুর ও মালামাল লুট করার অভিযোগে মামলা করে বাড়ি-ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রহমতউল্লাহ তার পরিবার।

শিবপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শামসু মিয়ার পুত্র রহমত উল্লাহ ও তার চাচাতো ভাই সাহাবুদ্দিনের পুত্র  আফছর উদ্দিীনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আফছর উদ্দিনের নামে ২ গন্ডা জমি লিখে দিতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। জমি লিখে না দেয়ায় আফছর উদ্দিন ও তার লোকজন গত ১৩ মার্চ জোর পূর্বক  রহমত উল্লাহর দেড় লাখ টাকা মূল্যের আকাশি গাছ কেটে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় তার একটি অষ্ট্রেলিয়ান গাভী ও একটি ষাড় বাছুর ও নিয়ে গেছে।

এছাড়া তার বসত বাড়ি ভাংচুর করে নগদ টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লোট করে নিয়ে গেছে এবং তার স্ত্রীকে মারধোর করে হাত ভেঙে দিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এসব ঘটনায় গত ১৫ মার্চ আমিনা বেগম ও রহমত উল্লাহ বাদী হয়ে ভৈরব থানায় এবং আদালতে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়েরের পর মামলা তুলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তারা এখন প্রাণ ভয়ে স্ব-পরিবারে গত দেড় মাস যাবৎ নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বলে ও অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফছর উদ্দিনের বাড়িতে গেলে কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হারুন মিয়া জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২ পক্ষের মাঝে বিরোধ চলে আসছে। আমরা স্থানীয়ভাবে এলাকায় সালিশীর মাধ্যমে একাধিকবার চেষ্টা করেছি। কিন্ত রহমতউল্লাহসালিশী বোর্ডের রায় অনুযায়ী ২ গন্ডা জমি আফছর উদ্দিনকে লিখে দেওয়ার কথা। কিন্ত সে জমি লিখে না দেওয়ায় এ বিরোধ লেগে আছে। তবে গরু ২টি তার জিম্মায় থাকলেও তিনি তা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা-মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ওসি সাহেবের নেতৃত্বে ২ পক্ষকে নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্ত ১ পক্ষ রাজি হলেও অন্য পক্ষ রাজি হয়নি। তবে গরু নিয়ে যাওয়া অন্যায় কাজ বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মোঃ শাহিন জানান, ২ পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষকে শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছিল। কিন্ত রহমতউল্লাহ গং ডাকে সাড়াঁ দেয়নি। এছাড়া রহমতউল্লাহর পক্ষ থেকে থানায় ও আদালতে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেছে। তাছাড়া তারা নিজেরা নিজেদের বাড়িতে তালা দিয়ে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকেন। যাতে জমি ফেরত দিতে না হয়।

www.bbcsangbad24.com