আগস্ট,০৪,২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পানি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীল দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ, পানিসম্পদ, নগর পরিকল্পনা ও প্রকৌশল খাতের গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকেরা এতে অংশ নেন।
সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, দেশের পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং পানি খাতের উন্নয়নে বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আলোচনায় খাল পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, নদী ও উপকূলীয় বেড়িবাঁধের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি, আধুনিক নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শিল্প ও গৃহস্থালির বর্জ্য পানি শোধনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফুটস্টেপস বাংলাদেশের নেতৃত্বে পরিবেশ, পানিসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর উন্নয়ন খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বিশেষজ্ঞরা পানিসম্পদ খাতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সেন্সরভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ পানি, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা দেশের মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যেসব বাস্তবসম্মত প্রস্তাব এসেছে, সরকার সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে এবং বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় নীতিনির্ধারণে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আবদুস সাত্তার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সচিব বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, প্রকৌশলী ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার ও বিশেষজ্ঞদের এই সরাসরি মতবিনিময় ভবিষ্যতে খাল পুনরুদ্ধার, নদী সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
www.bbcsangbad24.com



