মে ২১, ২০২১,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টানা ১১ দিন যুদ্ধের পর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় বিজয়োল্লাসে মেতেছে ফিলিস্তিনের মানুষ। তারা এই যুদ্ধবিরতিকে ফিলিস্তিনিদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করছেন।

এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ মে) রাত ২টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপরই রাস্তায় নেমে বিজয়োল্লাস শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা।

আলজাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর রাতের কিছু আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর দলে দলে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা। যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে এ সময় উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা। ফাঁকা গুলিবর্ষণ এবং আতশবাজির শব্দের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করেন ফিলিস্তিনিরা।

আলজাজিরার সংবাদদাতা সাফওয়াত আল-কাহলৌত জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নিঃশর্তভাবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়াকে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন দল নিজেদের বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মসজিদের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছেন তারা।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই বিজয় উদযাপনে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি রাস্তায় নেমে আসেন।

এদিকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। শুক্রবার ভোরে গাজা শহরে উল্লাসরত মানুষের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জয়লাভের ঘোষণা দেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিনিয়র নেতা খলিল আল-হায়্যা।

উদযাপনরত মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটা বিজয়ের আনন্দ, বিজয়ের উচ্ছ্বাস। এছাড়া ইসরায়েলের বিমান হামলায় ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও বিভিন্ন ভবন পুনর্নির্মানের ঘোষণাও দেন হামাস নেতা খলিল আল-হায়্যা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই যুদ্ধবিরতিতে সমর্থন দেন ইসরায়েলি চিফ অব স্টাফ, অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সংস্থার প্রধান, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ও জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রধানরা।

২০১৪ সালের পর সবচেয়ে বেশি সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে গাজায়। সাধারণ মানুষই বেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় হামাস ও ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপ দিতে থাকে। বিভিন্ন দেশও যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিতে থাকে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধবিরতির মিসরীয় উদ্যোগে নিঃশর্ত সমর্থন জানানো হয়।

www.bbcsangbad24.com