সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

জুন,১৪,২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করেছে এবং বর্তমানে তিনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিশেষ বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রও বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেনজীর আহমেদকে আইনের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল আবেদনটি জমা দেওয়া হলে পরবর্তীতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

মন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের ওই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বেনজীর আহমেদকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানানো হয়। পরে গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখে আবুধাবিভিত্তিক এনসিবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো এক ই-মেইলে জানানো হয় যে, বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল দলিল ব্যবহার, অপরাধে সহায়তা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমন্বয়, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রেপ্তারের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে এনসিবি ঢাকা। অন্যদিকে, দুদক তার প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত নথি, মামলার কাগজপত্র এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ প্রয়োজনীয় দলিল প্রস্তুত করেছে।

তিনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব চূড়ান্ত করে কূটনৈতিক মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। এরপর আবুধাবির এনসিবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনাকে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, এই গ্রেপ্তার প্রমাণ করেছে যে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা পাবে না এবং অপরাধের অভিযোগ থাকলে তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার পথে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

www.bbcsangbad24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *