দেশ ও মানুষের কথা বলে

কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে বৈসাবী উৎসব শুরু

এপ্রিল ১২, ২০২২,

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী বিজু বৈসু সাংগ্রাই তথা বৈসাবি উৎসব শুরু হয়েছে। এবার উৎসব ঘিরে পাহাড় জুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।

সোমবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব। সকাল থেকে পাহাড়ী নারীরা বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ নিয়ে একে একে চলে আসে কাপ্তাই হ্রদের নৌ ঘাটে। আর্শিবাদ প্রার্থনা করে পুরনো বছরের সব ময়লা, পাপ, আপদ, বিপদ, গ্লানি, ব্যর্থতা ধুয়ে মুছে ফেলতে পানিতে ভাসানো হয় ফুল। এর মধ্যদিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানানো হয়, নতুন বছরে সবক্ষেত্রে পরিপূর্ণরূপে অর্জন ও শুভ-মঙ্গলের। সৃষ্টিকর্তার কাছে এমন প্রার্থনা জানিয়ে উৎসবের প্রথম দিন কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করেন।

সকালে শহরের গর্জনতলী এলাকায় গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্য ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসবের উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী। এসময় জেলা পরিষদ সদস্য বিপুল ত্রিপুরাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে রাঙ্গামাটি রাজবাড়ী ঘাটে বৈসাসী উদযাপন কমিটি উদ্যোগে ভোরে গ্রামের তরুন তরুনীরা ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে তিন দিন উৎসবের সূচনা করা হয়। বৈসুক উৎসবের উদ্বোধন করেন, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় সাবেক উপসচিব প্রকৃত রঞ্জন চাকমা, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থত ছিলেন।

এ উপলক্ষে পাহাড়িদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, বয়স্ক স্নান, বস্ত্র বিতরণ বলি খেলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিহু, বিষু ও সাংক্রান উৎসব উপলক্ষে দূরদুরান্তে অবস্থানরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠির মানুষগুলো পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ উদযাপনের জন্য শহরে গ্রামে চলে এসেছেন।

রাঙ্গামাটি, বিজু, বৈসু, সাংগ্রাইং-২০২২ উদযাপন কমিটি সদস্য সচিব ইন্টু মনি চাকমা জানান, করোনার কারণে গত দুই বছর উৎসব না করলেও রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় এবছর উৎসবের উচ্ছ্বাস বয়ে যাচ্ছে। এই ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়েই শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর তিন দিনব্যাপী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু। আগামীকাল মঙ্গলবার মূল বিজু পালিত হয়। বুধবার গোজ্যেপোজ্যে দিন পালিত হবে যার যার ঘরে।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, গতবছর করোনার নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে বৈসাবী উৎসব পালন করা হয়নি। যার যার ঘরে ঘরে স্বল্প পরিসরে এই উৎসব পালন করা হয়েছে। তবে এবার নিষেধাজ্ঞা না থাকার কারণে মানুষের মাঝে আনন্দ উচ্ছাসে অন্তর ছুয়ে গেছে। বৈসাবি উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়কে এক করে দিয়েছে। এটাই হলো বাংলাদেশের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য্য। পাহাড়ে সকল সম্প্রদায়ের এ যেন মিলন মেলা।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব বৈসাবী উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই সামাজিক উৎসব ঐতিহ্যপূর্ণ। আমরা শত বছর ধরে এই উৎসব পালন করে আসছি। এই উৎসবের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হবে।

বৈসাবীর উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এই তিনদিনে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকবে পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। আগামীকাল মুল বিজুর উৎসব পালন করবে পাহাড়ের জনগোষ্ঠী। ঐতিহ্যবাহী পাঁজন রান্না করে অতিথি আপ্পায়নের মধ্যদিয়ে মুল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ১৬ এপ্রিল সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্যদিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.