মে ২৪, ২০২১,

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান বিধিনিষেধ আগামী ৩০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ালেও আজ সোমবার (২৪ মে) স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে সব ধরনের দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার।

তবে অনুমতির সাথে জুড়ে দিয়েছে চারটি শর্ত। রোববার (২৩ মে) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে এ সংক্রান্ত জরুরি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২৩ মে মধ্যরাত অর্থাৎ ২৪ মে থেকে ৩০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত আন্তঃজেলাসহ সব ধরনের গণপরিবহন নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে-

১. কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লেখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের (৫০ ভাগ) বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না।

২. কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার (বিদ্যমান ভাড়ার ৬০ ভাগ বৃদ্ধি) অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।

৩. ট্রিপের (যাত্রা) শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৪. পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে সরকারের অন্যান্য নির্দেশাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

এদিকে, রাইড শেয়ারিং সেবার আওতায় চলাচলকারী গাড়ি চলতে পারবে। তবে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল চলাচলের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হারে ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এপ্রিল মাসের পাঁচ তারিখে সরকার প্রথম দফা লকডাউন আরোপ করে।

সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এই বিধিনিষেধকে ‘লকডাউন’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু দৃশ্যত প্রথম দিন থেকেই কোথাও লকডাউনের লেশমাত্র ছিল না। দোকানপাট ও গণপরিবহন চালু থাকার কারণে সংক্রমণ পরিস্থিতিতে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। সরকারি অফিস সীমিতভাবে চললেও বেসরকারি অফিস খোলা থেকেছে।

এরপর সরকার ১৪ই এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে যায়, যাতে বন্ধ ছিল গণপরিবহন এবং দোকানপাট। কিন্তু এর পরের সপ্তাহ থেকে দোকানপাট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলও চালু করে দেয়া হয়। তবে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রয়েছে।

www.bbcsangbad24.com