দেশ ও মানুষের কথা বলে

মতলব দক্ষিনে জেলেদের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম‌্যান -মেম্বারের বিরুদ্ধে

মার্চ,১৬,২০২২

জয়নাল আবেদীন জয়, স্টাফ রিপোর্টারঃ-

এবার জেলেদের চাউল গেলো বাবার দরবারের মাহফিলে। চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মৃধা (মামুন) নিজেই দিয়েছেন বলে জানান একই ইউনিয়নের শাহ আলম মেম্বার। তাছাড়াও জেলেদের চাউল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এবার দেখা গেল হত-দরিদ্র জেলেদের ৫০ কেজির একটি বস্তা অটোমিশুকে করে শাহ আলম মেম্বার নিজেই দ্রsত ছুটছেন। আমরা রাস্তা দেখা হলে শাহ আলম মেম্বারের সাথে তিনি অটোরিকশা দাঁড় করালে চাউল নিয়ে কোথায় যান বললে তিনি বলেন, আমার গ্রামের স্থানীয় একটি বাবার দরবার শরিফে মাহফিল হবে তাই চেয়ারম্যান সাহেব দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২নং দক্ষিণ নায়েরগাও (দক্ষিণ) ইউনিয়নে। প্রকৃতপক্ষে একজন জনপ্রতিনিধি যদি মসজিদ, মাদ্রাসা বা বাবার দরবারের মাহফিলে কিছু শরিক হন তাহলে নিজের টাকায় তাহা কিনে দিতে হবে। তিনি তা না করে হত দরিদ্র জেলেদের চাউল থেকে ৫০ কেজি চাউল দিয়ে নিজেই শরিক হলেন। এটা কি আইনের বহির্ভুত বিষয় নয়? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৪ মার্চ সোমবার সকাল থেকে ওই ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ৯৩৫ জন জেলে হলেও ৭০ জন জেলে মৃত ও প্রবাসি হিসেবে তালিকার চাউল পায়নি। ফলে ৮৬৫ জন জেলেদের দুইবারের ৪০ কেজি করে ৮০ কেজি চাউল বরাদ্ব করা হয়। সেখানে জেলেদের ৮০ কেজি বুঝিয়ে দিতে ৩০ কেজি করে দুইটি বস্তা ও খোলা ২০ কেজি দেয়ার কথা থাকে। সেখানে সকাল বেলায় ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার রাব্বানী উপস্থিতি থেকে জনপ্রতি জেলেদের দুই বস্তায় ৬০ কেজি দিয়ে পাঠিয়ে দেন। এতে করে উপস্থিত কিছু জেলে প্রতিবাদ করলে, বিষয়টি মতলব নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানার অফিসার ইনচার্জ জানতে পারেন।

জেলে কার্ড গ্রহিতা মোঃ কাউসার পিতা মনসুর আলী, গ্রাম টেমাই ৭নং ওয়ার্ড তার সাথে আরো দুইজন বলেন, আমাদের তিনজনকে মোঃ শাহ আলম মেম্বার ৩০ কেজি ওজনের ৭ বস্তা চাল দিয়েছে বাকি ১ বস্তা দেয় নাই। তাৎক্ষণিক আমাদের এই প্রতিবেদক চেয়ারম্যানকে অবগত করলে তিনি আরেক বস্তা চাউল দেবার নির্দেশ দেন মেম্বারকে। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতির টের পেয়ে বেশ কয়েকজন জেলেদের বাকি চাউল বুঝিয়ে দেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন। তবে সরকারি নিয়মে চাউল বিতরণকালীণ একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ থাকলেও ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায় নি কাউকেই।
জেলেদের মধ্যে চাউল বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে চাউল কম দেবার হট্টগোল শুনে মতলব থানার এস আই রুহুল আমিন ঘটনাস্থল পৌঁছার আগেই ৮নং ওয়ার্ড মেম্বারসহ জেলেরা চলে যান।

এদিকে ৩০ কেজি চাউলের বস্তায় ২-৩ কেজি করে কম আছে বলে আমাদের কয়েকজন জেলেরা জানান। বিস্তারিত বিষয়ে চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মৃধা মামুনের সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, সব সময় ৮নং ওয়ার্ডের জেলেরা ঝামেলা করে, তবে মেম্বার ভুল বশতঃ চাউল কম দিলেও আমি সকলকে ডেকে চাউল দিয়েছি।

মূলত বিষয় হচ্ছে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সুবিধা থেকে ওই সকল জনপ্রতিনিধি নামধারী সেবকদের কারনে সরকারি ত্রাণ থেকেও বঞ্চিত হবার পথে। সরকার মানুষের ন্যায্য অধিকার দিয়ে হত-দরিদ্র পরিবারসহ জেলে পরিবারের মুখে আহার তুলে দিচ্ছেন। সেখানে সেই আহার কাদের পকেটে বা পেটের ভেতরে চলে যাচ্ছে। তা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখা দরকার বলে ভুক্তভোগী জেলেরা দাবি করেন।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.