আগস্ট,০৭,২০২১

কাজী নজরুল ইসলাম, চাঁদপুরঃ 

আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীদের এক অর্থের যোগানদাতাকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। আটককৃত মানব পাচারকারীদের অর্থ যোগানদাতার হোতা চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বেলুতি গ্রামের ওমান ফেরত লিটন।
৭ আগস্ট শনিবার র‌্যাব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার বেলুতি গ্রাম থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। র‌্যাব-১১ এর কোম্পানী কমান্ডার (উপ-পরিচালক) মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র‌্যাব-১১ সূত্র জানা যায়, গত ৪ আগস্ট ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার গোহাইল বাড়ি এলাকার ফারুক খানের স্ত্রী মোছাঃ পারুল বেগম র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে পারুল বেগম জানান, তার আপন ভাই মোঃ জনি (২৮) বিগত দেড় বছর যাবত ওমান কর্মরত। ওমানে থাকা অবস্থায় ওমান প্রবাসী (বাংলাদেশি) মোঃ তাহের মিয়া ওরফে তুষার তার ভাইকে উন্নত জীবন যাপনের প্রলোভন দেখিয়ে তুরস্কে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে।

সেখান থেকে তার ভাই তুষারের মাধ্যমে তুরস্কে যাবার কথা বলে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। কিছু দিন পরে অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ভাইকে আটকে রেখে মারধর করে তার কাছে ভিডিও কল দেয়। তাদের কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করে, না দিলে তার ভাই কে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

অজ্ঞাত ব্যক্তিরা টাকা দেওয়ার জন্য তার কাছে একটি ব্যাংক একাউন্ট ও একটি বিকাশ নাম্বার দেয়। তাদের কথা মতো বিকাশে ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক একাউন্টে ৬০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে। তারা আরো টাকার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করে এবং অবশিষ্ট টাকার জন্য তার ভাইকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে যে, ব্যাংক একাউন্টটি চাঁদপুরের, তাই কুমিল্লা র‌্যাব অফিসে অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা অভিযোগকারীর দেওয়া ব্যাংক একাউন্টের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ব্যাংক একাউন্ট থেকে নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে শনিবার ব্যাংক একাউন্টের মালিক মোঃ লিটন, পিতা- আজমত উল্লাহ, গ্রাম- বেলুতি, থানা-মতলব দক্ষিণ, জেলা- চাঁদপুর কে আটক করে।
ওই সংঘবদ্ধ চক্রটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে প্রেরণ করে এবং মাঝখানে তাদের জিম্মি/আটক করে মারধর করে তাদের পরিবারের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

আটক লিটন ওমান প্রবাসী। সে গত ২৬ জুন বাংলাদেশে ছুটিতে এসেছে এবং পুনরায় ২৫ আগস্ট চলে যাওয়ার কথা। ওমানে সে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কাজ করে এবং এই চক্রের টাকা আদান-প্রদানের সাথে সে জড়িত। আটক লিটনের দেওয়া তথ্যমতে র‌্যাব জানতে পারে, ভিকটিম ওমানে থাকা অবস্থায় মোঃ তাহের মিয়া ওরফে তুষার নামের এক দালালের পরিচয় হয়।

তুষার ভিকটিমকে প্রথমে ইরানে পাঠায়। ইরানে সুমন নামে অন্য একজন দালাল ভিকটিম জনিকে রিসিভ করে। ইরান থেকে দালাল সুমন কর্তৃক তুরস্কে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দালাল সুমন ভিকটিমকে তুরস্কে প্রেরণ করলে তুরস্কের দালাল সাইফুল এবং রানা ভিকটিমকে রিসিভ করে। এভাবে ওমান থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। মানব পাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে।

www.bbcsangbad24.com