মে ২১, ২০২১,

রফিকুল ইসলাম

  • ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর খোঁজে আ.লীগ
  • নেতাদের বাসায় প্রার্থীদের সিভির স্তূপ
  • জমাকৃত সিভি যাচাই-বাছাই করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা

বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটে আটকে থাকা উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে আগামী জুলাই মাসে কয়েকটি উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসি। তারিখ নির্ধারণের পর ওইসব আসনে এবং ইউপিগুলোতে সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হয়ে লড়তে চান, এমন প্রার্থীদের মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। নির্বাচনি এলাকাগুলোতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন দেখা গেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা-অফিসেও চলছে হাজিরা প্রতিযোগিতা। তবে প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা নিয়ে মাথাব্যথা নেই আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের। ক্ষমতাসীন দল হওয়ার সুবাদে একাধিক প্রার্থী থাকাটা স্বাভাবিকভাবেই দেখছে দলটি। তবে এসব প্রার্থীর মধ্যে থেকে দলের জন্য নিবেদিত, ত্যাগী, স্বচ্ছ ও পরিশ্রমী নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নিজ নিজ টেবিলে জমাকৃত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক সিভি বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা এমনটাই জানান।

তথ্যমতে, করোনায় আটকে রয়েছে লক্ষ্মীপুর-২, সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার ভোটও আটকে রয়েছে করোনায়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই ওই চার সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন জুলাইয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৪ মে কমিশনের পরবর্তী সভায় ভোটের তারিখ নির্ধারিত হবে। একই দিন সিদ্ধান্ত হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে গত ১ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদসহ দেশের সকল নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  সে সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করায় সব নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। করোনার কারণে এটা ইসির নীতিগত সিদ্ধান্ত বলেও দাবি করেন তিনি।

আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে স্থগিত রয়েছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সকল কার্যক্রম। তবে করোনার শুরু থেকেই মানবিক রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে দলটির কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা ও উপজেলাসহ সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা। তারা দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে করোনার প্রতিরোধ সামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এর আগে লক্ষ্মীপুর-২, সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতি। মনোনয়নের রাজনীতিতে সরব ছিলো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকাপ্রত্যাশীরা। তারা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা ও আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসের আশপাশে বড় বড় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টাঙানোর মাধ্যমে জানান দিয়েছিলেন নিজেদের ব্যক্তিগত অবস্থান। নৌকার মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে ধরনা দিতেন স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী, জেলা-উপজেলাপর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের বাসা কিংবা অফিসে। সকাল-সন্ধ্যা মিছিল-মিটিংয়ে খরচ করেছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকরা নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচার-প্রচারণায়ও মুখর ছিলো সারাক্ষণ। তবে ইসি আগামী জুলাই মাসে কয়েকটি উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতির কথা জানানোর পর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ বাড়তে শুরু করেছে আগের মতোই।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অধিকাংশ নৌকাপ্রত্যাশীর রাজনৈতিক সিভি আওয়ামী লীগের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের টেবিলে। ওইসব সিভিতে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকার জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক ব্যাকরাউন্ড ও দুর্দিনে দলের জন্য অবদানের চিত্র তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ মাথায় রেখে তৃণমূল থেকে আসা নৌকাপ্রত্যাশীদের সিভিতে নজর রাখতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। করোনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ে সময় দিচ্ছেন তারা। মূলত, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্যাগী, পরিশ্রমী, স্বচ্ছ, মেধাবী ও সাধারণ জনগণের মাঝে অধিকতর জনপ্রিয় এবং দলের জন্য নিবেদিত প্রার্থী দিতে চান তারা। একই সাথে হাইব্রিড, দলের অভ্যন্তরে কোন্দল সৃষ্টিকারী এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টকারীরা যেনো নৌকার টিকিট না পায় সেদিকেও খেলায় রাখছেন কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এজন্য জেলা-উপজেলাপর্যায়ের বিভিন্ন সূত্র থেকেও খোঁজখবর নিচ্ছেন তারা। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন কেউ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক  বলেন, আমি যে বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছি সেই বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জন্য নৌকাপ্রত্যাশীরা নিজেদের রাজনৈতিক সিভি জমা দিয়েছেন। করোনায় বাইরে বেশি কাজ নেই। তাই আমার কাছে জমাকৃত ওইসব সিভি ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করছি এবং জেলা-উপজেলার বিভিন্ন সূত্র থেকে তাদের সম্পর্কে সঠিক খোঁজখবর নিচ্ছি। এতে করে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে সুযোগ পাচ্ছি এবং এই তালিকা দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হবে। আশা করি কোনো বিতর্কিত প্রার্থী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাবে না।  আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম  বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে। করোনার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে আওয়ামী লীগ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মী করোনা সংকট মেকাবিলায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের যেসব রুটিন কাজ রয়েছে, যতটুকু সময় পাচ্ছি সেগুলোও ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছি।

www.bbcsangbad24.com