মুন্সীগঞ্জের সিপাহীপাড়ায় পরিত্যক্ত ঘোষিত কা.ক.সপ্রাবি এখন এখন মাদকের অভয়ারণ্য

সেপ্টেম্বর,১৬,২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সিপাহীপাড়া মোড়ে অবস্থিত কাজী কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অতিঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনেও ভবনটি ভেঙে অপসারণ না করায় পরিত্যক্ত ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের ভবন ও আশপাশের স্থানটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনটির কারণে পাশের সিপাহীপাড়া নতুন জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজও ব্যাহত হচ্ছে। ভবনটি মসজিদের সীমানার পাশে থাকায় মসজিদের এক পাশের দেয়াল নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. কালাম ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা বিদ্যালয় ভবনটি ভেঙে অপসারণ করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ কারণে তারা কয়েক দফায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভবনটির কারণে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজও করতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনটি দ্রুত অপসারণ করা হলে একদিকে মাদকসেবীদের আনাগোনা বন্ধ হবে, অন্যদিকে মসজিদের উন্নয়ন কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। আমরা চাই, ঊর্ধ্বতন প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ভবনটি দ্রুত ভেঙে অপসারণের ব্যবস্থা করুক।”

স্থানীয়দের দাবি, পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বহুবার সংবাদ প্রকাশও হয়েছে কিন্তু উদ্দর্তন কতৃপক্ষের কোন রকম হস্তক্ষেপ নেয়নি।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সব সময় জিরো ট্রলারেন্স । আর উক্ত পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারনের ব্যাপারে সরেজমিনে গিয়ে তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

www.bbcsangbad24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *