দেশ ও মানুষের কথা বলে

চাঁদপুরে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায়, সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন মা

ফেব্রুয়ারী,০৬,২০২২
জয়নাল আবেদীন জয়, চাঁদপুর:
হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নিজের নবজাতক সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন এক অসহায় মা।ঘটনাটি ঘটেছে, চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলায়। অসহায় ওই নারীর নাম তামান্না বেগম(২৮)। ৫(পাঁচ) বছর আগে উপজেলার হানিরপাড় গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেনে না নেওয়ায় ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। ৩য় সন্তানের ডেলিভারীর সময় হলে তাহার স্বামী টাকা জোগাড় না করতে পেরে চলে যান। কয়েক দিন ফোন বন্ধ করে বাসায় ও আসেননি। এর মধ্যে তামান্না বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তার মা ও স্বাজনরা মিলে স্থানীয় উপজেলার ছেঙ্গারচর বাজারে অবস্থিত পাল্স এইড হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ভর্তি করান। উক্ত হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান জন্ম নিলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নিজ সন্তানকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন অসহায় তামান্না বেগম।
এই বিষয়ে অসহায় তামান্না বেগম জানান, হাসপাতালের অপারেশনের পরপর টাকা চাওয়া হয়। আমি গরিব মানুষ টাকা দিব কোথা থেকে, আরেক জন আমাকে বিনা মূল্যে রক্ত দিলেও হাসপাতালে রক্তের বিল ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। সব মিলে অপারেশন ঔষধ পত্র এবং আনুষাঙ্গীক খরচ নিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বিল চাওয়া হয়। কাহারো কথায় আমি সন্তান বিক্রি করি নাই। যখন হাসপাতালের বিল ও নিজের চিকিৎসা খরচ বহন করিতে পারছিলাম না, তখনই সন্তান বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেই। পরে হাসপাতালের একজনের সঙ্গে কথা বলে ৫০ হাজার টাকায় আমার সন্তানকে বিক্রি করি। কিন্তু এখন আমার স্বামী তাহার সন্তান দেওয়ার জন্য আমাকে চাপ সৃষ্টি করে। তা না হলে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও হুমকি দিচ্ছেন। তখন টাকার জন্য সন্তান বিক্রি করলেও এখন আমার সন্তানের জন্য কষ্ট হচ্ছে। আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই।
এই বিষয়ে হাসপাতালের প্রতিনিধি লিমন সরকার জানান, বাচ্চা বিক্রির বিষয়ে আমরা অবগত নই।
এই ব্যপারে মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান ও থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান কামাল বলেন, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেও কোন অভিযোগ করেন নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.