দেশ ও মানুষের কথা বলে

আশ্রয়ণ প্রকল্পে নয়ছয়

মার্চ ৩১, ২০২২,

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অসহায়, গৃহহীন, ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণেও চলছে হরদম দুর্নীতি। আশ্রয়হীন মানুষকে মাথা গোঁজার একটু স্থায়ী নিরাপদ ঠাঁই করে দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু কিছু লোভী, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অপকর্মে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারপ্রধানের এ মহৎ উদ্যোগ। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভাঙাচোরা ঘরের ছবি পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

এতে করে সরকারের যেমন সুনাম ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে, এদের দেখার কী কেউ নেই। এভাবেই চলছে, চলবে দেশ? কিছু ইউএনও আর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার লোভাতুর দৃষ্টিভঙ্গির কাছে হেরে যাবে সব?

এ প্রকল্পের শুরুতেই দেখা দিয়েছিল গলদ। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ নিয়ে শুরু হয় নয়ছয়। গত বছরের মাঝামাঝিতে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। সরকারি কাজে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের অবকাঠামো তৈরি করায় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।

এরমধ্যেই ২২টি জেলায় ৪৬টি উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণে দুর্নীতি ধরা পড়ে। দুর্নীতির অভিযোগে পাঁচ উপজেলার পাঁচজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। দেখা যায়, ২০০ ঘর নির্মাণে ব্যাপক ত্রুটি।

পরবর্তী ওই ঘরগুলো সরকার থেকে পুনরায় নির্মাণ করে দেয়া হয়। এতে করে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে সরকারের যে খরচ হওয়ার কথা এখন ওই ঘরগুলোতে খরচ বেশি হয়েছে। বর্তমানেও এর রেশ কাটেনি। অনেকে আশ্রয়ণের ঘরকে গরু রাখার গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বেশ কিছু জায়গায় ঘর পাওয়ার পরও অনেকে সেখানে থাকার জন্য যাননি। তারা দাবি করেছেন, এসব জায়গা নিচু এলাকা। বন্যার সময় পানি উঠে অনেক কষ্ট হয়, থাকা যায় না। ঘর তৈরির তদারকির সাথে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি জড়িত।

তবে শুধু ইউএনর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ায় অনেকেরই প্রশ্ন? জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এ অব্যবস্থাপনা কে থামবে।  প্রথম ধাপ ও দ্বিতীয় ধাপ শেষে এখন তৃতীয় ধাপে ঘর দেয়া হচ্ছে। যদিও ঘরগুলোতে বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি এর কাঠামো বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে এগুলো আগের চেয়ে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষে দেশের পৌনে ৯ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরাসরি প্রকল্প না নিয়ে তিনটি কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এ উদ্যোগ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি প্রকল্প’, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প’ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’ এই তিন প্রকল্পের অধীনে নির্মাণ করা হচ্ছিল ঘরগুলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারের জন্য সেমি-পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিটি বাড়িতে দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি ইউটিলিটি রুম, একটি বারান্দা ও একটি টয়লেট রয়েছে। প্রথম ধাপে ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে ও রঙিন টিনের ছাউনিওয়ালা ঘরগুলোর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো এক লাখ ৭০ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও)। তাদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন উপজেলা প্রকৌশলী, এসিল্যান্ড, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

তাদের পর্যবেক্ষণে প্রতিটি ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষা আসতেই অনেক ঘর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে। কারও বিরুদ্ধে তালিকা অনুযায়ী ঘর না দেয়ারও অভিযোগ উঠে সে সময়। বিষয়টি নিয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের মাঝে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক এই প্রকল্পে এরই মধ্যে চরম অনিয়মের অভিযোগে মাঠ প্রশাসনের পাঁচ কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত উপসচিব মো. শফিকুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের সাবেক ইউএনও) বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

ওএসডি করা বাকি চারজন হলেন— বরগুনার আমতলীর ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. লিয়াকত আলী শেখ (বগুড়ার শেরপুরের সাবেক ইউএনও), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত হায়াত (মুন্সীগঞ্জ সদরের সাবেক ইউএনও) ও মুন্সীগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মেসবাহ উল সাবেরিন। এর বাইরেও তদন্ত হয়েছে আরও অনেকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) মো. আনিছুর রহমান মিঞা পিএএ বিবিসি  সংবাদকে বলেন, ‘সবার বিষয়ে বলা সম্ভব নয়। এগুলোর জন্য শৃঙ্খলা কমিটি করে দেয়া হয়েছে, তদন্ত করে অভিযুক্ত হলে কারো হয়তো লঘু দণ্ড আবার কারো গুরু দণ্ড হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে যারা অনৈতিক কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ একটা চলমান প্রক্রিয়া।’ প্রশাসনের প্রতিটি সেক্টরে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানান অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) মো. আনিছুর রহমান। পৃথিবীর অনেক দেশেই এভাবেই প্রশাসনে কাজ করা হয়ে থাকে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সরকারি খাস জমির ওপর তৈরি করা হয়েছে। আয়তন ৪০০ বর্গফুট। প্রতিটি ঘরে আছে দুটি কামরা, রান্নাঘর, বারান্দা এবং টয়লেট। এ ছাড়া ১০টি ঘরের জন্য একটি করে গভীর নলকূপ। সেমিপাকা এই ঘরগুলোর প্রতিটি তৈরি করতে প্রথম পর্যায়ে খরচ হয়েছে এক  লাখ ৭১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে খরচ হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পর্যায়ে দুই লাখ টাকা পরবর্তীতে আরও ৬৯ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ে।

প্রতিটি পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ এই ঘর দেয়া হয়। নির্দেশনায় বলা আছে— কাঠ, টিন, ইট, বালু, সিমেন্টের গুণগত মান ও সংশোধিত নকশা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থায়ই উপকারভোগীর কাছ থেকে পরিবহন বা অন্য কোনো খরচের অর্থ নেয়া যাবে না। এরপরও অধিক লাভের আশায় ঘর নির্মাণের প্রতিটি ধাপে নয়ছয়ের মাধ্যমে লুটপাট করা হচ্ছে।

প্রকল্পের বিভিন্ন ঘরের দেয়াল ও মেঝে থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের চালার বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ে, বিছানাপত্র সব ভিজে যায়, ঘরের ভেতরে পানি জমে, জানালা-দরজা সব নড়বড়ে বলেও জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগীরা। তড়িঘরি করে ড্রেজার দিয়ে জমির মাঝ অংশটি ভরাট করে।

আশপাশ থেকে চারদিক মাটি ভরাট করা হয়েছে। যার ফলে ড্রেজারের মাটির সাথে জমির চারদিকের মাটির সমন্বয় ঘটেনি, তাই মাটি ধসে পড়েছে। তা ছাড়া নিম্নমানের ইট, রড ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। একই সাথে পরিমাণে কম সিমেন্ট ও বালুর পরিমাণ বেশি থাকায় পলেস্তারা খসে পড়ছে। ইটের গাঁথুনি কম থাকায় দেয়ালে ফাটল ধরেছে। যেকোনো সময় আবারো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অনেকের অভিযোগ।

নীতিমালায় যা আছে : অনুচ্ছেদ-৬ অনুযায়ী, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য পাকা-সেমিপাকা ব্যারাক নির্মাণ এবং যার ১-১০ শতাংশ জমির সংস্থান আছে, কিন্তু ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ করা হবে। এ পুনর্বাসনে সরকারি খাস জমি ব্যবহার করা হবে।

অনুচ্ছেদ ৫ (ক) ও (খ)-এ বর্ণিত— উপকারভোগী ছাড়া অন্য কেউ তালিকাভুক্ত হলে আশ্রয়ণ সম্পর্কিত জেলা টাস্কফোর্স যাচাই-বাছাই করে সংশোধিত তালিকা অনুমোদনের জন্য প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠাবে। নীতিমালায় আরও বলা আছে, অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে।

কাজ শেষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে সাত দিনের মধ্যে সচিত্র সমাপ্তি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর পাঠাবে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক হিসেবে উপকারভোগী পরিবারের লোকজনকে অগ্রাধিকার দেয়া যাবে। ১৯৮৮ সালের বন্যার বিপদসীমার উপর পর্যন্ত মাটি ভরাট করে অনুমোদিত নকশা মোতাবেক ভিটি প্রস্তুত নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি প্রকল্পগুলোতে নয়ছয় এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অন্যায় করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে, তাহলে পরবর্তীতে দুর্নীতি থাকবে না। তারা আরও বলেছেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই প্রকল্পের সাথে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমর্যাদা জড়িত। এটাকে যারা কলুষিত করেছেন তাদের মুখোশ উন্মোচন করা উচিত। এতে প্রশাসনে কর্মরত আমলাদের ইমেজও উজ্জ্বল হবে।

তৃতীয় ধাপে আরও ৬৫ হাজার পরিবার পাচ্ছে উপহারের ঘর: তৃতীয় ধাপে আরও ৬৫ হাজার ৪৭৪টি পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। ঈদুল ফিতরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘর হস্তান্তর করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তুলনায় তৃতীয় ধাপে কাঠামোতে আসছে বেশ পরিবর্তন। বাড়ানো হয়েছে ব্যয়।

যে কারণে ঘরগুলো মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের এরই মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে এক লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি ঘর দেয়া হয়েছে। দুই শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর করে দেয়া হয়েছে তাদের। এর সঙ্গে রান্নাঘর ও টয়লেট ছিল।আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন ও শাক-সবজি চাষেরও জায়গা ছিল।

তবে এসব ঘরে এর মধ্যে বেশকিছু ত্রুটি পেয়েছে সরকার। কোথাও দেয়াল ফেটে যাওয়া, ধস বা মাটি দেবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। যেসব কারণে ত্রুটি হয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে তৃতীয় ধাপে সমাধান করেই নির্মাণ করা হচ্ছে ঘর। যার কারণে ব্যয়ও বেড়েছে আগের তুলনায় ৬৯ হাজার টাকা।

তৃতীয় ধাপে ঘরপ্রতি বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার টাকা। অবকাঠামো নির্মাণেও এসেছে পরিবর্তন। আগে ইটের ভিত ও কলাম ছিল। শুধু জানালা ও দরজায় লিন্টেল ছিল। এবার আরসিসি ঢালাইয়ের ওপর গ্রেট ভিম ও কলাম দেয়া হয়েছে। পুরো ঘরে লিন্টেল দেয়া হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চলতি অর্থবছর আশ্রয়ণ প্রকল্পে এক লাখ ৮২ হাজার ৮০৩টি পরিবার ঘর পাবে। এতে তিন হাজার ৯৭১ কোটি ছয় লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন তৃতীয় ধাপের কাজ চলছে। এতে ৬৫ হাজার ৪৭৪টি পরিবার পাবে ঘর। চরাঞ্চলের জন্য করা হয়েছে ভূমিকম্প সহনীয় বিশেষ ডিজাইন। তৃতীয় ধাপে চরে এক হাজার ৪২টি ঘর নির্মাণ হচ্ছে।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.