আগস্ট ২৫, ২০২১,

আবদুর রহিম ও রফিকুল ইসলাম

  • রাজনৈতিক পাড়াগুলো গরম  মাঠপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে
  • পুরোনো মামলাগুলোও সামনে আসছে, আটক-গ্রেপ্তারও হচ্ছে
  • মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, দলীয় দ্বন্দ্ব নিরসন, সম্মেলন নিয়ে মাঠে আ.লীগ
  • জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে থাকতে বিএনপির নির্দেশনা
  • অস্তিত্ব রক্ষায় জাতীয় পার্টির চেষ্টা  প্রেস ক্লাবে জড়ো হচ্ছেন বামরা 
  • মানুষ আর রাজনীতি নিয়ে ভাবে না -আফসান চৌধুরী, বিশ্লেষক ও গবেষক
  • সংঘর্ষ, হামলা, মামলা প্রত্যাশিত নয় -মোহাম্মদ আলী শিকদার, নিরাপত্তা বিশ্লেষক 

লকডাউন নেই! রাজনৈতিক চিত্র ফের পুরনোরূপে। সশরীরে কর্মসূচি চলছে। রাজনৈতিক পাড়াগুলো জমে উঠেছে। প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে। নেতাদের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে টেলিভিশন ও খবরের কাগজেও উত্তেজনা। মাঠপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলাগুলোও আবার সামনে আসছে। আটক গ্রেপ্তারও হচ্ছে। প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের মুখোমুখির ঘটনাও ঘটছে। অতীত ধরনে কর্মসূচি শুরু হওয়া দেশের সচেতন মহলের চোখও এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে।

অনিয়ম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি নিয়ে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। মাঠে নামার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বড় একটি অংশ। প্রতিরোধে সরকার সমর্থকরাও সক্রিয়ভাবে মাঠে অবস্থান করছে। তবে দেশের সচেতন মহল থেকে দাবি উঠেছে রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থে সক্রিয় হলেও দেশের সাধারণ মানুষ আর রাজনীতি নিয়ে ভাবে না। রাজনীতি-কর্মসূচি নিয়েও ভাবে না। তারা শুধু দুই বেলা রুটি রুজি নিয়ে ভাবে, পরিবার নিয়ে ভাবে। এক সময় মানুষের দাবি ও ভাষাগুলোই হতো রাজনৈতিক ভাষা। সেটি এখন উঠে গেছে। তাই সাধারণ মানুষও রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। রাজনৈতিক ব্যানারে থাকছে না মানুষের অধিকারের বিষয়।

আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ব্যাপকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করবে। বিশেষ করে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রচারণা করতে সেপ্টেম্বরের প্রথমদিনই নির্বাচনি এলাকায় যাবে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন, দলীয় দ্বন্দ্ব নিরসন, সম্মেলন হওয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নির্ধারণ করতে মাঠে নামবে ক্ষমতাসীন দলটির বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

এছাড়া এক সময়কার দেশের নেতৃত্ব দেয়া বিএনপিও কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় মাঠে থাকছে। যারা আগামী নির্বাচনে জনগণের মুখোমুখি হবে তাদেরকে মাঠে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কমিটিও গঠন হচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনি শক্তি বৃদ্ধিতে এখন থেকেই কাজ করতে মাঠে থাকছে। এছাড়া জাতীয় পার্টিও সরকারের বিরোধিতায় সরব থেকে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। বামপন্থি দলগুলোও স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া, নানান অনিয়ম নিয়ে আগের মতো প্রেস ক্লাবে জড়ো হচ্ছে।

রাজনৈতিক উত্তপ্ততার দৃশ্য দেখা যায় গত এক সপ্তাহে। ১৮ আগস্ট রাতে, বরিশাল নগরে উপজেলার ইউএনওর বাসভবনের সামনে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সরকার, সামাজিক, রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো আলোচনা সমালোচনা চলছে। নড়েচড়ে বসে সরকারের শীর্ষ কিছু দপ্তরও। এছাড়া গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির মহানগর উত্তরের কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হকসহ ২০ জনেরও বেশি আহত হয়। উত্তাপ শুরু হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। বেশ কিছুদিন করোনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলাগুলো আলোচনায় না আসলেও এখন ফের অতীত রূপে শুরু হয়ে। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে ১১ মামলার শুনানির জন্য আগামী ২০ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। ২৩ আগস্ট রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদসহ ছাত্রদলের তিন নেতাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর একদিন পর গতকাল দুপুরে আদালতে তোলা হলে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রদলের নেতাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া গত ২০ আগস্ট জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক সমাজের ব্যানারে সরকারবিরোধী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সমাবেশ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধের আহ্বান জানায়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জেএসডির কার্যকরী সভাপতি সা কা ম আনিসুর রহমান খান, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর ও ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, গতকাল দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ২৩ আগস্ট দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিচতলার অডিটোরিয়ামে স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী। একইদিন সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে করোনা রোগীদের ওষুধ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ২৩ আগস্ট সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিচতলার অডিটোরিয়ামে স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী। এর আগে ২২ আগস্ট সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইদিন সকাল ১১টায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আশুরা উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শীর্ষ নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ৩টায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দেন।

১৯ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগের দিন ১৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ১৭ আগস্ট সকাল ১১টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই দিন বেলা ২টায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি প্রেস ব্রিফিং করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ওইদিনই বিকেল ৪টায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী।

১৬ আগস্ট বিকেল ৪টায় শাহজাহানপুরস্থ মির্জা আব্বাসের বাসভবনে মহিলা দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল এবং গরিবদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। একইদিন বাদ আসর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের দোয়া মাহফিল হয়, সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ওইদিনই বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ১১টায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়, অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ১৪ আগস্ট বিকেলে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল হয় সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। একইদিন বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনস্থ ভাসানী ভবনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ১৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমসাময়িক দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে সরকারের সমালোচনা করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বেগম আইভি রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। ২৩ আগস্ট আইভি রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে আইভি রহমান পরিষদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ এবং তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

২১ আগস্ট সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে বেদিতে শ্রদ্ধা জানান দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত ১৯ আগস্ট ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তর ঢাকা কেন্দ্র ও ইআরসির যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। গত ১৮ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে যুব মহিলা লীগ। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপুমনি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

গত ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্মরণ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। স্মরণ সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যার সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। এর আগের দিন ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক আফসান চৌধুরী আমার সংবাদকে বলেন, করোনা দুই-তিন বছরের আগে যাবে বলে মনে হয় না। তাই রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে করোনার বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, দুটি রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ভাবছে। দেশের সাংবাদিকরাও রাজনীতি নিয়ে ভাবছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ আর রাজনীতি নিয়ে ভাবে না। রাজনীতির কর্মসূচি নিয়েও ভাবে না। তারা শুধু দুই বেলা রুটি রুজি নিয়ে ভাবে, পরিবার নিয়ে ভাবে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, সরকার লকডাউন খুলে দিয়েছে। এখন আর লকডাউন নেই, বিধিনিষেধ নেই। ফলে সশরীরে রাজনৈতিক কর্মসূচি তো শুরু হবেই। যেহেতু করোনার কারণে দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতি ছিলো না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে কিন্তু সংঘর্ষ, হামলা, মামলা প্রত্যাশিত নয়।

www.bbcsangbad24.com