নভেম্বর ২২, ২০২১,

নিজস্ব প্রতিবেদক

উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌর মেয়ররা জেলা পরিষদের সদস্য হবেন। সোমবার (২২ নভেম্বর) মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে জেলা পরিষদ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যোগ দেন।

জেলা পরিষদের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলায় একজন চেয়ারম্যান, ১৫ সদস্য ও ৫ মহিলা সদস্য অর্থাৎ মোট ২১ সদস্যের পরিষদ রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনে জেলার প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে সদস্য এবং সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল। ১৭ উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা জেলা। আবার তিনটি উপজেলা নিয়ে রয়েছে নড়াইল জেলা।

প্রস্তাবিত সংশোধনের যুক্তিতে বলা হয়েছে, ছোট আয়তনের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য যে খরচ সরকার দেয়, বড় আকারের জেলার জন্যও তাই দিতে হয়। কিন্তু ছোট আকারের জেলাগুলো থেকে তেমন রাজস্ব আদায় হয় না। তাই প্রত্যেক জেলায় উপজেলা অনুযায়ী একজন করে সদস্য এবং সেই অনুযায়ী নারী সদস্য সংখ্যা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে আইনের ১৭(১)(২) ধারাও সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনের ৪৯, ৩৩, ৩৭ নম্বর ধারায়ও কিছু সংশোধন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, পরিষদ গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারের নিয়োগ পাওয়া প্রশাসক দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু পরিষদ গঠনের পর মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচিত পরিষদের প্রথম বৈঠক পর্যন্ত বিদ্যমান পরিষদকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। আইনটি সংশোধন হওয়ায় এ সুযোগ আর থাকছে না।

বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইনের মোট আটটি ধারায় সংশোধন আনার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। জেলা পরিষদ আইনের ৩৯(১) উপধারার নিয়মানুযায়ী ‘সচিব’ পদ নামটি থাকছে না। বিদ্যমান নিয়মানুযায়ী জেলা পরিষদে উপসচিব মর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব পদে একজন কর্মকর্তাসহ অন্যরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রস্তাবিত সংশোধনে ‘সচিব’ পদবির পরিবর্তে ‘নির্বাহী কর্মকর্তা’ পদবির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৈঠকে উন্নয়নসহ অন্যান্য সার্বিক কার্যক্রম করোনা ভাইরাস মহামারির আগের স্বাভাবিক অবস্থায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যেহেতু কোভিড সংক্রমণের দুই বছর হয়ে গেছে সেজন্য আমাদের একটা প্রটোকলও ডেভেলপ হয়ে গেছে। সুতরাং সবাইকে আরেকটু অ্যানহ্যান্স কাজ করে আমাদের ব্যাকলক যদি থাকে, ডেভেলপমেন্ট ফেইজটা আগের মতো নিয়ে যেতে হবে। শুধু ডেলেলপমেন্ট না সব ধরনের কাজকর্ম। যাতে আমাদের গ্রোথ রেটসহ সবকিছু কোভিডের আগে যে রকম ছিল সেখানে নিয়ে যেতে পারি।

তিনি বলেন, সব খাতকেই, যে ভাল করেছে তাকেও বলা হচ্ছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতুতে যান চলাচল ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে শুরু হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কোভিড মহামারির কারণে এবারও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে গণভবনের অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০২০-২১ অর্থবছরের কার্যাবলি সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

www.bbcsangbad24.com