জুলাই,,২৭,২০২১

ফারহানা আক্তার,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রশাসন পদক পেলেন জয়পুরহাটের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ গৌরবময় সম্মাননা “জনপ্রশাসন পদক”। বিরল এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন জয়পুরহাট জেলার কৃতি সন্তান মোহাম্মদ আব্দুর রহিম (নয়ন)। তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার শেখপাড়া (নতুনহাট) মহল্লার মরহুম তসলিম উদ্দীন ও মোসাঃ পিয়ারা বেগম এর পুত্র।

৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ন হয়ে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তাঁর প্রথম কর্মস্থল গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় যোগদান করেন। সততা ও দেশপ্রেমবোধে উদ্দীপ্ত এই নবীন কর্মকর্তা তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে মাত্র ০৩ (তিন) বছরেই কাপাসিয়া উপজেলায় মাতৃমৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনেন। ‘গর্ভবতীর আয়না’ নামক একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবনের মাধ্যমে কাপাসিয়া উপজেলার সকল গর্ভবতী/ প্রসূতী মাকে তিনি ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবার আওতায় নিয়ে আসেন। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী সেবাসহ নিরাপদ ডেলিভারি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

এই কর্মকর্তার আরোও একটি উদ্ভাবনের নাম ‘গর্ভবতীর গয়না’। এটি মূলত ৪৪ পৃষ্ঠার একটি মা ও শিশু স্বাস্থ্য সহায়িকা। উপজেলার প্রতিটি গর্ভবতী মাকে আলাদা আইডি নম্বরসহ বিনামূল্যে এই সহায়িকা প্রদান করা হয়। এই সহায়িকায় প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সচিত্র বিবরণ রয়েছে।
জরুরি ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সকল তথ্য রয়েছে এই সহায়িকায়।
মূলত এই সহায়িকা একজন গর্ভবতী বা প্রসূতি মায়ের জন্য পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা। নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দেয়াল’। জরুরি প্রয়োজনে গর্ভবতী মায়েদের জন্য ১১০০+ স্বেচ্ছা রক্তদাতার ডাটা বেইজ তৈরী করা হয়েছে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে রক্তদাতাকে নিয়ে আসার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ছাত্র সংগঠনের সহায়তায় তৈরী করা হয়েছে ‘জরুরি রক্তদাতা পরিবহন’ ব্যবস্থা। একজন গর্ভবতী মা তাঁর গর্ভধারন থেকে শুরু করে নিরাপদ প্রসব পর্যন্ত সকল সেবা বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন। এই কার্যক্রম পরিচালনার ব্যায়ভার বহন করা হয় ‘মানবিক সহায়তা তহবিল’ থেকে। উপজেলার প্রায় ১৭০০ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের বেতন থেকে দৈনিক ০১ টাকা হারে প্রতি মাসে ৩০ টাকা নিয়মিত এই তহবিলে দান করে থাকেন।

স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে এই তহবিল পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে কাপাসিয়া উপজেলাকে একটি মাতৃমৃত্যু মুক্ত উপজেলায় রূপান্তর করেছেন এই কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে, তাঁর এই কার্যক্রম “মাতৃমৃত্যু মুক্ত কাপাসিয়া মডেল” নামে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তাঁর এই অনন্য উদ্ভাবন পরপর তিন বছর (২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০) জেলা পর্যায়ে ‘জনসেবা উদ্ভাবনী পদক’ অর্জন করে। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তার স্বীকৃতি লাভ করেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘ঢাকা বিভাগীয় ইনোভেশন শোকেসিং- ২০২০” এ অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের ৪৯ জন উদ্ভাবকের মধ্যে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক এর গৌরবময় সম্মাননা (১ম স্থান) লাভ করেন। মাতৃমৃত্যু রোধে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম কর্তৃক উদ্ভাবিত এই মডেল ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘের ‘পার্টনার্স ইন পপুলেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট’ কর্তৃক বাংলাদেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা ‘উত্তম চর্চা’ হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।

আজ সকাল ১০.৩০ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশনে পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধমে উপস্থিত থেকে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম নয়নের হাতে পদক তুলে দিবেন।

আমরা আশা করি, জয়পুরহাটের সন্তানরা একদিন গোটা বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে।
জয়পুরহাটের এই কৃতি সন্তানের সাফল্য নিঃসন্দেহে আমাদের গৌরবের অংশীদার।
আমরা আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

www.bbcsangbad24.com