মে,৩১,২০২১

“সুলেখা আক্তার শান্তা”

আমার ভয় এলাকার মানুষ কাঁপে। আমি বাঘ আর বকরিরে এক ঘাটে জল খাওয়াই। মানুষ যদি ভয়ে নাই কাঁপে তাহলে কিসের বীরপুরুষ! লোকজন সজোরে মাথা নেড়ে খোরশেদের কোথায় সমর্থন জানায়। কথাগুলো বলে খোরশেদ, অপেক্ষমান লোকজনের দিকে তাকিয়ে। আর খোরশেদের কথার তালেতাল দেওয়াই ছিল তাদের কাজ।
হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভাই। আপনি যা বলেছেন ঠিক কথাই বলেছেন।
খোরশেদ সন্তুষ্ট চিত্তে বলে, ঠিক আছে। তোমাদের যাকে যে কাজের দায়িত্ব দিয়েছি তোমরা সেখানে গিয়ে সেই কাজ করো।
ভাই আপনার হুকুমের বরখেলাপ করি নাই আর আপনার হুকুম কখনোই আমরা বরখেলাপ করবোও না।
আচ্ছা, আচ্ছা বুঝলাম। এবার কাজে লেগে পড়ো সবাই।
খোরশেদ যতক্ষণ বাড়ির বাহিরে থাকে সেই সময় টুকু রোজি ভয়-ভীতি মুক্ত থাকে। সারাক্ষণ তাকে তটস্থ থাকতে হয়। এমন কি বাড়ির রান্নাটা পর্যন্ত হয় না স্বামীর অনুমতি ছাড়া। আজকেও তাই হয়েছে। গরুর মাংস ভুনা, ছোট মাছের চচ্চড়ি আর ডাল। দুপুরে খেতে বসে খোরশেদের মেজাজ বিগড়ে গেল। রান্না দেখে চিৎকার শুরু করে। স্ত্রীকে স্বভাবসুলভ সম্বোধনে বলে, মাগি তোকে এসব রান্না করতে বলছি? চুলের মুঠি ধরেই মারা শুরু করে।
রোজি কাঁদতে কাঁদতে বলে, আপনি যা বলেছেন আমি তাই রান্না করেছি।
মুখ বন্ধ কর। আমি কোন কথা শুনতে চাই না। আমার কথা অনুসারে তোকে কাজ করেতে হবে।
আপনি যা বলেন তাই তো করি। রান্না নয়, আপনার কথার বাইরে কোন কাজ হয় এই সংসারে। তারপরেও সারাক্ষণ গঞ্জনা আর মারপিট। কোন দোষ না করলেও পদে পদে দোষ। স্বামী তার জীবনে মূর্তিমান আতঙ্ক। তার স্বাভাবিক সাংসারিক জীবন বলে কিছু নাই। অবশ্য খোরশেদ মনে করে পদে পদে দোষ ধরে লাঞ্ছিত করা স্ত্রী শাসনের উত্তম উপায়। ছেলেমেয়েও আতংকের মধ্যে থাকে। বিশেষ করে মায়ের নির্যাতন দৃশ্য দেখে তারা ভয়ে কুঁকড়ে যেত এমন কি আড়ালে লুকিয়ে থাকে। বাবার কাছ থেকে বাপ্পি আর আফরীন দু’জনের দূরে থাকতে শুরু করে। ভাবে তাদেরও ধরে মারবে। এভাবে রোজি ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটায়।

একদিন এক নতুন উপদ্রবের আগমন ঘটে। বাসায় এসে জোটে সুন্দরী কাজের মেয়ে বিথী। বিষয়টির ভূত ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ ছিল না রোজির। যা হবার তাই হলো, খোরশেদের দৃষ্টি পড়ে বিথীর উপর। প্রথমে একটু আড়ালে আবডালে হলেও ক্রমেই প্রকাশ্যে আসে। খোরশেদ আর বিথী দু’জন দু’জনার ভালোবাসায় মত্ত। কাজকর্মের সামান্য সময় টুকু ছাড়া সারাক্ষণই বিথীকে নিয়ে মজে থাকে খোরশেদ। এক সময় রোজি মরিয়া হয়ে স্বামীকে বলে, আপনি কি শুরু করেছেন এই রঙ্গ রসের খেলায়। কাজের মেয়ের সঙ্গেই যদি সময় পার করবেন! আমাকে বিয়ে করেছিনে কেন? ছেলে-মেয়ের সামনে এমন করতে আপনার লজ্জা করেনা?
আমি কি করব না করব তা তোকে বলে কয়ে করবো? তোর চোখের সামনেই করবো! তোকে সব সহ্য করতে হবে।
সহ্য করেই তো আছি আর কতা সহ্য করব! মালিকের আশকারায় বিথী মাথায় উঠে বসে। তার বেহায়াপনা বাড়তে থাকে। রোজিকে দেখিয়ে আরো বেশি রংঢং করে। গৃহকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ায় নিজেকে রাজরানী মনে করে। খোরশেদকে নিয়ে মার্কেটে যায়। নিজের যত সাধ আহ্লাদ পূরণ করে। অপরদিকে খোরশেদ স্ত্রী আর সন্তানদের অবহেলা করতে থাকে। বিথী খোরশেদকে বলে বিয়ের কথা। এখন তুমি আমকে ছাড়া থাকতে পারবেনা আমিও তোমাকে ছাড়া থাকতে পারিনা। বিথীর কথা মত খোরশেদ তাই করে। বিয়ে করে সে বিথীকে। বাঁদী থেকে বেগেম তার আশা যেন পূর্ণতা লাভ করে।
রোজি স্বামীর বিয়ে নিয়ে সোচ্চার প্রতিবাদ করে বলে, এতদিন বহুজ্বালা সহ্য করেছি আর না। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে খোরশেদ আর বিথী মারধর করে রোজিকে। দিন দিন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাঁচার পথ খুঁজে। রোজির বাবা-মা নিতে আসে মেয়েকে। জেদ করে রোজিও বাবা-মার সঙ্গে যেতে রাজি হয়। বাপ্পি আর আফরীন মায়ের শাড়ির আঁচল ধরে বলে, ওমা তুমি যেও না। আমাদের এভাবে ফেলে রেখে যেও না!
রোজি বাবা-মাকে বলে, এতদিন খোরশেদের অত্যাচার সহ্য করেছি ছেলে-মেয়ে দিক তাকিয়ে। এখন আর সহ্য করব না। রোজির আব্বা বলে, বাচ্চার বাবা যদি বাচ্চার দরদ না বুঝে আমরা বুঝে কি করব। আমার মেয়ে রেখে যখন বিয়েই করেছে তখন মেয়েকে এখানে আর রাখবো না। মেয়েকে নিয়ে আবার আমরা অন্য জায়গায় বিয়ে দিবো। বাপ্পি আর আফরীন শুধু কাঁদতে থাকে। রোজি চলে যায় বাবা-মার সাথে। ছেলে-মেয়ের জন্য তার মন খুব কাঁদে। স্বামীর সীমাহীন অত্যাচারে তার সেই ঘর ছাড়তে হয়। অসহ্য হয়ে স্বামীর উপর জিদ করে ছেলে-মেয়ে ফেলে রেখে সে বাপের বাড়ি থাকে।
বাপ্পি আর আফরীনের ভাগ্যে যা হবার তাই হয়। বিথী তাদের ধরে মারতে মারতে বলে, সতীনের ছেলে-মেয়েকে আমি পালতে পারব না।
রোজিকে তার বাবা-মা বিয়ে দেয়। একসময় রোজি ছেলে-মেয়ের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পরে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না। সে ছেলে-মেয়েকে দেখতে চায়। বাড়ির কাছে গিয়ে লোকমারফাত খবর পাঠায় ছেলে-মেয়ের কাছে। খবর পেয়ে তারা আনন্দে ছুটে আসে মায়ের কাছে। মাকে পেয়ে দুভাই-বোনের মনে হয় পৃথিবীর সব আনন্দ তাদের কাছে। রোজি তার ছেলে-মেয়েকে দেখতে এসেছে টেরে পেয়ে বিথী হিংসায় জ্বলে উঠে। বিথী গিয়ে রোজিকে অপমান করে। বাপ্পি আর আফরীনকে মারতে মারতে ধরে নিয়ে আসে। চোখের সামানে ছেলে-মেয়ে আঘাত করতে দেখে রোজি কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়।
বাপ্পি আর আফরীনকে মেরেও বিথীর পরান ঠান্ডা হয় না। স্বামীর কাছে অভিযোগ দিয়ে আরো মার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে। খোরশেদ বউয়ের কথা শুনে ছেলে-মেয়েকে মারে। বিথী যখন-তখন খোটা মেরে কথা বলে বাপ্পি আর আফরীনকে। তোদের মা তোদের বাবার কাছ থেকে চলে গিয়ে অন্য পুরুষকে বিয়ে করেছে! তোদের মা তো ভালো না। দুভাই-বোনের প্রতিদিন এসব কথা শুনতে ভালো লাগেনা। বাপ্পি আর আফরীন ক্ষুধা লাগলে বলতে পারতোনা, বললেই, এটা ওটা নানা ছুতোয় বকাঝকা শুরু করে। আবার কখনো থালা-বাটি আছার মেরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটায়। এসব দেখে ভয় দুভাই-বোন দূরে চলে যায়। ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়েও নিশ্চুপ থাকে।

খোরশেদ মারা যায় বিথীর ঘরে এক সন্তান রেখে। বিথী মনে করে পুরো রাজত্ব এখন তার। নিজের সন্তানকে নিয়ে সবসময় আদর-আহ্লাদে মেতে থাকে। সৎ মার অত্যাচারে বাপ্পির মন কিছুতেই শান্তি পায় না। অশান্তির আগুনে জ্বলতে থাকে তার মন। শান্তির জন্য এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায় কিন্তু শান্তি কি সহজে ধরা দেয়। বাপ্পির জিদ হয় বাবার সম্পওি থাকতেও ভোগ করতে পারিনা। সে নিজের ক্ষমতা প্রতিপত্তি বাড়াতে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অন্যায় কাজে। বিথী ভাইকে বুঝিয়ে ফিরানোর চেষ্টে করে।
বাপ্পি বলে, অন্যয় অত্যাচারে জর্জরিত মনে পাহাড় প্রমাণ ক্ষোভ জমে আছে। সৎ মার কুটিলতায় খাওয়া পড়া পাই নাই। বাবার ছয় তলা বাড়ি কিন্তু দুই-ভাই বোনকে থাকতে হয় বাড়ির গেরেজে। বাপ্পির মনে যন্ত্রনার আগুন জ্বলে উঠে।
আফরীন সান্তনা দেয়, ভাই কেউ শান্তি পায় অধিকার ভোগ করতে দিয়ে আবার কেউ সুখ পায় অধিকার হরণ করে। যার যা অধিকার তার সে অধিকার ভোগ করতে দিলে আল্লাহ খুশি হয়।

চাচারা কখনোই বাপ্পি আর আফরীনের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। জীবনের সব ঝড়ঝাপটা নিজেদেরই বহন করতে হয়েছে। হঠাৎ করে তাদের জন্য সেই চাচাদের দরদ উঠলো। চাচাদের কাছে বাপ্পি এখন অতি আদরের পু্এ। কারণ বাপ্পির কাছে এখন অনেক ক্ষমতা। চাচা আজিজ আর জামাল এখন বাপ্পিকে দিয়ে তাদের সম্পওি রক্ষা করে। এখন তারা বাপ্পির ক্ষমতা ব্যবহার করে নিশ্চিন্ত থাকে।
বিনিময়ে অবশ্য বাপ্পি আর আফরীনের জন্য তারা খুব বেশি একটা কিছু করে না। আজিজ আর জামাল বলে, বাপ্পির মতো ছেলে সচরাচর আরেকটা হয় না। আমাদের এখন কোন চিন্তা নেই।
হ্যাঁ চাচা, আমি থাকতে কেন আপনারা চিন্তা করবেন?
বাপ্পি সব ক্ষেত্রে বাঘ হলেও সৎ মা বিথী কাছে বিড়াল। তার সামনে গেলে কখনোই উচু গলায় কথা বলতে পারেনা। তার কাছে থেকে নিজেদের আধিকার কখনোই বুঝে নিতে পারেনা। বাপ্পির হঠাৎ মনে হয় কাজের ঝামেলায় বোনটার ঠিকমতো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না। ভাবল দুই ভাই-বোন এক সঙ্গে ভাত খাবে। দুভাই-বোন থাকে দুই চাচার বাসায়। সেভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে। আজিজের বাসায় থাকে আফরীন জামালের বাসায় থাকে বাপ্পি। তাই বোনের কথা ভেবে প্রায় প্রায় চাচা আজিজের বাসায় অনেক বাজার দেয়।
বাপ্পির মনে ভাবনার উদয় হলো, আমার ক্ষমতার জোরে চাচারা সম্পদ রক্ষা করে সম্পদ বৃদ্ধি করে চলেছে। কিন্তু কেন আমি পারছিনা আমার বাবার সম্পওি ভোগ করতে। আমারটা আমাকেই বুঝে নিতে হবে। তখনই বাপ্পিকে অক্ষমতা গ্রাস করে। সে নিজেকে নেশার রাজ্যে ডুবে রাখে। নেশায় তাকে নিজের চাওয়া পাওয়া সব ভুলিয়ে দেয়।

আজিজ আর জামাল তাদের মেয়েদের অবস্থা সম্পন্ন পাত্র দেখে বিয়ে দেয়। অপর দিকে আফরীনের বিয়ের ঠিক করে নেশাখোর ছেলের সঙ্গে। তা যেনে আফরীন বিয়ে করতে চায় না। বিথীর কুমন্ত্রণায় সেই বিয়েও আবার ভেঙ্গে যায়। আফরীন বলে, এ কেমন দুর্দশার জীবন নিয়ে এলাম পৃথিবীতে। হতাশা জ্বালা যন্ত্রণায় এভাবেই কি যাবে আমাদের দুই ভাই-বোনের জীবন। ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে। বাপ্পি বোনকে দেখে বলে, আপন ভাই বোন হলেও ভাগ্য আমাদের কিভাবে আলাদা করে রেখেছে। বাপ্পির করুণ অবস্থা দেখে বলে, ভাইয়া তুমি বলো আর নেশা করবে না।
বোন, নেশার মাঝে আমি যে সুখ পাই পৃথিবীর আর কিছুতে এ সুখ পাইনা।
ভাইয়া, দুনিয়াতে অল্প সংখ্যক মানুষ নেশা করে আর বিশাল সংখ্যার যে মানুষগুলি নেশা করে না তারা কি সুখী না! তুমি যা বলছো এটা তোমার ভুল ধারণা।
কোন মানুষের কথা বলছি যে মানুষ মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়? ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে, এমন মানুষের কথা তুই আমাকে বলিস না!
ভাইয়া কয়েকজন মানুষের কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা সব মানুষকে দোষারোপ করতে পারিনা। ভাইয়া তুমি মানুষের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে চাচাদের দিচ্ছ। তারা সম্পদ বৃদ্ধি করছে। তাদের কাছ থেকে তুমি তোমার পাওনা বুঝে নাও। অন্তত আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি, সে তো আমাদের ন্যায্য পাওনা।
হ্যাঁ, যে চাচা আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি আজ আামাকে তারা মাথার মুকুট করে রেখেছে। আমার ক্ষমতায় তাদের ধন সম্পদের বৃদ্ধি ঘটছে। আজই আমি দুই চাচার কাছ থেকে সব কিছু বুঝে দিতে বলবো। বোন তুই ছাড়া আমার আর কে আছে, আমি ছাড়াই বা তোর কে আছে।
আজিজ আর জামালের সঙ্গে বোঝাবুঝি করতে চায়। চাচা আমি যে সব কর্মকাণ্ড করি তা ছেড়ে দেবো। এসব আমার ভালো লাগেনা।
সম্পদের জোরে চাচারা অনেক প্রভাবশালী হয়ে উঠে। বলে, ক্ষমতা একবার হাতছাড়া হলে কেউ তোকে এক পয়সার মূল্য দিবে না। মেরে ফেলবে তোকে। তখন তোর বেঁচে থাকাই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে!
তাই যদি হয় সে মৃত্যু আমি বরণ করে নেব। চাচা আপনাদের কাছে আমার যে সহায় সম্পদ টাকা-পয়সা আছে সব আমাকে ফিরিয়ে দেন।
আজিজ আর জামাল একজন আরেকজনকে বলে, এর সুর তো ভালো না। ঠিক আছে তোর সম্পত্তি যদি তুই চাস তাহলে তো আমাদেরকে দিতেই হবে। আমরা বহু কিছুই তোর কাছ থেকে পেয়েছি। কিন্তু তার আগে তুই একটা কাজ কর। তোর যে পৈত্রিক সম্পত্তি তাতো তোর সৎমা ভোগ করছে। সেগুলো আগে উদ্ধার কর। আমরা তোর সাথে আছি। তোর সম্পত্তি সৎমা ভাইকে ছেড়ে দিয়ে লাভ কি? সৎমা তার পেটের ছেলের কথা ভাববে তোর কথাতো ভাববে না!
চাচা আমি সেগুলো চাই না।
চাস না বেশ ভালো কথা। কিন্তু যার জন্য তোর মাকে এই সংসার ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে, তোর বাবার ভালোবাসা থেকে তোদের দূরে থাকতে হয়েছে, তোদের দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে সেগুলো ভুলে গেছিস? চাচাদের মুখে এসব কথা শুনে সব জ্বালা যন্ত্রণার কথা মনে ভেসে উঠে। হ্যাঁ হ্যাঁ আমি আমার প্রাপ্য বুঝে নিতে চাই। আমি যদি এতো জায়গায় এতো ক্ষমতা দেখাতে পারি তাহলে নিজের ঘরে কেন পারব না। বাপ্পিকে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত করে দেয় আজিজ আর জামাল। এদিকে বিথীকে বলে, বাপ্পি আসছে তোমার কাছ থেকে তার সম্পত্তি বুঝে নিতে। আমরা এত করে বোঝালাম কে শুনে কার কথা। সৎ মায়ের কাছ থেকে সম্পওির ভাগ নিয়েই ছাড়বে সে। তুমি যদি এই সম্পওি তোমার করে রাখতে চাও তাহলে তোমার একটা কাজ করতে হবে। ওকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে!
বিথীর মাথায় আগুন ধরে যায়। হ্যাঁ আমি প্রয়োজনে তাই করবো। ও যাতে দুনিয়াতে না থাকতে পারে আমি সেই ব্যবস্থাই করবো।
হ্যাঁ তুমি তাই করো, ওর জন্য আমাদের মান-সম্মান আর থাকলো না। সবার কাছে শুনতে হয় মাস্তানের চাচা। মাস্তানি করে বেড়ায়। এবার বুঝিয়ে দাও ওকে তুমি। ওর জন্য কিছু টাকা খরচ করে ওকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দাও। সবাই ভাববে নেশা করে, মাস্তান মাস্তানের হাতেই জীবন গেছে। তোমার এই নিয়ে ঘাবড়ানোর দরকার নেই।
আপনারা যদি পাশে থাকেন এই কাজ আমি অবশ্যই করবো।
বাপ্পি এসে তার সম্পওির অংশ চায়।
বিথীর পরিষ্কার কথা, আমি সম্পওির কিছুই তোকে দেবো না। এ নিয়ে দুজনের মাঝে খুব কথা কাটাকাটি হয়। বাপ্পির ফিরে যাওয়ার পথে বিথীর ভাড়া করা লোক ওত পেতে ছিল। তারা বাপ্পিকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়। বাপ্পি সম্পওি তো পেলোই না বরং তাকে চলে যেতে হলো দুনিয়া ছেড়ে। স্বার্থ আর দ্বন্দ্বের কাছে প্রাণ গেল বাপ্পির। আফরীন ভাইর শোকে কাতর হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে। কিছুতেই কিছু হয় না। সহায়-সম্পত্তি ফিরে পাওয়া আশাও আর রইল না। সবার চোখের আড়ালে নিভৃতে চলে যায় সে। আফরীন সেই যে একদিন বাড়ি থেকে বের হয় আর ফিরে এলো না।

www.bbcsangbad24.com