দেশ ও মানুষের কথা বলে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার ক্যান্টিনে কোটি টাকা লোপাট

এপ্রিল,০১,২০২২

লাইলি রহমান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নতুন কারাগারটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত যতজন জেলার এই জেলখানায় এসেছেন , বন্দীদের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান জেলার মোঃ দিদারুল আলমের মতো দুর্নীতিবাজ জেলার এই জেলখানায় আসেনি । তার অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে পাওয়া যায় , তিনি একজন ঘোর বিএনপিপন্থী সরকার বিরোধী লোক । জেলখানার অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি বিএনপি জামাত কর্মী দের দিয়ে করিয়ে থাকেন । যিনি সকল সময় সরকারের বিষোদাগার মূলক ও অশ্লীল কথাবার্তা কয়েদি ও হাজতিদের সামনে বলে থাকেন । আরো জানা যায় , ফেনী জেলা কারাগারে থাকা কালিন মহিলা কারারক্ষীর সাথে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষণের অভিযোগে তাকে তাৎক্ষণিক খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয় ।
বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ এর অংশ হিসেবে , দেশের সকল কারাগারে বন্দীদের ইচ্ছানুযায়ী কেনাকাটার জন্য কেন প্রতিষ্ঠা করা হয় । প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রত্যেক জেলখানায় একটি বাহির ক্যান্টিন এবং ভিতর ক্যান্টিন দেওয়া হয় । যা বন্দীদের টাকায় পরিচালিত হয় । কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে এর ব্যতিক্রম চিত্র ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের এই ক্যান্টিনে খাদ্যদ্রব্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উচ্চমূল্যের কারণে বন্দিরা দিশেহারা । যা দেখার কেউ নেই । আর এরই মাঝে জেলারসহ কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নামমাত্র বিক্রয় দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় ।
অভিযোগের সত্যতা জানতে গিয়ে পাওয়া যায় তেল ছাড়া শক্ত পরোটা আট টাকা করে প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় দুই হাজার পিস ,

চা তিনবেলা বিক্রি হয় প্রায় তিন হাজার কাপ । দুপুরে ফার্মের বয়লার মুরগি প্রতি এক পিস আশি টাকা দরে বিক্রি করা হয় । যা হিসেবে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি প্রায় এক হাজার টাকা পড়ে । নলা মাছের এক টুকরো মাছ বিক্রি হয় সত্তুর টাকা । যা কেজি হিসেবে প্রায় সাত শত টাকা । রান্না করা ডিম ঝোল মিশ্রিত একটি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয় । যাতে এক হালি ডিম ১৪০ টাকা মূলধারে বিক্রয় করা হয়। রান্না করা গরুর মাংস চৌদ্দশ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় । জেলার স্যার এর পানি মিশ্রিত গরুর তরল দুধ ১২০ টাকা কেজি দরে । স্বাধহীন প্যাকেট নুডুলস রান্নার পর বিক্রি হয় একশত টাকা দরে । বিকেলে নিম্নমানের ভাজি বিক্রি করা হয় যার বাজার মূল্য সর্বোচ্চ দশ টাকা তা জেলখানায় কিনতে হয় ৫০ টাকায় । পেঁয়াজ ১ কেজি ৮০ টাকা , টমেটো ১ কেজি ,৮০ টাকা , কাঁচামরিচ দুইশত টাকা কেজি , নরমাল খেজুর ১ কেজি ২৫০ টাকা , একজনের নরমাল স্পঞ্জের স্যান্ডেল একশত টাকা , নর্মাল একটি টুপি একশত টাকা , নরমাল আতর ১১০ টাকা , নর্মাল একটি প্লাস্টিকের প্লেট বাহিরে বাজারে ৩০ টাকা জেলখানায় কিনতে হয় ৭০ টাকা , ছোট একটি পানির মত বাহিরে ২৫ টাকা জেলখানা ৬০ টাকা , ২০ টাকার একটি মেলামাইনের নরমাল চামচ জেলখানায় ৫০ টাকা , বাহিরে ১৪০ টাকার মিষ্টি না জেলখানায় ৩শত টাকা , একটি মেসওয়াক ৩৫ টাকা , একটি ব্রাশ ৫০ টাকা , হলিউড সিগারেট ৯৫ , স্টার ১৪০ , গোল্ডলিফ ২২০ টাকা বিক্রি করা হয় । কেনটিনে বিকৃত সকল মূল্য দ্বিগুণ তিনগুণ চার গুণ দামের বিক্রি হয় ।

তবে হাজতিদের সাথে কথা বলে জানা যায় ভেতরে বিক্রয় কৃত বেশিরভাগ পণ্যই নকল ।
আরো জানা যায় কেন্দ্রটিতে প্রায় মুনাফা হয় প্রতিদিন গড়ে দুই লক্ষ টাকা । তাহলে প্রশ্ন থাকে যে এই লভ্যাংশের টাকা জেলখানা কোন খাতে খরচ করা হয় ।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মুহাম্মদ দিদারুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি উচ্চমূল্যের কথা অস্বীকার করেন । (চলমান-২)

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.