দেশ ও মানুষের কথা বলে

উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষিত

মার্চ ২৭, ২০২২,

শরিফ রুবেল:

দুধে ভেজাল, পানিতে দূষণ, ফুটপাত দখল, বাজার নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, নদী-দখল ও দূষণ রোধ, বিভিন্ন আইনের ধারা সংশোধন, খাদ্যপণ্যে ফরমালিন মেশানো এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে জনস্বার্থে মামলা হচ্ছে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এ ধরনের মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চ আদালত প্রায়ই বিভিন্ন আদেশ, রায় ও নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তবে উচ্চ আদালতের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয় না। উপেক্ষিতই থেকে যায় গুরুত্বপূর্ণ সব আদেশ।

রুল জারির পর বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও রুলের জবাব মেলে না। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন খুব একটা দেখা যায়নি। আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বাস্তবায়নকারি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, নিষ্ক্রিয়তা ও অবহেলাকে দায়ী করছেন বিচার-সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রায় হলে তা কার্যকর হচ্ছে কি-না, সে বিষয়েও নেই কোনো তদারকি। আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধেও নেই শাস্তির ব্যবস্থা। ফলে বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব রায়ের শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

তারা বলছেন, রাজনৈতিক মদতপুষ্ট প্রভাবশালীদের কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আদালতের নির্দেশনা তামিল করা সম্ভব হয় না। যত প্রভাবশালীই হোক, নির্দেশনা অমান্যকারীদের আইনের আওতায় আনারও পরামর্শ দেন তারা।

তবে বিচার-সংশ্লিষ্টরা দুষছেন নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, আদেশ বাস্তবায়ন সন্তোষজনক নয়। রায় উপেক্ষিত হলে আদালত অবমাননার রুল দিয়েও কাজ হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের অসহযোগিতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে গত ১০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানে  ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনও জনস্বার্থ মামলার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে জনস্বার্থে হাইকোর্ট যুগান্তকারী কিছু রায় দিয়েছেন। কিন্তু আমি বিচারকদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই, আপনারা কখনো কি দেখেছেন রায়গুলো কার্যকর করা হয় কি-না? এখানে প্রধান বিচারপতি রয়েছেন, আমি মনে করি জনস্বার্থে দেয়া রায়গুলো পালিত হচ্ছে কি-না, তা রিপোর্টিংয়ের জন্য একজন বিচারপতির নিয়ন্ত্রণে একটি সেল থাকা দরকার।’ জবাবে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদে আছে, দেশের নির্বাহী বিভাগসহ সবাই সুপ্রিম কোর্টের এইডে (সহায়তা) কাজ করবে। যেখানে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে কাজ করার জন্য, সেখানে কেন আবার আমাদের আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করতে হবে? রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব হলো সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা। আমরা কনটেম্পট (আদালত অবমাননা) করতে পারি। কনটেম্পট করে করে আমরা হয়রান। কারণ কনটেম্পট করেও আমাদের রায় ঠিক যেভাবে কার্যকর হওয়ার কথা, সেভাবে কার্যকর হচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখের বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের যেসব রায় যাচ্ছে, আশা করি নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রতিটি রায় বাস্তবায়িত হবে।’

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না বলেই জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই তারা জনস্বার্থে মামলার দিকে বেশি ঝুঁকছে। ফলে এসব মামলা করে উচ্চ আদালতের রায়ের পর জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে। তবে এফিডেভিট হওয়া রিটের একটি বিরাট অংশ হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। আবার যেসব রিটে রুল জারি হয় সেগুলোর বেশির ভাগেরই শেষ পরিণতি কনটেম্পটে বা আদালত অবমাননায় গিয়ে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা জানান, রুল নিষ্পত্তি হলেও হাইকোর্টের সেই আদেশ বা রায় মানা হয় না।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মে পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে ১১ হাজার ২০৭টি রিট করা হয়েছে। এর মধ্যে রুল জারি হয়েছে চার হাজার ৬০৯টির। ২০২০ সালে রিট হয়েছে ৩৬ হাজারের কিছু বেশি এবং এসব রিটের মধ্যে রুল জারি হয়েছে ১৬ হাজার ৩০৬টিতে। এ ছাড়া ২০১৯ সালে প্রায় ৪০ হাজার রিটের বিপরীতে রুল জারি হয়েছে ২৬ হাজারটিতে। সুপ্রিম কোর্টের দেয়া তথ্য মতে, দুধে ভেজাল, পানিতে দূষণ, পরিবেশ দূষণ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, নদী দখল ও দূষণ রোধ, খাদ্যপণ্যে ফরমালিন মেশানো এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে জনস্বার্থে একের পর এক মামলা হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশএ-ইচআরপিবি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-ব্লাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলা, চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কিছু সংগঠন এ ধরনের মামলা করছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকজন আইনজীবী ব্যক্তিগতভাবেও এ ধরনের মামলা করে থাকেন।

যেসব রায়ের বাস্তবায়ন হয়নি :
১. চিকিৎসকদের দুর্বোধ্য প্রেসক্রিপশন না লিখতে ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি রুল ও নির্দেশনা জারি করেন হাইকোর্ট। অথচ গত সাড়ে তিন বছরেও হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদাসীন চিকিৎসকরা। আগের মতোই তারা দুর্বোধ্য অক্ষরে প্রেসক্রিপশন লিখে চলেছেন অধিকাংশ চিকিৎসক। যেন এ বিষয়ে কখনো কিছু বলেইনি হাইকোর্ট।

২. ২০০১ সালে ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, দখলদারদের দৌরাত্ম্যে অধিকাংশ ফুটপাতই হাঁটার অনুপযুক্ত। ফুটপাতগুলোতে অবাধে চলছে ব্যবসা। অথচ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ীও রাস্তায় বা জনগণের চলাচলের জায়গায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৩. বেতন-ভাতায় বৈষম্যের প্রতিকার চেয়ে ২০১৮ সালে রাশেদুল ইসলামসহ কয়েকজন বিসিএস কর্মকর্তা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে আদালত রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে সেটি নিষ্পত্তি করে দেন। কিন্তু রায় প্রকাশের তিন বছর পেরিয়ে গলেও মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন রিটকারী।

৪. এক দশকের বেশি সময় ধরে বেতনের উচ্চতর ধাপে যেতে না পেরে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন এক হাজার ১৩ জন চিকিৎসক। আদেশে আদালত রায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে তাদের সে সুযোগ-সুবিধা দিতে বলেন। মন্ত্রণালয় পরে আপিল করলেও তা টেকেনি, কিন্তু চিকিৎসকদের ফাইলটিও নড়েনি।

৫. ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-আইএনএসটির বেশ কয়েকজন চিকিৎসক রিট করেছিলেন তাদের নির্ধারিত সময়ে পদোন্নতির বিষয়ে। এই রিটে হাইকোর্ট চিকিৎসকদের পক্ষে রায় দেন, যা পরে আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। কিন্তু পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেই আদেশ তোয়াক্কা না করায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়। এই মামলায় আপিল বিভাগ বেশ কয়েকবার আদেশ দিলেও কাজ হয়নি। এখনো মামলাটি চলমান।

৬. ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিপন্ন চার নদী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা রক্ষায় সীমানা চিহ্নিত করে পিলার স্থাপন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদী খনন ও পলি অপসারণ এবং নদীর তীরে গাছ লাগানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ২০০৯ সালে ওই রায়ের পর পেরিয়ে গেছে এক যুগ। এত দিনেও রায় পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু ২০১২ সালের এই রায় এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

৭. শব্দদূষণ রোধে করা এক রিটের রায় সারা দেশে গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট; কিন্তু তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। যানজট ও ধুলাবালুর এই ঢাকা শহরে গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণ ও পরিবহনের সময় পথচারীরা দুর্ভোগে পড়ে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৮ নির্দেশনা দেন। কিন্তু ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন তা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

৮. ঢাকার চারপাশের নদীর রক্ষণাবেক্ষণ, মহাস্থানগড় সংরক্ষণ, শহীদ মিনারের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের কাছ থেকে ভ্যাট ও ইউজার ফি আদায় বন্ধ, পেপার স্প্রে নিষিদ্ধসহ জনগুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় কৃষিজমি দখল ও পরিবেশ দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ এবং শিল্প কারখানার পরিবেশ দূষণ ও কৃষিজমি দখলের কারণে এ পর্যন্ত ওই এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৯. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশের কবরটি ঠিক রেখে সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ভেঙে ফেলতে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী-সিভিল ডিভিশন, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও শাহবাগ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গুলশান লেকের পাশে বিটিসিএলের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ বস্তিও উচ্ছেদ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। খাদ্য ও পোশাকে বিষাক্ত ও রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো ঠেকাতে মাছ, মিষ্টির দোকান এবং পোশাক কারখানাগুলো তদারকিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

১০. রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা সরাতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ ফরমালিন ও রাসায়নিকযুক্ত খাদ্যদ্রব্য আমদানি নিষিদ্ধের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের কাছ থেকে ইউজার ফি হিসেবে অর্থ আদায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

১১. কক্সবাজারের কলাতলি থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত ২০টিরও বেশি থ্রি স্টার ও ফাইভ স্টার মানের হোটেল, ছোট-বড় আরও হোটেল-মোটেলে পরিবেশ বিপন্নের কারণ দেখিয়ে ২০১০ সালে লিজগুলো বাতিল করে ভাঙার নির্দেশ দেন সরকার। তবুও সরানো যায়নি দখলকারীদের। উপায়ন্ত না দেখে এ নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক রিট হয়। পাঁচটি রিটের চূড়ান্ত রায়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেলের ইজারা বাতিল করে সেগুলো গুঁড়িয়ে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও ওই রায় বহাল রেখে ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর আদেশ দেন। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের কাজ হয়নি। এখনো রায় বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে উপেক্ষিতই থেকে গেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা।

এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, প্রশাসন এবং জনগণ সবাই উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানতে বাধ্য। জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না তা তদারকি করার জন্য কোনো মনিটরিং সেল নেই।

অন্যদিকে আদালতের রায় ও আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এ ছাড়া নির্বাহী বিভাগে প্রশাসনিক সংস্কার না হওয়ায় ব্যক্তিস্বার্থে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনকে ব্যবহার করা হয়। এ জাতীয় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলার রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘রায় বাস্তবায়ন না হলে সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা যায়। এছাড়া যে কেউ আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করতে পারেন। কারণ সুপ্রিম কোর্ট একটি রায় দিলে সেটি ‘পাবলিক ডকুমেন্ট’ হয়ে যায়। মনজিল মোরসেদ মনে করেন, কর্তৃপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরি না হলে এবং প্রশাসনকে জনস্বার্থ মামলার নির্দেশনা কঠোরভাবে পালনে উদ্বুদ্ধ করা না গেলে কোনো চেষ্টাই সফলতার মুখ দেখবে না।’

এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘স্বার্থান্বেষী মহল জনস্বার্থ মামলায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আর তাদের সহযোগিতা করছেন প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাই জনস্বার্থ মামলার সুফল পেতে হলে এসব দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। তবে আদালত অবমাননার মামলার বিপক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাউকে শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না’।

www.bbcsangbad24.com

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.