জুলাই ০৪, ২০২১,

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ১৫ জন, কুষ্টিয়ায় ১৫ জন, যশোরে সাতজন, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গায় দুজন করে এবং বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরে একজন করে মারা যান। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৩০৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আজ দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে খুলনায় ১৫ জন, কুষ্টিয়ায় ১৫ জন, যশোরে সাতজন, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গায় দুজন করে এবং বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরে একজন করে মারা গেছেন।

খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯৭ জন। যার মধ্যে রেড জোনে ১০২ জন, ইয়েলো জোনে ৪১ জন, আইসিইউতে ২০ জন ও এইচডিসিতে ২০ জন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ জন।

রবিবার সকালে হাসপাতালের মুখপাত্ররা জানান, এর মধ্যে খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৭ জন, জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দুইজন ও বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- খুলনার দৌলতপুরের বেগম (৫০), খানজাহান আলী রোডের শেখ ওহিদুজ্জামান (৬৮), দোলখোলা এলাকার আনোয়ারা (৬২), খুলনা সদরের সরদার হায়বাদ আলী (৫৫), বাগেরহাটের ফুনিয়াবাই এলাকার জাহাঙ্গীর (৫২) এবং বাগেরহাটের ডাকবাংলো এলাকার ইলিয়াস ফকির (৬০) ।

গাজী মেডিকেল হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ জন।

কুষ্টিয়া জেলায় এক দিনে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই জেলায় এটিই করোনায় মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ বশির জানান, মৃতদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিলেন ১৩ জন। বাকি ৬ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। রোগীর চাপ বাড়ায় সংকট হচ্ছে অক্সিজেনের। এসব কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, শনিবার রাতে ৬০৪ নমুনা পরীক্ষা করে ১৯৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৩১ শতাংশ।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালে করোনা পজিটিভ হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে।

চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার জেলায় ৪১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৪০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার প্রায় ৩৪ শতাংশ। এক দিনে ৩৬ জন সুস্থ হয়েছে।

জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৩৪২ জন। মোট মৃত্যু ১১৩।

www.bbcsangbad24.com