দেশ ও মানুষের কথা বলে

মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে টলার ভিড়লেই স্বজনদের খোঁজে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ

মার্চ,২১,২০২২

প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ-

শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গোর ধাক্কায় মুন্সিগঞ্জের যাত্রী বোঝাই লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে ভিড় করছে মানুষ ‌। লঞ্চঘাটে যখনই কোন টলার ভিরছে  স্বজনদের খুঁজে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ।

কেউ কেউ আবার স্বজনদের খোঁজে টলার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন লঞ্চ ডুবির স্থান নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে। স্বজনদের খুঁজে না পেয়ে ফিরছেন আবার লঞ্চঘাটে। স্বজনদের অভিযোগ পর্যাপ্ত ডুবুরি লঞ্চ উদ্ধারে কাজ করলেও লঞ্চের ভেতর হতে লাশ ঠিকমতো উত্তোলন করছে না ।

উত্তর ইসলামপুরের রায়হান জানান,  আমার গ্রামের ৩ জন মারা গেছে। তাদের খুঁজে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম । লাশ উদ্ধার হয়েছে কিন্তু এখনও আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

ঘটনাস্থল হতে ফিরে আসা ওপর আরেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবক বলেন, লঞ্চ উদ্ধারে অনেক ডুবুরিদল কাজ করছে । কিন্তু তারা লঞ্চ ডুবে থাকা লাশ ঠিকমতো উদ্ধার করছে না।

ডুবে যাওয়া লঞ্চ হতে জীবিত ফেরা হাসপাতালের কর্মী মোকসেদা বেগম বলেন,আমাদের লঞ্চটা সামনে ছিল। পিছনে বড় একটা জাহাজ ছিল। পিছন থেকে ওই জাহাজটা আমাগো লঞ্চরে  ধাক্কা দিলো। এভাবে ১০ মিনিট পর্যন্ত ধাক্কা দিতে দিতে সামনে লইয়া যাইতাছিল। এরপর লঞ্চের পশ্চিম পাশে পানি উইঠ্ঠা আমাদের লঞ্চটা চোখের সামনে ডুইব্বা গেল। এভাবেই ডুবে যাওয়া লঞ্চ দুর্ঘটনার বর্ণনা দেন  এমবি আশরাফউদ্দিন লঞ্চের যাত্রী, খানপুর । মোকসেদা বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার গণকপাড়া এলাকায়।

তিনি আরো বলেন,ডুবন্ত লঞ্চ থেকে আমি লাফাইয়া পানিতে পড়লাম। আমি পানিতে তলাইয়া যাইতাছিলাম কোন রকম সাতরাইয়া পানির উপর ওঠি। এর পর একটা বস্তা ধইরা ভাইসা ছিলাম।চোখের সামনে ছোট বাচ্চা,মহিলা কত মানুষ তলাইয়া গেলো.. বলেই আহাজারি করতে থাকেন মোকসেদা।

আরেক যাত্রী সজীব মাহমুদ বলেন আমি তেজগাঁও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্র। সামনেই আমার ফাইনাল পরিক্ষা। এজন্য তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন প্রবেশপত্র আনতে। দুপুর ১ঃ৫৮ মিনিটের দিকে তাদের লঞ্চ নারায়ণগঞ্জ  থেকে ছাড়ে। তার ভাষ্যমতে লঞ্চের উপরে-নিচে ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো যাত্রী ছিল। রোদের কারণে সব যাত্রীরা কেবিনে এবং নিচতলায় ছিল। তিনি একমাত্র লঞ্চের বাহিরে ছিলেন। তাদের লঞ্চটি কয়লা ঘাট এলাকায় আসার পর পেছন থেকে কার্গো জাহাজটি ধাক্কা দিতে থাকে। তিনি তখনই,প্রবেশপত্র,বই- খাতাসহ পানিতে ঝাঁপ দেন। তার সাথে আরও কয়েকজন ঝাঁপ দেয়। পরে তারা নদীতে নোঙর করে থাকা বাল্কহেডে উঠেন।
তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, কার্গো জাহাজ লঞ্চকে ধাক্কা ধাক্কা দিতে দিতে কাত করে ফেললেন। এক পর্যায়ে লঞ্চটির চোখের সামনে ডুবে গেল। ভাগ্যগুণে বেঁচে ফিরলাম। আমার সাথে লঞ্চে উঠা কত মানুষ ছিল। তারা মরে গেল। তিনি আরো বলেন, গত বছর ও এ নৌপথে লঞ্চ ডুবে কত মানুষ মরলো। এবারও দুর্ঘটনা ঘটলো।নারায়ণগঞ্জ- মুন্সিগঞ্জ নৌ-পথে দুর্ঘটনা ঘটছে। মুন্সিগঞ্জের মানুষ মরে যাচ্ছে। নৌপথ সুরক্ষিত করতে প্রশাসন থেকে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোহাম্মদ হাসিব সরকার  বলেন,দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চে যাত্রীরা অধিকাংশই মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা বলে শুনেছি। ঘটনা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। সেই সাথে জরুরী কেউ আহত থাকলে তাদেরকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের একটি দল মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে রাখা হয়েছে। নৌ পুলিশ ও তৎপরতা চালাচ্ছে।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.