দেশ ও মানুষের কথা বলে

অফিসে বসেই ধূমপান করেন ইউপি চেয়ারম্যান!

মার্চ,২৩,২০২২

তুষার আহাম্মেদ,মুন্সীগঞ্জ:

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাইফুল ইসলাম যুবরাজ বিরুদ্ধে পরিষদের অফিসে বসে প্রকাশ্যে ধূমপানের অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা স্থানীয় লোকজনের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ২২ মার্চ দুপুর আড়াইটার দিকে বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম যুবরাজের প্রকাশ্যে ধূমপানের চিত্র চোখে পড়ে। এসময় দেখা যায়, চেয়ারে বসে বাম হাতে জ্বলন্ত সিগারেট ধরে আছেন এবং ডান হাত দিয়ে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিষদ সংলগ্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, তিনি শুধু অফিস কক্ষেই নয় পরিষদে সেবা নিতে আসা লোকজনের সামনেও প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। পরিষদ একটি পাবলিক প্লেস সেখানে ধূমপান করা অন্যায়। এতে সেবা নিতে আসা জনসাধারণ বিব্রতবোধ করে দ্রুত পরিষদ ত্যাগ করে চলে যাওয়াকেই ভালো মনে করেন। পরিষদের অফিস কক্ষে প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে আগত জণসাধারণের ক্ষতি হলেও কিছু যেন করার নেই! ২০১৩ সালে পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশোধিত আইনে সরকারি-বেসরকারী কার্যালয়সহ ২৪ ধরণের স্থানকে পাবলিক প্লেস ঘোষণা দিয়ে সেসব জায়গায় ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। অথচ বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাইফুল ইসলাম যুবরাজ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রায় প্রত্যেকদিন পরিষদে বসেই ধূমপান করে আসছেন। এছাড়া স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে করুচিপূর্ণ আচরণ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অভিযোগ রয়েছে বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাইফুল ইসলাম যুবরাজের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজদিখান উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মধ্যে তিনিই একমাত্র বদ মেজাজি চেয়ারম্যান হিসেবে সর্বস্তরে পরিচিতি লাভ করেছেন। জিনি আত্ম অহমিকা, বেশামাল কথাবার্তা, সাধারণ মানুষকে অবমূল্যায়ন, অন্যের সম্পত্তি জবর দখল ও নির্বাচনি মাঠে আইনশৃংখলা পরিস্থতির অবনতি ঘটার মত বক্তব্য দিয়ে দেশব্যাপী সমালোচিত হয়েছেন। ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে কর্মী সভায় চেয়ারম্যানের নির্বাচন করে কোন কর্মী মারা গেলে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর স্থানীয় পত্রপত্রিকাসহ দেশের প্রথম শারির পত্রিকা থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে তার বিরুদ্ধ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাইফুল ইসলাম যুবরাজের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল আলম তানভীর জানান, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন আইন নেই! তবে আমি তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করবো যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ তিনি আর না করে।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.