দেশ ও মানুষের কথা বলে

বিচারের বানী নিভৃত্তে কাঁদে, ২ সন্তানের জননী অসহায় মুক্তার কান্না দেখার কেউ নেই

মে,০৮,২০২২

বিবিসি সংবাদ ডেস্ক:

স্বামী নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকার আশায় ঘর বেঁধেছিলো ২ সন্তানের জননী মুক্তার আক্তার (২৯)। ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ২০১২ ইং সালের ৪ জানুয়ারী মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ি উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নের ডুলিহাটা গ্রামের নুর হোসেন মাদবরের মেয়ে মুক্তার আক্তার কে বিবাহ দেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পুর্ব দেওভোগ গ্রামের মৃত একিন আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫) এর নিকট ২ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করিয়া। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করিয়া বিয়ের সময় নগদ ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দেন । ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণলংকার ও আসবাবপত্র বাবদ দেড় লক্ষ টাকা দেন মুক্তার বাবা নুর হোসেন । বেশ কয়েক মাস সুখেই যাচ্ছিল দাম্পত্য জীবন। এরপর একদিন ১৩/১০/২০১৭ইং তারিখে মুক্তার স্বামী মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন আবারো ২ লক্ষ টাকা দাবী করে মুক্তার কাছে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয় আর বলে টাকা ছাড়া যেন আর বাড়িতে না আসে তখন মুক্তা বেগম নিরুপায় হয়ে ১ কন্যা সন্তান মিসকাতুন জান্নাত কে নিয়ে বাবার এসে আশ্রয় নেয়। বাবা নুর হোসেন অনেক কষ্টে আবারো ২ লক্ষা দিয়ে মেয়েকে স্বামীর বাড়ি পাঠায় পরবর্তীতে আবার মুক্তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয় মুনতাসির মাহমুদ। আবার শুরু তাহা উপর অত্যাচার, একপর্যায়ে মুক্তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে ২ সন্তানসহ বের করে দেয় স্বামী মিজানুর রহমান। মুক্তার তাহার বাবার বাড়িতে অতি কষ্টে দিনযাপন করতে থাকে একপর্যায়ে কোন রকম সুরাহা না পেয়ে মুন্সীগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ১ বরাবর যৌতুক আইনের ৪ ধারা মোতাবেক একটি সি আর মামলা দায়ের করেন যাহানং ৪০৫/২০১৭ইং। মামলা চলমান অবস্থায় স্থানীয়ভাবে আপোষ মিামংসা করে এলাকার লোকজন মুক্তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠালে স্বামী মিজানুর রহমান ও ভাসুর শহিদুল্লাহ তাকে বেদম প্রহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আইনী পরামর্শ মোতাবেক স্বামী ও ভাসুরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আইনে মুন্সীগঞ্জ কোর্ট এ মামলা দায়ের করেন যাহানং ২১০/২০১৮। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন আছে। এভাবে স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে আইনী প্রচেষ্টা করেও কোন কাজ হয়নী। তার মিজানুর রহমান একজন সরকারী কর্মচারী সে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়ন ভুমি অফিসের একজন অফিস সহায়ক। তাঁর খুটির অনেক জোর কারন উদ্দর্তন প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। মিজানুর রহমান অবৈধভাবে অনেক টাকার মালিক হওয়ায় সে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে মামলার তোয়াক্কা না করে। অসহায় মুক্তা ও তার ২ সন্তানকে রেখে আবারো সে গত ২১/০৪/২০২২ইং একই এলাকায় শেখ বাড়িতে ভাড়াটিয়া আঃ রব শেখের তালাকপ্রাপ্ত মেয়ে লিজা আক্তার (২৭) বিয়ে করেন।

এবিষয়ে মুক্তা আক্তার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল এর নিকট একটি আবেদন করেছেন ন্যায় বিচার দাবী করে। আবেদনটি আমলে নিয়েছেন জেলা প্রশাসক এবং খুব ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন এমন তথ্য মুক্তার আক্তার জানায়।

আর এদিকে তার প্রথম স্ত্রী ২ সন্তানের জননী মুক্তার আক্তার বিচারের বানী নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ন্যায় বিচারের আশায়। কিন্তু তার কান্না দেখার কেউ নেই।

( চলমান)

www.

Leave A Reply

Your email address will not be published.