জুলাই ০৭, ২০২১,

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার বাসুদিয়া গ্রামে পশু চিকিৎসক মো: আশরাফুল ইসলামের তৈরী পঞ্চম তলা ভবন ভুয়া মালিক দবি করে জুরপূর্বক দখলের চেষ্টাসহ ভাংচুর ও টাকা পয়সা, মালামাল, স্বর্ণ অলংকার লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার সালমান খান মোয়াজ্জেম গংরার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ এর আলোকে জানা যায়, আশরাফুল ইসলাম পেশায় একজন পশু ডাক্তার। তিনি গাইবান্দা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার মরুয়াদহ গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি খরিদ সূত্রে মালিক হয়ে লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের বাসুদিয়া মৌজায় ২১০০ শত স্কোয়ার ফুট জমি ক্রয় করে ৫তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে ৩ তলা ভবন সম্পূর্ণ করেন। ভবন নির্মাণ কাজের সময় ব্যাংক লোন নিয়ে এই নির্মাণ কাজ শুরু করায় ইতিমধ্য বাকি কাজ সম্পন্ন করতে হলে টাকার প্রয়োজন হয়।

এই কারণে তিনি দ্বতীয় তলায় তৈরী তিনটি ফ্লাট বিক্রি করার জন্য প্রস্তাব দেন। এরপর স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে লৌহজং উপজেলার বাসুদিয়া গ্রামের সালমান খান মোয়জ্জেম একটি ফ্লাট ১৬ লাখ টাকা দাম ধরে ৩ লাখ টাকা ও হাফিজ খান ৩টি ফ্লাট ক্রয় করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে ৫০ হাজার টাকা বায়না করেন। এসময় বলা হয়, বাকি টাকা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করলে মালিকপক্ষ সাফ কবলা দলিল লিখে দিবেন।

কিন্তু সালমান খান মোয়াজ্জেম গংরা প্রকৃত ফ্লাটের মালিককে পাওনা টাকা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে অবৈধভাবে তার নামে পুরো সম্পত্তির উপর ভুয়া দলিল বানিয়ে নিজেকে বাড়ির মালিক দাবি করে দীর্ঘদিন যাবৎ ভবনের মালিক আশরাফুল ইসলামকে প্রাণনামের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি আশরাফুল ইসলামের তিনটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে তাদের হুমকির কারণে।

আশরাফুল ইসলাম জানান, আমার কাছ থেকে ফ্লাট ক্রয় করার জন্য সালমান খান মোয়াজ্জেম গংরা বায়না দলিল করেছে এবং দলিলে উল্লেখ ছিল যে, বাকি টাকা পরিশোধ করলে আমি তারদেরকে উক্ত ফ্লাট রেজিস্ট্রি করে দিব। কিন্তু তারা আমাকে টাকা না দিয়ে আমার পুরো ভবনের নামে ভুয়া দলিল বানিয়ে নিজেকে মালিক দাবি করছে।

অথচ আমি নালিশী সম্পর্ত্তি ক্রয়সূত্রে দলিল মূলে ৭.৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করে মালিক ও দখলকার বিদ্যমান আছি। গত ২৬/৫/২১ ইং তারিখে আমার অনুউপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৭ টার সময় স্থানীয় মেম্বার সালমান খান মোয়াজ্জেম গং কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়।

এসময় বাসার দরজা ভেঙে ঢুকে আলমারী ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণ, ব্যক্তিগত সেভিং একাউন্ট চেক বই, নিজস্ব ব্যবসা হাবিব ফুড এন্ড কঞ্জুমার প্রোডাক্ট ও হাবিব এন্টার প্রাইজ এর চলমান হিসাবের দুটি চেক বই, এনআইডি কার্ড, সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পত্রের একটি ফাইল, একটি এলইডি টিভি, একটি ডিসকভার মটরসাইকেল, ৮০ লাখ টাকার সোয়াবিন তৈল সহ প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মামলা করার জন্য লৌহজং থানায় যাওয়ার পথে আশরাফুল ইসলামের গতিরোধ করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিলে পরে গাজীপুরের উত্তর টংগী থানায় সালমান খান মোয়াজ্জেমকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন আশরাফুল ইসলাম। যাহার নং (২৮)২১ তারিখ ২৮-৬-২০২১ইং।

মামলার বাদি ভুক্তভোগি আশরাফুল ইসলামের দাবি অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার সহ মালামাল উদ্বারের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

www.bbcsangbad24.com