দেশ ও মানুষের কথা বলে

“অপূর্ণ প্রত্যাশা”

সেপ্টেম্বর,১২,২০২২

“সুলেখা আক্তার শান্তা”

বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি এসে মানুষ সুখ করে আর আমি এসে আগুনে জ্বলছি। রান্না বসিয়ে
চুলের আগুনের দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলছিল মায়া। নারী জীবনের মর্মান্তিক সংকট তার
সামনে। তার স্বামী ইমরান পরনারীতে আসক্ত। স্বামী ভালোবাসে বড় ভাসুরের শালী মিতুকে।
বিয়ের পরও তারা সেই সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। সম্পর্ক যদি এতই মধুর লাগে তাহলে আমাকে
বিয়ে করার কী দরকার ছিল? বিয়ে করে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করছে আমাকে। সংসারের সুখ
বিষের কাঁটা হয়ে ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে হৃদয়কে। শ্বশুর শাশুড়ি আমাকে পছন্দ করে ছেলের
বউ করে আনছে। তাঁদের সেই সম্মান ধরে রাখতে চাই। দেখি কত জ্বালান জ্বালাইতে পারে।
নামে মাত্রই স্বামী। সুখ দুঃখের কথা তো দূরে থাক প্রয়োজনীয় সংসারিক কথাও তার সঙ্গে হয়
না। কথা বলতেও ইচ্ছা করে না।
মিতু অধিকাংশ সময় বোনের বাড়ি এসে থাকে। সে নাকি ইমরানকে না দেখে থাকতে পারে না।
ইমরানের বউ ছেলে মেয়ে আছে তাতে মিতুর কিছু যায় আসে না। তারপরও সে ইমরানের
জীবন সঙ্গী হতে চায়। মায়া চোখের সামনে স্বামীর লীলা খেলা দেখে। মিতু ইচ্ছা করেই
ইমরানের সঙ্গে বেশি করে রংঢং করে।
মায়া অসহায়। একদিন খেতে বসে স্বামীকে বলেন, দেখো এক জীবনে মানুষ সবকিছু পায় না।
যা নসিবে নাই তা নিয়ে কী হবে আফসোস করে! এখন ছেলে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সব
সবকিছু ভুলে যাও। ইমরান বলেন, জ্ঞান দিবিনা। খাইতে বইসা এসব শুনাইয়া খাওয়াটা নষ্ট
দিলি। খাওয়াটা শান্তিতে খাইতে দিবি না বলে, খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়ে।
মায়া অনুনয় করে খাওয়া রাইখা কই যান?
খাইতে আর দিলি কই? খাইতে দিয়া যে বকবকানি শুরু করছিস। ঘর থেকে বের হয়ে যায়
ইমরান।
মায়া অন্তর্দ্বন্দ্বে দগ্ধ হতে থাকে। নারীত্বের চরম অপমানে ক্ষোভে দুঃখে পাথর হয়ে যায়। অসহায়
হয়ে ভাবে, স্বামীকে যখন ফিরাতেই পারলাম না তখন যা ইচ্ছা তাই করুক। সে বাচ্চাদের নিয়ে
পড়ে থাকবে।
বড় ছেলে শাহিন ভালো মন্দ কিছুটা বুঝতে শিখেছে। মায়ের মনকষ্ট সে অনুভব করে। একদিন
মিতুকে গিয়ে বলে, আপনি আমাদের বাড়ি থাকবেন না। এই বাড়ি থেকে চলে যান। এই কথা সে
ইমরানের কাছে বিচার দেয়। তোমার ছেলে আমাকে এই বাড়ি থেকে চলে যেতে বলছে।
ইমরানের মাথায় আগুন ধরে যায়। ছেলেকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই বেদম মার শুরু করে।
মায়া বলেন, ছেলেকে তুমি আর মেরো না। মায়া স্বামীর কাছ থেকে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন।

ইমরান বলেন, ছেলে একটা বেয়াদব বানাইছো। বড়দের সাথে বেয়াদবি করে! ছেলে বিছানায়
শোয়ার পর মায়া দেখে মারের চোটে ছেলের পিঠে লাল দাগ ফুলে ফুলে উঠেছে। সে কেঁদে বলেন,
তুই এসব বলতে গিলে কেন?
বলবো না ওই মহিলা এখানে থাকে কেন? তুমি কষ্ট পাও আমি বুঝিনা!
মায়া ছেলের কথা শুনে চুপ করে থাকেন। ভাবে, স্বামী তার বোধ শক্তি হারিয়ে ফেলছে না হলে
এক মহিলার কথায় নিজের সন্তানকে এভাবে মারে।
ইমরান ছেলেকে মারার পর অনুতপ্ত হয়। ভাবে, আমি এটা কী করলাম! বিবেকহীনের মতো
আদরের ছেলে গায়ে হাত তুললাম। নিষ্ঠুর কাণ্ডে অনুশোচনায় ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে তার মন।
প্রতিজ্ঞা করে যে করেই হোক মিতুকে ভুলে যাবে সে। তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বউ বাচ্চাদের
আর কষ্ট দিতে চায় না। সে স্ত্রীর সন্তানের কাছে আসে। ছেলে কাছে বসলে বাবার কাছ থেকে মুখ
ফিরিয়ে নেয় শাহীন। ইমরান তা বুঝতে পারেন অভিমানে ছেলে তার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে
রেখেছে। সে স্ত্রী মায়ার হাত ধরে বলেন, মায়া তুমি আমাকে মাফ করে দাও। আমি যা করেছি
ভুল করেছি। এখন থেকে আমার কাছে স্ত্রী সন্তান ছাড়া আর কেউ আপন না। মুহূর্তে মায়ার
অভিমানের বাঁধ ভেঙে দু চোখ প্লাবিত হয়। বলেন, তুমি সত্যি বলছো?
হ্যাঁ আমি সত্যি বলছি। আমার পৃথিবী শুধু আমার স্ত্রী সন্তান নিয়ে। এখানে আর কারো প্রবেশ
অধিকার নাই। ইমরান মিতুর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকে কিন্তু মিতু ইমরানের পিছু ছাড়ে না।
ইমরান মিতুকে বুঝায়, তুমি বিয়ে করে ঘর সংসারী হও। এতে তোমারো মঙ্গল আমারও মঙ্গল।
একটা মেয়ে স্বামীর ঘরে আসে অনেক আশা ভরসা নিয়ে। স্বামী হিসেবে আমি মায়াকে কোন সুখ
দিতে পারিনি। ওর সঙ্গে ভালো পাঁচটা কথাও বলিনি। এখন আমি আর ওকে স্বামীর অধিকার
থেকে বঞ্চিত করতে চাই না।
মিতু বলে, আমাকে তোমার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাও?
তোমার সঙ্গে তো আমার কোন বন্ধন নাই। সেখানে বঞ্চিত আর অবঞ্চিতের কী আছে? আমার
বউ আছে বাচ্চা আছে।
তুমি তোমার স্ত্রীকে ছেড়ে দাও!
কী বললে তুমি! আমি আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দেবো? এত বড় অমানুষ হতে বলছো আমাকে?
তোমার আমার আর দেখা না হয়ই ভালো।
যাক তোমাকে আমি ইহজনমে না পেলেও পরজনমে যেন পাই।
ইমরান বলেন, না। এই পুরীতে মায়া আমার স্ত্রী হয়ে আছে ওই পুরীতে মায়াই থাকবে।
একথা শুন মিতু দগ্ধ হচ্ছিল হিংসায়। সে বলে, তুমি যদি সংসারী হতে পারো আমি কেন পারব
না?
তুমি সংসারী হও এটা আমি চাই। মিতু চলে যায়। সে বিয়ে করে সংসারী হয়।
ইমরান মায়ার সংসারে শান্তি ফিরে আসে। ছেলে মেয়ে নিয়ে তাদের দিন সুখে কাটতে থাকে।
ইমরান সংসার স্ত্রী সন্তানের প্রতি যে অবহেলা করেছিল তার আমূল পরিবর্তন ঘটে।  এখন সে
অনেক দায়িত্ববান স্বামী এবং পিতা হয়ে থাকতে চায়। তার হৃদয়ের পূর্ণ ভালোবাসা স্ত্রী সন্তানের
জন্য। মায়ার জীবনে নিরবিচ্ছিন্ন সুখ যখন দেখা দিতে শুরু করেছে তখন ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।
মায়া মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। ইমরান স্ত্রীর যথাসাধ্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করে কিন্তু
তাতে উন্নতির কোন লক্ষণ দেখা যায় না। দিনে দিনে মায়ার অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
মায়া স্বামীকে বলেন, পৃথিবীতে আমার আর সময় নাই। তুমি আমার জন্য অনেক করছো। স্বামী
হিসেবে আমার জন্য কোন কিছুতে ত্রুটি রাখোনি। স্বামীর হাত ধরে মিনতি করে বলেন, ছেলে
মেয়েদের দেখে রেখো। ওরা যেন কষ্ট না পায়। অশ্রু সজল চোখে বলেন, কোন অন্যায় করে
থাকলে মাফ করে দিও। ইমরান স্ত্রীকে সাহস দেন, তোমার কিছু হবে না। মৃত্যু যদি আসে
তোমার আগে যেন আমার মৃত্যু হয়। ইমরানের মুখে হাত দিয়ে কথা আটকে দেন মায়া। আল্লাহ
তোমাকে সুস্থ শরীরে বাঁচিয়ে রাখুক এই কামনা করি। ধীরে ধীরে মায়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
কলমা পড়ে নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ছেলে মেয়ের হৃদয়বিদারী কান্নায় শোকাবহ হয়ে ওঠে
পরিবেশ।  ইমরানের স্ত্রীর জন্য বুক ফেটে যায় কিন্তু বাইরে প্রকাশ করে না। ছেলে মেয়েকে বুকে
জড়িয়ে ধরে হৃদয়ের আগুন নিভাতে চেষ্টা করে। ইমরান ভাবে, কিভাবে সে ছেলেমেয়ে নিয়ে
জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিবে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয় সে আর কখনো বিয়ে করবে
না। জীবন চলার পথে সুখ দুঃখ যা আছে ছেলে মেয়েকে বুকে আগলে পাড়ি দেবে সে পথ।

মিতু দেখা করে ইমরানের সঙ্গে। ইমরানকে বলেন, বিয়ে করছিলাম সুখ কপালে সইল না। স্বামী
অকালেই মারা গেল। তোমার স্ত্রী নাই আমার স্বামী নাই। এখন তো আর কোন বাধা নেই তুমি
আমাকে বিয়ে করো?
ইমরান বলেন, না আমি আর বিয়ে কথা ভাবি না।
তুমি কাউকে না কাউকে তো বিয়ে করবে? তাহলে আমাকে বিয়ে করলে সমস্যা কোথায়?
কোন সমস্যা নাই কিন্তু আমি আর বিয়ে করব না। আমার ছেলে মেয়েকে বুকে আগলে বাকি
জীবনটা পারি করতে চাই।
আমার সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করলে আরেকজনকে। এখন তো তার প্রতিদান দিতে পারো। এখন
তো তোমার জীবনে কেউ নেই তাহলে আমাকে গ্রহণ করতে তোমার বাধা কোথায়? না আছে
তোমার স্ত্রী না আছে আমার স্বামী। বাঁধন হারা দুটি জীবন চলো নতুন বন্ধনে চলা শুরু করি।
আমার স্ত্রীর স্মৃতি আর ছেলে মেয়ের ভালোবাসা নিয়েই থাকতে চাই। ভালোবাসি আমি ওদের।
সেখানে চাইনা কাউকে ঠাই দিতে।
মিতু বলে, তোমার স্ত্রীকে ভালবাসতে! আমার জন্য কী তোমার বিন্দুমাত্র ভালোবাসা নাই।
সবার জন্য করার থাকলেও আমার জন্য তোমার করার কিছু নাই?

মিতু তুমি চলে যাও। আমার ছেলে মেয়ের মাও আমি বাবাও আমি। এটাই আমার সাধনা।
আমার সাধনা ভঙ্গ করতে এসো না। মিতু দেখে সে পারবে না ইমরানকে তার প্রতিজ্ঞা থেকে
বিচ্যুত করতে। থাকো তুমি তোমার ইচ্ছে নিয়ে আমি চলে যাচ্ছি। ইমরান কোন কথা বলেন না।
মিতু চলে যায়।
ইমরান নিজ হাতে সংসারের সব কাজ করে। কোন ক্লান্তি যেন তাকে কাবু করতে পারেনা।
ছেলেমেয়েরাও তার বাবাকে চোখের আড়াল করতে চায় না। বাবা কাজে কোথাও বাহিরে গেলে
অস্থির হয়ে যায় তারা। ইমরানেরও ভালো লাগে ছেলে মেয়েরা তাকে কাছে পেতে চায়। যেখানে
যায় খালি হাতে আসে না কিছু না কিছু নিয়ে আসে ছেলে মেয়েদের জন্য। ছেলে মেয়েদের খুশি
দেখে মনটা ভরে ওঠে তার। ইমরানের প্রাণান্ত পরিশ্রম দেখে বাড়ির লোকজন বলেন, তুই একটা
বিয়ে কর। পুরুষ মানুষ কী এভাবে ঘর বাহির দুটোই সামাল দিতে পারে?
ইমরান হেসে বলে, সংসার তো ভালোই চলছে আর আমিও তো বেশ ভালোই আছি।
ইমরানের বড় ভাই দবির বলেন, তুই বিয়ে কর।
না আমি আর বিয়ে করব না।
এভাবে চোখের সামনে কষ্ট দেখা যায়। ঘর বাহির সবই তো তোকে সামলাতে হচ্ছে। চিরদিন
তো আর এই শক্তি সামর্থ্য থাকবে না। শেষ বয়সে তোকে দেখবে কে? অত চিন্তা ভাবনার
দরকার নাই তুই বিয়েতে মত দে।
ইমরান বড় ভাইকে বলেন, বাইরের একজন আইসা আমার ছেলে মেয়েকে কষ্ট দিক এইটা আমি
সহ্য করতে পারবো না। আমার ছেলে মেয়ের জন্য যদি আমার আরো কষ্ট করতে হয় আমি তাও
করব। কেউ এসে আমার ছেলে মেয়ে দিকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকাবে এটা আমি সহ্য করতে পারবো
না।
থাক তোর যেমন থাকতে ইচ্ছা করে। বড় ভাই হিসেবে বলা উচিত ছিল তাই বললাম। ছেলে
মেয়ে তোকে কত দেখবে যদি বেঁচে থাকি তাহলে তো দেখাই যাইবে। মেয়ে মানুষের মতো ঘরের
কাজ করা পুরুষ মানুষের শোভা পায়না। ইমরান কোন কথা বলেনা। সে ব্যস্ত ছেলে মেয়ের
জন্য কী করতে হবে না করতে হবে তাই নিয়ে।

সময় গড়িয়ে চলে। সংসারের দায়িত্ব পালন করতে করতে কখন ছেলে মেয়ে বড় হয়ে যায় তা
ইমরান টের পায় না। সে একে একে দুই ছেলেকে বিয়ে করিয়ে দেন। মেয়েকেও বিয়ে দেন।
বিয়ের পর দুই ছেলে সাংসারিক ঘটনায় কথা কাটাকাটি করে আলাদা খাওয়া শুরু করে। বড়
ছেলের শাহীন ছোট ছেলে আসিফের এমন সিদ্ধান্তে ইমরান নীরব থাকে। এরপর শুরু হয়
বাবাকে নিয়ে ঠেলাঠেলি। বাবা ক্রমেই সংসারের বোঝা হয়ে উঠতে থাকে। ইমরান ছেলেদের
উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাকে নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না। আমার রান্নাবান্না আমি করে
খেতে পারব। তাও তোমরা সুখে থাকো। দুই ছেলের সংসারের ঠাই না হওয়ায় বড় ভাই দবির

কষ্ট পায়। ইমরান ছোট্ট একটি ঘর তুলে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করে নেয়। সেই ঘরে থাকেন
নিজ রান্না করে খায়। দবির ভাতিজা শাহীন আর আসিফকে বলেন, তোদের বাবা তোদের
সুখের জন্য জীবনটা দিয়ে দিলো। তোদের মা মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করল না তোদের
কথা ভেবে। সেই বাবা তোদের সামনে আলাদা ঘরে পড়ে থাকে আলাদা রান্না করে খায়।
ঝুমা আর রুমা চাচা শ্বশুরকে মুখ বাঁকিয়ে বলে, আপনার ভাই কত ভালো মানুষ ছিল আমরা
সে কথা জানি। আমাদের কানে সে কথা এসেছে। ছোট ভাইয়ের পিছে আপনার শালীকে লেলিয়ে
দিয়েছিলেন। আমার শাশুড়ি কতই না কষ্ট পেয়েছে তাতে। এই কষ্টতেই আমার শাশুড়ির মৃত্যু
হয়েছে। দুই বউয়ের একই কথা। এখন এসেছেন আমার শ্বশুরকে দিয়া আমাদের সংসারে আগুন
ধরাইতে।
দবির হতাশা হয়ে বলেন, যাক তোমাদের যখন এই কথা তখন আমি কী বলবো? তোমাদের
সংসার নিয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না।
রুমা বলে, যে কথায় অশান্তিতে বাড়ে সে কথা না বললেই পারেন।
ইমরানের মেয়ে সোনিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে হাজির হয়। বাপের অশান্তির কথা শুনে বলে,
আমি কী বলব? না পারব বাবারে নিজের কাছে নিয়া রাখতে না পারব আইসা কয়দিন বাবার
খেদমত করতে। আমার স্বামী ব্যবসা করবে, সে ব্যবসার জন্য টাকা নিয়ে যেতে বলছে। যদি
টাকা নিয়া না যাই সে আমাকে নিয়ে সংসার করবে না।
দুই ভাই পরিষ্কার জানিয়ে দেয় সোনিয়াকে তারা টাকা পয়সা দিতে পারবে না। ইমরান মেয়ের
দুঃখের কথা শুনে জমি বেচে টাকা দেয়। এনিয়ে দুই ছেলের সঙ্গে খুব দ্বন্দ্ব হয়, মেয়েকে জমি
বিক্রি করে টাকা দিয়েছে। ইমরান বলেন, আমার জমি আমি বিক্রি করব সেটার কৈফিয়ত আমি
কারো কাছে দেবো না।
ঝুমা বলে, সেখানে তো আপনার দুই ছেলে অংশীদার, ছেলের অংশ না বুঝিয়ে দিয়ে জমি বিক্রি
করে মেয়ের টাকা দেন কিভাবে? কেমন বাপ আপনি এক সন্তানের জন্য দুই সন্তানের অমঙ্গল
চান!
হ্যাঁ বৌমা তোমরা ঠিকই বলছ। আমি বাবা, আমি সন্তানের ভালো মন্দ বুঝিনা। যত বুঝার
তোমরা সব বুঝো।
রুমা শ্বশুরের চরিত্রে অপবাদ দিয়ে বলে, জোয়ান কালে মেয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করে আমার
শাশুড়িকে রাখছেন জ্বালার পর জ্বালায়। এখন জ্বালাইতেছেন দুই ছেলেকে। এই জ্বালা থেকে দুই
ছেলেকে রক্ষা করেন।
ইমরানের বয়স কালে প্রেম ছিল। সেই প্রেম বাবা-মা না মেনে বিয়ে করিয়ে দেন অন্য মেয়েকে।
এক সময় বিবেক জাগ্রত হলো। ইমরান ঘরে স্ত্রী সন্তানের কথা ভেবে তার সাথে আর সম্পর্ক
রাখে না। বিবেকের সঙ্গে যুদ্ধ করে ফিরে আসলো সঠিক পথে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সারা জীবন
করল তার প্রায়শ্চিত্ত। সেই সম্পর্ক নিয়ে ছেলের বউয়ের কাছ থেকে অপবাদ শুনে মর্মে মরে

যায়। অসহায় বার্ধক্যে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অপবাদের মাথায় নিয়ে কাউকে কিছু না বলে
বাড়ি থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় একটা চিঠি লিখে যায় ছেলে মেয়ের মঙ্গল কামনা করে।
তারা যেন ভালো থাকে, বাবার জন্য যেন চিন্তা না করে। বিষয় সম্পত্তি কিছুই নিলাম না শুধু
নিলাম একটা ধারণা। বাবার প্রতি তোমাদের অশ্রদ্ধা বাবাকে যে কলঙ্কের কালি মেখে দিয়েছ
সেই অপবাদের বোঝা। সারা জীবন যা কঠোর ত্যাগ তিতিক্ষায় মুছে ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ
হয়েছি। নিয়তির কাছে কী জীবনের ভুলের ক্ষমা নাই।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.