দেশ ও মানুষের কথা বলে

‘আগামী নির্বাচন হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে’

মার্চ ১৬, ২০২২,

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ছিলেন একজন বিরল ব্যক্তিত্য। তিনি শুধু একজন মহাসচিব, চীফ হুইপ কিংবা একজন পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন না, তিনি ছিলেন অকুতভয় রাজনীতিবিদ। ১/১১ এর সময়ে  বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তিনি যে উদাহরণ সৃষ্টি  করেছিলেন বাংঙ্গালী জাতি তা কোনোদিন ভুলবে না।

বুধবার (১৬মার্চ) দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পাঁচুরিয়া মসজিদ প্রাঙ্গনে খোন্দাকার দেলোয়ার হোসেনের ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির ঊক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিএনপি’র ক্লান্তিলগ্নে মহাসচিব থাকাকালীন যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা রাজনীতির ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

তিনি বলেন, ১/১১ এর সময়ে অরাজনৈতিক শক্তি যখন দেশের গোটা রাজনীতিকে ধ্বংস করার মহা পরিকল্পনায়  ব্যস্ত যখন তিনি রাজনৈতিক দুরদর্শীতা ও প্রঞ্জা দিয়ে সেই মহাসংকট কাটিয়ে দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রানপন চেষ্টা করেছিলেন। আজ সেই মহান ব্যক্তিত্বে ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করে তার বিদেহী অত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, বর্তমান অনির্বাচিত আ’লীগ সরকার দেশকে দুর্নীতির অভয়রণ্যে পরিনত করেছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিকি দল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বার বার নির্বাচিত প্রধানমত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি না দিয়ে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশান্তরিত করে দেশে একটা অরাজকতা সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করতে ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নজীর সৃষ্টি করেছে বর্তমান আ’লীগ সরকার। তারা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলম সহ ৬শ’ নেতাকর্মীকে গুম করে দেশে-বিদেশে কালো অধ্যয় রচনা করেছে। সরকার দলীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সহ সকল পণ্য-সামগ্রীর দাম আকাশচুম্বী হয়ে দাড়িয়ে। বর্তমানে সরকারের কোন জবাবদিহিতা নেই। তারা যখন যা খুশি তাই করে যাচ্ছে। দেশের মানুষ এই সরকারের জুলুম-অত্যাচার, নির্যাতন-নীপিড়ন থেকে মুক্তি চায়। এই পরিস্থিতি থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে গন-আন্দোলনের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন,  বিএনপি সবসময় দেশে ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আন্দোলন সগ্রামের মাধ্যমে বর্তমান অনির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে একটি সুষ্টু নির্বাচনের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক আদর্শকে ধারন করে সরকার পতন আন্দোলনে সকলের সক্রিয় অংশ গ্রহনের প্রত্যাশা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে না। নির্বাচন হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এটাই দেশের মানুষের একমাত্র দাবী।

এসময় দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এ্যাডভোকেট জামিলুর রশীদ খান, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির, বিএনপি কেন্দ্রী কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জেলা বিএনপির সদস্য এ্যাড: খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু, এ্যাড আজাদ হোসেন খান, খোন্দকার আক্তার হোসেন জগলু, খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, মোতালেব হোসেন, সত্যেনকান্তপন্ডিত ভজন, এ্যাড মাকসুদুর রহমান মুকুল, এ্যাড শামসুল হক, নাসির উদ্দিন আহমেদ যাদু, তোজাম্মেল হক তোজা,শামীম আল মামুন, কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ,গোলাম রফি অপু, শরীফ ফেরদৌস, শওকত জাহাঙ্গীর রানা, মাসুদ পারভেজ, সেলিম বিন আরশেদ, জিয়াউদ্দিন কবীর, এ্যাড: মনোয়ার হোসেন, তুহিনুর রহমান তুহিন  রফিক উদ্দিন হাবু ভুইয়া, খোন্দকার  তুহিন, আওলাদ হোসেন, সজিব, জ্যাকি, হায়দার, মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.