আগস্ট ০৫, ২০২১,

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর দ্বীপ হাতিয়া  উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে গৃহবধূ আফসানাকে (২২) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী সোহেলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিয়া থানা পুলিশ।

বুধবার (৪ আগস্ট) সন্ধায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাতিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন একই এলাকার মোঃ সোহেল,মোঃ হক সাব,মোঃ রাশেদ ও মোঃআক্তার হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই গৃহবধূ কাজ করার জন্য চট্টগ্রামে থাকতেন।গতকাল মঙ্গলবার নিজ এলাকা নিঝুমদ্বীপ বেড়ানোর উদ্দেশে আসে এবং তার দুই বছরের বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে হাতিয়ার মুক্তারিয়াঘাট থেকে ট্রলারে রওনা করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি বন্দরটিলাঘাটে গিয়ে পৌঁছেন। ঘাটে নেমে একটি ভাড়াচালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। কিছু পথ যাওয়ার পর তার স্বামী সোহেলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলটি গতিরোধ করে তাকে নামিয়ে ফেলেন। পরে তারা গৃহবধূকে সিডিএসপি বাজারের পাশে একটি বাড়ীতে নিয়ে আটকে রেখে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সোহেলসহ সাতজন তাকে ধর্ষণ করেন।

পরে চিৎকার করলে গৃহবধূ, স্থানীয় লোকজন ছুটে  আসলে ধর্ষণকারী অন্যরা পালিয়ে গেলেও স্বামী সোহেলকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে নিঝুমদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূকে উদ্ধার করে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা।

কয়েকদিন ধরে গৃহবধূর কাছ থেকে তালাক নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকেন সোহেল। কিন্তু তার স্ত্রী রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হন সোহেল।

ভোক্তভোগীর মামা মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, তার ভাগ্নী দীর্ঘ ২ বছর ধরে দেহ ব্যবসা করে আসছেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে গিয়ে। এতে ভোক্তভোগীর মামা মোঃ নিজাম উদ্দিন সমাজের মান্যবর্গ ব্যক্তি ও মেম্বার,চেয়ারম্যানকে নিয়ে তার ভাগ্নীকে নিঝুম দ্বীপ থেকে তাড়িয়ে দেন ঘর বাড়ী ভেঙে। পরে সে চট্টগ্রাম গিয়ে সোহেলকে বিয়ে করে সেখানে ও দেহ ব্যবসায় লিপ্ত হন।

তিনি আরও বলেন মোঃ হকসাব একজন ভালো ছেলে সে কোন প্রকার আমার ভাগ্নীর সাথে খারাপ কাজ করতে পারে না। তাকে রাজনৈতিক ভাবে জড়ানো হয়েছে। সে সম্পূর্ণ নির্দোষ। সে বিবাহিত তার তিন সন্তান রয়েছে।

এছাড়াও ভোক্তভোগীর প্রথম স্বামীর মা/শ্বাশুড়ি বলেন, আমার ছোট ছেলের সাথে বিয়ে হওয়ার পর আমার ছোট ছেলের বউ বড় ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায় এবং এক বছরের মতো সংসার করে  পরে সে আমার বড় ছেলেকেও তালাক দিয়ে সোহেলকে বিয়ে করে।

আমার ছেলের বউয়ের চরিত্র ভালো না। সে সমাজে বিভিন্ন পুরুষের সাথে রাত কাটায় এবং দেহ ব্যবসা করে আসছে। গতকাল রাতে যে ঘটনা ঘটছে ঐ রাতে হকসাবকে অযথা পাশানো হয়েছে। সে কোন দিন আমার ছেলের বউয়ের সাথে খারাপ কাজ করতে পারে না। কিন্তু আমার ছেলের বউ একজন দেহ ব্যবসায়ী। সে আমার বাড়ীতে থাকা অবস্থায় অনেক ছেলের সঙ্গে আড্ডা দিতো। এ বিষয় নিয়ে আমার সাথে প্রায় সময় ঝগড়াঝাটি হতো। আমি আমার ছেলের বউয়ের উপযুক্ত বিচার চাই।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ভুক্তভোগী নারীকে তার বাচ্চাসহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহারভুক্ত ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃতদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে ও নির্যাতিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

www.bbcsangbad24.com