অক্টোবর,০৯,২০২৬
বিবিসি সংবাদ ডেস্ক:
আসন্ন মীরকাদিম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে প্রচারণায় রয়েছেন পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনু। ইতোমধ্যে তিনি পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করছেন। নির্বাচনে সুযোগ পেলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব ও আধুনিক মীরকাদিম পৌরসভা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
২০০৪ সালের মীরকাদিম পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাফিজুল্লাহ মন্টু মাস্টারকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হোসেন রেনু। দায়িত্ব পালনকালে পৌরবাসীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নাগরিক সেবাকে সহজতর করার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন বলে জানান তিনি।
সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনুর দাবি, তার মেয়াদকালে জন্মনিবন্ধন ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজ ও সহনীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে নতুন রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং পুরোনো সড়ক সংস্কারের কাজও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কমলাঘাট ওসমানগণি ব্রিজটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে নিজ উদ্যোগে সংস্কার করে সেটি জনগণের চলাচলের উপযোগী করা হয়। বর্তমানে ওই সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাবেক মেয়রের কয়েকজন সমর্থক বলেন, মোহাম্মদ হোসেন রেনু মেয়র থাকাকালে মীরকাদিমে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ভূমিদখলের মতো কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের দাবি, সে সময় পৌরবাসী তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পেরেছেন। তাই তারা আবারও তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চান।
মোহাম্মদ হোসেন রেনু বলেন, “আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই মীরকাদিমবাসীর উন্নয়নে কাজ করে আসছি। এরশাদ সরকারের আমলে যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জর দায়িত্বকালীন সময়ে রামপাল-দিঘিরপাড় সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, “তৎকালীন সময়ে রিকাবীবাজার রামগোপালপুর মোড়ের ওই স্থাপনাগুলো অপসারণ এবং জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করেছি। সিপাহীপাড়া মোড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৮০ ফুট প্রশস্ত সড়কের বাস্তাবায়ন করি।
তিনি দাবি করেন, তার তত্ত্বাবধানে সিপাহীপাড়া থেকে মীরাপাড়া হয়ে ছৈয়ালবাড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে পুকুরের পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। পাশাপাশি মীরকাদিম পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান।
নিজে মেয়র থাকাকালীন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মোহাম্মদ হোসেন রেনু বলেন, “আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মীরকাদিম পৌরবাসীর জন্য যা যা উন্নয়ন করেছি, তা পৌরবাসীই ভালো জানেন। আমি কখনো জনগণের ওপর শাসন করতে চাইনি; বরং তাদের পাশে থেকে সেবা করার চেষ্টা করেছি।”
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক এই মেয়র বলেন, “মীরকাদিম পৌরসভার বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পৌরবাসীর প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এবং জনগণের ভালোবাসা ও সাড়া পেয়ে আবারও মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, মীরকাদিমবাসী যদি আমাকে পূর্ণ সমর্থন দেন, তাহলে তাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গড়ে তুলতে কাজ করব।”
www.bbcsangbad24.com



