নভেম্বর,২২,২০২১

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: 

মুন্সিগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় একজন নিহত ও গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চরকেওয়ার ইউনিয়নে নৌকার সমর্থকদের ওপর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের রোববার (২১ নভেম্বর) রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ইউনিয়নের খাসকান্দি ও ছোট মোল্লাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নৌকা প্রতীকের পাঁচ সমর্থক। তাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো কয়েছে। অন্য দুইজন মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া আরো ৫জন মারধরে আহত হয়েছে বলে জানাগেছে।ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আগামী ২৮শে নভেম্বর ওই ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হাজী আফছার উদ্দিন ভূঁইয়া এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান জীবনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছিল । রোববার রাতে স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান জীবনের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায় নৌকার প্রার্থী আফসার উদ্দিন ভূইয়ার সমর্থকদের ওপর। এ সময় হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ করে। ভাঙচুর চালায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। হামলায় নৌকার সমর্থক শরীফ, সাইফুল, বাবু হালদার, মনির ও রমজান গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। এসময় আতঙ্কে স্ট্রোক করে নৌকা সমর্থক আব্দুল হক নিহত হয়েছে। আর গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

নিহত আব্দুল হকের স্ত্রী কল্পনা জানান,তারা রোববার রাত আটটার দিকে ঘরের ভিতর অবস্থান করছিলেন। সে সময় বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের মোঃ আখতারুজ্জামান জীবনের নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহীনির প্রধান সামসুদ্দিন হাওলাদার মামুন ও তার স্ত্রী জেসমিনের সন্ত্রাসী বাহীনি একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তাদের ঘরে ডুকে তাঁর স্বামীকে গলা চেপে হত্যা করেন।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গুলিবিদ্ধ ইউসুফ ও সানি জানান,তারা বিস্ফোরণের শব্দে ও হামলার ভয়ে দৌঁড়ে পালাতে গেলে তাদের ওপর গুলি ছুঁড়ে মামুন-জেসমিনের সন্ত্রাসীরা।

নৌকার প্রার্থী আফসার উদ্দীন ভুঁইয়া বলেন,বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের আখতারুজ্জামান জীবন গ্রামে অর্তকিত হামলা চালিয়ে তার নৌকা সর্মথকদের গ্রাম থেকে বিতারিত করতে এসব হামলা চালিয়েছেন। রাত একটার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আসা গুলিবিদ্ধ শরিফ বেপারী,বাবু হাওলাদার ও সাইফুলসহ পাঁচজন হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসে। তবে আফসার উদ্দিন ভুঁইয়া দাবি করেন জীবনের লোকেরা গুলি করে তাঁর সমর্থিত কমপক্ষে ১০ জনকে আহত করেছেন। অবস্থার অবনতি দেখে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের মধ্যে ৩ জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

 

মুন্সিগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোহাগ জানান, নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো গুলি বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাঁচজন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। অন্য দুজনের চিকিৎসা চলছে।

সদর থানার তদন্ত ওসি রাজীব খাঁন বলেন, ঘটনা স্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান তিনি।

www.bbcsangbad24.com