আগস্ট,০৭,২০২১

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানুষের মধ্যে টিকা ভীতি কাটাতে এবং মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবতা যাচাইয়ের জন্য সারা দেশের মত মুন্সীগঞ্জেও ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা গণটিকা কার্যক্রম শুরু করেছে ।

শনিবার (৭ আগস্ট) সকালে জেলার ৬ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় করোনা ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেলে তিনটা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে। ২৫ বছর বয়সী যে কেউ জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে আসলে টিকা গ্রহন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ জেলার
৬ উপজেলা ৫৫ টি ইউনিয়নে ৬৪ টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া কার্যক্রম চালু হয়েছে। একই সাথে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রেও করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ১৬জন কর্মী রয়েছে। এদের মধ্যে একজন তদারককারী, ৬ জন টিকাদানকর্মী (স্বাস্থ্য সহকারী) এবং ৯ জন স্বেচ্ছাসেবক । তবে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে পৌরসভার নিজস্ব টিকাদানকর্মীরা টিকা প্রদান করবেন। সেখানেও থাকবেন স্বেচ্ছাসেবক টিম। ৬৪টি টিকাদান কেন্দ্রে প্রাথমিক ভাবে ৪২ হাজার ৪০০ টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে কোন কেন্দ্রে যদি লক্ষ মাত্রার থেকে বেশি টিকার প্রয়োজন হয় সেজন্যও প্রস্তুতি রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ, পাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট সদস্য, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা টিকাদান কেন্দ্রে সহযোগি হিসেবে কাজ করছেন। এর বাইরে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণও টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

অস্থায়ী এই টিকাদান কেন্দ্রে টিকা প্রদানের পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত ।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের সুবিধামত স্থানে আমরা টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। যে ইউনিয়নবাসীর জন্য যেখানে করলে সুবিধা হয় সেখানেই টিকাদানের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট সদস্য, রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও ইউনিয়ন পর্যায়ে টহল দিচচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শণ করবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা প্রদানের জন্য আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সকালে নির্দিষ্ট সময়ে টিকা দান শুরু হয়েছে। ৬৮টি কেন্দ্রে আমরা ৪২ হাজার ৪০০ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদান করব। তবে যদি কোন কেন্দ্রে নির্ধারিত লক্ষমাত্রার থেকে বেশি টিকা গ্রহিতা আসেন, তাদেরকেও দেওয়ার জন্য আমাদের টিকার মজুদ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে একদিনের এই টিকাদান কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রুট লেভেলে টিকা দানের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা আমরা চিহ্নিত করতে পারব। যার ফলে পরবর্তীতে সফলভাবে এই টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য সহজ হবে।

জেলায় বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রমের অবস্থা শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ৬দিন সদর হাসপাতাল ও জেলার ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা প্রদান চলছে। এ পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জে ৮৩ হাজার ৮৪ জনকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। ৯৫ হাজার মানুষকে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের জন্য ৮ হাজার টিকার মজুদ রয়েছে।

www.bbcsangbad24.com